বিশ্বজুড়ে গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই প্রযুক্তি বিভ্রাট দেখা যায়। টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমচালিত অনেক কম্পিউটার ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে ইন্টারনেটনির্ভর ব্যবসা ও সেবা খাত বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ সমস্যার কারণ ছিল সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তিবিষয়ক কোম্পানি ক্রাউডস্ট্রাইকের হালনাগাদে একটি ত্রুটি বা বাগ। তবে কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জর্জ কার্টজ জানিয়েছেন, ৯৭ শতাংশ উইন্ডোজ কম্পিউটারে সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে। খবর সিএনবিসি।

বৃহস্পতিবার এক লিংকডইন পোস্টে কার্টজ বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্বে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের প্রযুক্তি বিভ্রাটের পর ক্রাউডস্ট্রাইকের একটি হালনাগাদের কারণে বর্তমানে ৯৭ শতাংশের বেশি উইন্ডোজ পুনরায় ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের গ্রাহকদের বলতে চাই—পুরোপুরি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেব না।’

গত সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়মমাফিক একটি হালনাগাদ প্রকাশ করেছিল ক্রাউডস্ট্রাইক। ওই হালনাগাদে এমন একটি বাগ ছিল যার কারণে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ভেঙে পড়ে এবং অনলাইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

শুক্রবার সকালে অনেকেই ঘুম থেকে উঠে কম্পিউটার চালু করলে নীল পর্দায় ত্রুটির বার্তা দেখতে পান, যা ‘ব্লু স্ক্রিন অব ডেথ’ নামে পরিচিত। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে গোলমেলে অবস্থার তৈরি হয়। পর্যায়ক্রমে অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল হতে থাকে। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এমনকি হাসপাতালগুলোয় অপারেশন চালিয়ে যেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। 

এ ঘটনার পর থেকে ক্রাউডস্ট্রাইকের শেয়ারের দাম কমে যায়। তখন কোম্পানিটির সিইও বলেন, ‘এ বিভ্রাটের কারণে যে ব্যাঘাত ঘটেছে তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত এবং ব্যক্তিগতভাবে আক্রান্ত প্রত্যেকের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তবে সম্পূর্ণ সমাধানের নিশ্চয়তা এ মুহূর্তে দিতে পারছি না। তবে এটুকু প্রতিশ্রুতি দিতে পারি যে উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবহারকারীদের জন্য ক্রাউডস্ট্রাইক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ ডলারের গিফট কার্ড দেয়ার কথা বলেছে, যা উবার ইটসের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে।

তবে এ বিষয়ে সিএনবিসি জানতে চাইলে ক্রাউডস্ট্রাইক দাবিটিকে মিথ্যা বলে জানায়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা গ্রাহকদের গিফট কার্ড পাঠায়নি। বরং এ পরিস্থিতিতে তাদের যেসব সহকর্মী ও সদস্য সমাধানের কাজে সহায়তা করছেন তাদের পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পরিমাপ করছে সংশ্লিষ্ট বীমা প্রতিষ্ঠান। বুধবার প্রকাশিত ক্লাউড মনিটরিং ও বীমা সংস্থা প্যারামেট্রিক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ প্রযুক্তি বিভ্রাটের কারণে ফরচুন ৫০০ কোম্পানি সরাসরি ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। 

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যাংক খাতে যথাক্রমে আনুমানিক ১ দশমিক ৯৪ ও ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল। আমেরিকান ও ইউনাইটেডের মতো ফরচুন ৫০০ এয়ারলাইনসের সম্মিলিত প্রায় ৮৬০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।