ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশনের (সিসিআই) বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে কর্মীদের আটকে রাখা ও ডাটা জব্দের অভিযোগ এনেছে স্যামসাং। অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্টের বিরুদ্ধে অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্তের অংশ হিসেবে একটি অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। এ অভিযোগে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং এখন ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশনের (সিসিআই) তদন্তের আওতায় রয়েছে। গত আগস্টের তদন্তে দেখা গেছে, স্যামসাং ও অন্যান্য স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের সঙ্গে অনলাইনে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘন করেছে।

তবে তদন্তের ফলাফল আইনিভাবে বাতিলের আবেদন করেছে বলে জানিয়েছে স্যামসাং। এর জন্য গত ১১ অক্টোবর উত্তর ভারতের চণ্ডীগড় হাইকোর্টে দায়ের করা মামলার জন্য একটি আবেদন করেছে কোম্পানিটি। এতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে অ্যামাজনের এক বিক্রেতার বিরুদ্ধে চালানো একটি অভিযানের সময় সিসিআই বেআইনিভাবে তাদের কর্মীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। ৩২ পৃষ্ঠার ওই আইনি নথিতে স্যামসাং জানিয়েছে, অভিযানের সময় সংস্থাটির কর্মকর্তারা তাদের তিনজন কর্মীকে আটক করেন, তাদের ফোন জব্দ করেন এবং সব গোপনীয় ও সংরক্ষিত ডাটা কপি করে নেন।

স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের ভারতীয় শাখা বলেছে, পুরো তল্লাশি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর অধীনে সংগৃহীত কোনো উপাদান ব্যবহার বা সেগুলোর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এসব তথ্য ফেরত দেয়া।

নথিতে আরো বলা হয়, সিসিআইকে বেআইনিভাবে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত। তবে স্যামসাং ও সিসিআই উভয়ের কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্যামসাং হাইকোর্ট থেকে একটি নিষেধাজ্ঞা পেয়েছে, যা সিসিআইয়ের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। তবে আদালত এখনো জব্দকৃত ডাটা ফেরত দেয়া ও সিসিআইকে সেগুলো ব্যবহারে নিষেধ করার অনুরোধের ওপর কোনো রায় দেয়নি।

সিসিআইও ভারতের বিভিন্ন উচ্চ আদালত থেকে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছে। স্যামসাং ও অন্য ২২টি পক্ষকেও তারা চ্যালেঞ্জ করেছে। গত সপ্তাহে সিসিআই সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছে যেন সমস্ত চ্যালেঞ্জ একত্রে শোনা হয়। সংস্থাটি এমন দাবি করে যে কোম্পানিগুলো তদন্তে বাধা দিচ্ছে।

সিসিআইয়ের তদন্তে দেখা গেছে, অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট উভয়ই তাদের প্লাটফর্মে নির্দিষ্ট বিক্রেতাদের প্রাধান্য দিয়ে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘন করেছে। যদিও অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্ট বার বার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে অফলাইন দোকানদাররা তাদের অতিরিক্ত ছাড় ও অন্যান্য কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।