কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহর এখন সিঙ্গাপুর। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের রিসার্চে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল এআই সিটিজ ইনডেক্স ২০২৫’-এ প্রথম স্থান অধিকার করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ এআই শহরের তালিকায় সিঙ্গাপুর, সিউল, বেইজিং ও দুবাই, সানফ্রান্সিসকো সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এসব শহর উন্নত এআই প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির ফাইভজি ইন্টারনেট দিয়ে শহরের নানা কাজ ও সেবা পরিচালনা করছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবা আরো উন্নত হচ্ছে।
কাউন্টারপয়েন্টের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক সময় সিঙ্গাপুর সরকার বেশকিছু উদ্যোগের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিকাশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। এর মধ্যে ‘এআই সিঙ্গাপুর’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো বেড়ে উঠছে এবং স্বাস্থ্য, পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে গড়ে উঠেছে কার্যকর ও সুসংহত পরিবেশ।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই শহর মূলত একটি আধুনিক শহর, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৈনন্দিন জীবন সহজ ও আরো উন্নত করা হয়। এখানে থাকে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা। এমনকি পরিবহন ব্যবস্থায়ও এআই ব্যবহার হয়। পাশাপাশি সরকারি সেবা দ্রুত ও কার্যকর হয় এবং শহরের বিভিন্ন সমস্যা যেমন দূষণ, যানজট ব্যবস্থাপনা এআইয়ের মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
আডো এআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা আয়েশা খান্না বলেন, ‘স্মার্ট সিটিগুলো শুধু ইট-পাথর দিয়ে গড়ে ওঠেনি, সেখানে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি বা ডিজিটাল প্রযুক্তির একটি স্তরও। এ ডিজিটাল স্তর শহরের কাজকর্মকে আরো দ্রুত, সহজ ও কার্যকর করে তুলছে।’
এআই প্রযুক্তির বিকাশে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলও খুব একটা পিছিয়ে নেই। নগররাষ্ট্রটির মেট্রোপলিটন সরকার এরই মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।
এ তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে চীনের বেইজিং। শহরটি চলতি বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য আনুষ্ঠানিক এআই প্রশিক্ষণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি চায়না ইউনিকম ও হুয়াওয়ে মিলে বেইজিংয়ে ফাইভজি ও এআই-ভিত্তিক বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগ নেয়া নিয়েছে।
স্মার্ট সিটি বা এআই নগর উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো টেক জায়ান্টরা। প্রতিষ্ঠান দুটি ডাটা সেন্টার নির্মাণ, এআই-বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন ও বিশ্বজুড়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে হুয়াওয়ে টেলিকম খাতে ফাইভজি এআই প্রযুক্তি চালু করার মাধ্যমে এআই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কাউন্টারপয়েন্টের ভাষ্যমতে, বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই শহর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫ সালের এআই সিটি ইনডেক্স প্রতিবেদনে মাইক্রোসফট সবচেয়ে সক্রিয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে উঠে এসেছে। লন্ডন ও সিডনিসহ বিভিন্ন শহরে নতুন এআই ডাটা সেন্টার নির্মাণ করেছে সফটওয়্যার জায়ান্টটি। গুগল ও অ্যামাজনও বিশ্বব্যাপী এআই ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণ এবং সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করছে। সুপারকম্পিউটিং বা অত্যন্ত দ্রুত ও শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে এনভিডিয়া। তারা কোপেনহেগেন শহরে নতুন একটি সুপারকম্পিউটিং কেন্দ্র চালু করেছে। এছাড়া দুবাইয়ের টেলিকম সংস্থা ‘ডু’ ও ইতালির মিলান শহরের ‘ফাস্টওয়েব’ নামের টেলিকম কোম্পানির সঙ্গেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আফ্রিকার শহরগুলো এখনো বিশ্বের শীর্ষ এআই শহরের মধ্যে স্থান করতে পারেনি। অবকাঠামোর ঘাটতি, অর্থের অভাব, দক্ষ জনশক্তির কমতি ও সঠিক নীতি এখনো এখানে প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে।










