এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে যে ‘এজেন্টিক এআই’ নামের এক নতুন ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আগামী ১৮ মাসের মধ্যে তাদের ব্যবসায়িক মডেল বদলে দেবে। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং এজেন্টিক এআই টেকনোলজি অ্যাডাপশন ইন এশিয়া-প্যাসিফিক’ শিরোনামে আইডিসির ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির জরিপের অংশ। এতে ৩০০টি বিভিন্ন শিল্প খাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এজেন্টিক এআইয়ের গ্রহণযোগ্যতা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, প্রয়োগ ক্ষেত্র ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এজেন্টিক এআই সাধারণ জেনারেটিভ এআইয়ের (জেনএআই) চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। এটি শুধু কনটেন্ট তৈরি করে না। বরং সিদ্ধান্ত নিতে, কাজ সম্পন্ন করতে ও একাধিক এআই ‘এজেন্ট’ একসঙ্গে কাজ করে জটিল ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে সক্ষম। ফলে এটি সরাসরি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কাজে যুক্ত হয়ে অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি, গ্রাহকসেবা উন্নতকরণ ও আরো কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। সরলভাবে বললে, এজেন্টিক এআই হলো এমন এক স্মার্ট সহকারী, যা শুধু চিন্তা করে না, কাজও করে—যা প্রতিষ্ঠানকে আরো দ্রুত, আরো বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।

আইডিসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত কর্মক্ষমতা বাড়ানো, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ আরো উন্নত করা ও সিদ্ধান্তগ্রহণে সহায়তার জন্য এজেন্টিক এআই গ্রহণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, এটি শুধু প্রতিবেদন তৈরি করেই থেমে থাকে না, বরং সে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিজে থেকেই ব্যবস্থা নিতে পারে। যেমন অ্যালার্ট পাঠানো, সিস্টেম আপডেট করা কিংবা প্রচারণা শুরু করা।

তবে নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা এ প্রযুক্তির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। যেহেতু এজেন্টিক এআই অনেক ধরনের তথ্য (টেক্সট, ছবি, ভিডিও) একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে, তাই এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী ও নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা।

একদিকে এআই-নির্ভর সাইবার হামলা দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান এখনো এ ধরনের হুমকি প্রতিরোধে আলাদা কোনো কৌশল তৈরি করেনি। এমনটাই উঠে এসেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মাইমকাস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে। মাইমকাস্টের তথ্যানুযায়ী, ৯৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে তাদের বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা কৌশল ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সাইবার হামলার ধরন বদলে গেছে এবং এগুলো আরো উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে এআই ব্যবহার করে চালানো হামলা ও অভ্যন্তরীণ হুমকি এখন প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইডিসির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিগ ডাটা ও এআই গবেষণা বিভাগের প্রধান দীপিকা গিরি বলেন, ‘মাল্টি-এজেন্ট এআই সিস্টেমই ভবিষ্যতের বড় ঢেউ। তবে এটি কার্যকর করতে হলে ডায়নামিক ডাটা পাইপলাইন ও সুরক্ষিত অবকাঠামো অপরিহার্য।’

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, গ্রাহকসেবা খাত এজেন্টিক এআইয়ের সর্বপ্রথম ব্যবহারকারী হলেও দ্রুতগতিতে তথ্যপ্রযুক্তি পরিচালনা (আইটিওপিএস) এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএন্ডডি) ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ বাড়ছে। সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক থাকার জন্য এজেন্টিক এআইকে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ খাত হিসেবে বিবেচনা করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এর সাহায্যে দ্রুততা, বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।