গুগল ক্লাউডে বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী একাধিক জনপ্রিয় অনলাইন পরিষেবায় বিঘ্ন দেখা দেয় গত বৃহস্পতিবার। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা ২টা (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১২টা) থেকে শুরু হওয়া এ বিভ্রাট কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এতে স্পটিফাই, ডিসকর্ড, স্ন্যাপচ্যাট, ওপেনএআইসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যবহারকারীরা ভোগান্তিতে পড়েন। খবর এনগ্যাজেট।
গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘ইউএস-সেন্ট্রালওয়ান’ নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি ডাটা অঞ্চলে ত্রুটির কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়। যদিও কিছু সময়ের মধ্যে জিমেইলের মতো বেশির ভাগ নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশনের কার্যকারিতা দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, তবে অনেক অংশীদার পরিষেবায় (গুগলের সঙ্গে সম্পর্কিত) এখনো সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে অনেক সার্ভার রয়েছে।
গুগলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। অধিকাংশ অঞ্চলে আমাদের অবকাঠামো পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে ইউএস-সেন্ট্রালওয়ান অঞ্চলে এখনো সমস্যার কিছু প্রভাব রয়ে গেছে।’
বিভ্রাট চলাকালে স্পটিফাই, ডিসকর্ড, স্ন্যাপচ্যাট, ইটসি, ইউপিএস ও ওপেনএআইয়ের অসংখ্য ব্যবহারকারী সমস্যার অভিযোগ করেন ওয়েবের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরে। এমনকি পোকেমন গো ও পোকেমন ট্রেডিং কার্ড গেমের মতো গেমিং সেবাও সমস্যার মুখে পড়ে।
স্ন্যাপচ্যাট তাদের সাপোর্ট পেজে এ সমস্যার কথা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, কিছু ব্যবহারকারী লগইন করতে পারছে না। বাইরের কিছু ইন্টারনেট সেবাদাতার সমস্যার কারণে এ সেবায় ব্যাঘাত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার মধ্যে অধিকাংশ সেবা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে। গুগল জানিয়েছে, সবকিছু ১ ঘণ্টার কম সময়ে ঠিক হয়ে যাবে। তবে এর পরও ডাটাফ্লো, ভার্টেক্স এআই অনলাইন প্রেডিকশন ও পার্সোনালাইজড সার্ভিস হেলথের মতো কিছু পরিষেবায় আংশিক সমস্যা দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, গুগল ক্লাউডে বিভ্রাটের প্রভাব শুধু গুগলের নিজস্ব অ্যাপ বা সেবায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এটির ওপর নির্ভর করে থাকায় অল্প সময়ে এর প্রভাব পড়েছে নানা খাতে। গুগল ক্লাউড কেবল জিমেইল বা গুগল ড্রাইভের মতো অ্যাপের পেছনের প্রযুক্তি নয়। এটি ব্যাংক, অনলাইন স্টোর, ডেলিভারি পরিষেবা, মিডিয়া প্লাটফর্মসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার ভিত্তি। তাই এমন বিভ্রাটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে।










