বাজেট সীমিত থাকলে ব্যবহৃত ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কেনা যেতে পারে। একটু ভালোভাবে যাচাই করে নিলে সাধ্যের মধ্যে কাজের ধরনভেদে উপযুক্ত উইন্ডোজ কম্পিউটার পাওয়া সম্ভব। এর জন্য কেনার আগে কয়েকটি বিষয় আমলে নেয়া খুব জরুরি। কারণ পুরনো বা ব্যবহৃত কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা থাকতে পারে। ভবিষ্যতে সমস্যা এড়াতে ব্যাটারির স্থায়িত্ব, স্টোরেজ ড্রাইভ ও সামগ্রিক সিস্টেম পারফরম্যান্স ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিলে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি বাহ্যিক কোনো ত্রুটি রয়েছে কিনা তা দেখে নিতে হবে

ডিসপ্লে, কিবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাড যাচাই

ব্যবহৃত ল্যাপটপ কেনার সময় ডিসপ্লে, কিবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাড পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য। ডিসপ্লে পরীক্ষার জন্য স্ক্রিন টেস্টিং ওয়েবসাইটে গিয়ে ডেড পিক্সেল, রঙের পরিবর্তন, ঝলকানি, অসম আলো ও উজ্জ্বলতার সামঞ্জস্য যাচাই করা যাবে। কিবোর্ড পরীক্ষা করতে অনলাইন টেস্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। ট্র্যাকপ্যাড যাচাই করতে কার্সর সরিয়ে দেখে নিন, এটি মসৃণভাবে কাজ করছে কিনা।

ওয়েবক্যাম, মাইক্রোফোন ও স্পিকার যাচাই

ল্যাপটপ কেনার সময় ওয়েবক্যাম পরীক্ষা করতে ক্যামেরা অ্যাপ চালু করে ছবি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে কিনা, তা দেখে নিতে হবে। মাইক্রোফোন পরীক্ষা করতে সেটিংস>সিস্টেম>সাউন্ড-এ গিয়ে নিজের কণ্ঠ রেকর্ড করে শুনে নিন শব্দ স্পষ্ট আছে কিনা। স্পিকার যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষামূলক মিউজিক বাজিয়ে দেখা যেতে পারে। এছাড়া এইচডিএমআই, ইউএসবি, হেডফোন জ্যাকের মতো পোর্ট পরীক্ষা করতে বিভিন্ন ডিভাইস সংযোগ দিয়ে নিশ্চিত করুন যে সেগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কিনা।

র‍্যাম যাচাই

ত্রুটিপূর্ণ র‍্যাম কম্পিউটারের গতি অনেকটাই কমিয়ে দিতে যথেষ্ট। সেজন্য ব্যবহৃত কম্পিউটার কেনার আগে র‍্যামের কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, যা উইন্ডোজ মেমোরি ডায়াগনস্টিকস টুলের মাধ্যমে করা যেতে পারে। তবে পরীক্ষা করার আগে অবশ্যই কম্পিউটারের চলমান সব কার্যক্রম সেভ ও বন্ধ করতে হবে। এরপর ‘win+R’ প্রেস করলে রান ডায়ালগ বক্স দেখা যাবে। এরপর ডায়ালগ বক্সে ‘mdsched’ লিখে ‘Enter’ বাটন প্রেস করতে হবে। তখন নির্বাচন করতে হবে ‘রিস্টার্ট নাউ অ্যান্ড চেক ফর প্রবলেমস’। কম্পিউটার রিস্টার্ট নেয়ার পর ফলাফল দেখাবে।

হার্ড ড্রাইভ যাচাই

হার্ড ড্রাইভ সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। তবে কোনো সমস্যা থাকলে কম্পিউটারের গতি যেমন কমে যাবে, একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উইন্ডোজ কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। ক্রিস্টালডিস্কইনফোর মতো বিভিন্ন টুল পাওয়া যায়, যেগুলো ব্যবহার করে হার্ড ড্রাইভের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। হার্ড ড্রাইভের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা খুব জরুরি। তাপমাত্রা ৩০-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকা ভালো। তবে ৭০ ডিগ্রির বেশি হলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সিপিইউ ও জিপিইউ যাচাই

কাজের ধরন অনুযায়ী, কম্পিউটারের সিপিইউ ও জিপিইউ কতটা সক্ষম তা পরীক্ষা করা জরুরি। পরীক্ষা করতে ‘স্ট্রেস টেস্ট’ প্রয়োগ করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে হার্ডওয়্যার ঠিক কতটা সময় ধরে সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত কাজ করতে পারে তা জানা যায়। কম্পিউটার যদি যথেষ্ট সময় ধরে কাজ চালিয়ে যেতে পারে এবং ক্র্যাশ না করে, তাহলে বুঝতে হবে সিপিইউ ও জিপিইউ ভালো অবস্থায় রয়েছে। মেকইউজঅব অবলম্বনে