ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি হলো এমন এক প্রযুক্তি, যেখানে বিভিন্ন দৈনন্দিন যন্ত্র যেমন ফ্রিজ, ঘড়ি, গাড়ি, লাইট, ক্যামেরা এমনকি চাষাবাদের যন্ত্রপাতিও ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ করে। জীবনকে সহজ, স্মার্ট ও স্বয়ংক্রিয় করায় প্রযুক্তিটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। আগামী নয় বছরে বিশ্বব্যাপী আইওটি ডিভাইসের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে চার হাজার কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জার্মানভিত্তিক অনলাইন প্লাটফর্ম স্ট্যাটিস্টা।

সংস্থাটির চলতি মাসের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত দেশগুলোয় আইওটি ডিভাইসের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এসব ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইসের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় দুই হাজার কোটিতে এবং নয় বছর পর অর্থাৎ ২০৩৪ সালের মধ্যে তা ছাড়াবে চার হাজার কোটি। এ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আইওটি ডিভাইস থাকবে চীনে, যেখানে সাধারণের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি ডিভাইস ব্যবহার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ প্রবৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের আরো প্রসার ঘটাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের প্রথম আইওটি ডিভাইসটি ছিল মূলত টোস্ট বানানোর একটি যন্ত্র। গত শতাব্দীর আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নেটওয়ার্ক সংযুক্ত এ যন্ত্র বানিয়েছিলেন। এ যন্ত্রের মাধ্যমে দূর থেকেই টোস্ট বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা যেত। তবে সময়ের সঙ্গে আইওটির সংজ্ঞায় পরিবর্তন এসেছে, এর কাজের পরিধি বেড়েছে।

বর্তমানে শিল্প, কৃষি, পরিবহনসহ নানা খাতে আইওটির ব্যবহার বাড়লেও প্রযুক্তিটি সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় সাধারণ ভোক্তার হাতে থাকা স্মার্ট ডিভাইসে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে প্রায় ৬০ শতাংশ আইওটি ডিভাইস ব্যবহার হবে ভোক্তাপণ্য বিভাগে (যেমন স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ, স্মার্ট হোম ডিভাইস ইত্যাদি)। আগামী ১০ বছরেও এ চিত্র অপরিবর্তিত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে স্ট্যাটিস্টা। পাশাপাশি শিল্প ও সরকারি খাতেও ইন্টারনেট অব থিংস সংযুক্ত ডিভাইসের ব্যবহার জনপ্রিয় হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যেসব খাতে ১০ কোটির বেশি আইওটি ডিভাইস সংযুক্ত রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, খুচরা ব্যবসা ও সরকারি বিভাগ।

প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সফর্মা ইনসাইটসের পূর্বাভাস বলছে, ২০১৯ সালে আইওটি খাতে বিশ্বে মোট আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ২০৩০ সালে এটি বেড়ে দাঁড়াতে পারে দেড় লাখ কোটি ডলারে বা ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন।

ব্রিটিশ প্রযুক্তিবিদ কেভিন অ্যাস্টনের ভাষায়, ‘আইওটি এমন এক প্রযুক্তি, যা আমাদের জীবনযাপন ও কাজের ধরনকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।’

সহজ করে বলতে গেলে আইওটি হলো মানুষ ও বিভিন্ন যন্ত্রের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বিশাল এক নেটওয়ার্ক।

উল্লেখ্য, ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিতি পায় ১৯৯৯ সালে। পিঅ্যান্ডজি কোম্পানির একটি প্রকল্পে কাজ করার সময় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অটো আইটি সেন্টারের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেভিন অ্যাশটন সর্বপ্রথম ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ পরিভাষাটি ব্যবহার করেন।