জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটগুলো প্রায়ই ভুল বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ দেয় বলে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে। জার্মান গণমাধ্যম সংস্থা ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ), যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা বিবিসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওসহ (এনপিআর) ২২টি পাবলিক সার্ভিস মিডিয়া প্রতিষ্ঠান গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।
গবেষণায় চারটি জনপ্রিয় এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট—চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফটের কোপাইলট, গুগলের জেমিনি ও পারপ্লেক্সিটি এআইয়ের ওপর পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলের মধ্যে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক উত্তরেই বড় ধরনের ভুল ছিল।
গবেষকরা এআইয়ের তৈরি উত্তরগুলো কতটা সঠিক, কোথা থেকে তথ্য এসেছে, প্রেক্ষাপট দেয়া আছে কিনা, সত্য ও মতামতের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে কিনা এবং সম্পাদকীয় যোগ করা হয়েছে কিনা—এসব দিক দিয়ে যাচাই করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ উত্তরেই তথ্য বিভ্রান্তিকর ছিল, ৩১ শতাংশ উত্তরে গুরুতর তথ্যসূত্র সমস্যা ছিল এবং ২০ শতাংশ উত্তরেই বড় ধরনের তথ্যগত ভুল ছিল।
ডিডব্লিউর নিজস্ব গবেষণা অনুযায়ী ৫৩ শতাংশ উত্তরেই গুরুতর সমস্যা ছিল, আর ২৯ শতাংশ উত্তর নির্ভুল তথ্য উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে ভুলভাবে ওলাফ শুলজকে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ফ্রিডরিখ মের্ৎস এরই মধ্যে চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নিয়েছেন।
আরেকটি ভুলে মার্ক রুটের পরিবর্তে জেনস স্টলটেনবার্গকে ন্যাটোর মহাসচিব হিসেবে দেখানো হয়।
বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এআই চ্যাটবট ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ডিজিটাল নিউজ রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, অনলাইনে ৭ শতাংশ মানুষ এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে সংবাদের জন্য, আর ২৫ বছরের নিচেরদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ১৫ শতাংশ।
ইউরোপীয় সম্প্রচার ইউনিয়নের (ইবিইউ) ডেপুটি ডিরেক্টর জ্যাঁ ফিলিপ দে টেন্ডার বলেন, ‘এ ভুলগুলো জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। মানুষ যখন জানে না কি বিশ্বাস করতে হবে, তারা হয়তো কিছুই বিশ্বাস করবে না।’










