বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাওয়া সত্ত্বেও ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বে ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। টানা কয়েক প্রান্তিকের মন্দা কাটিয়ে আগের দুই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি দেখার পর আবারো বিক্রি কমল বাজারটিতে। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এদিকে দুই বছর টানা সাতটি প্রান্তিকে বিক্রি কমে যাওয়ার পর ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে পিসির বৈশ্বিক বিক্রি বাড়ে।
আইডিসির গবেষক জিতেশ উব্রানি বলেন, ‘গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পিসির প্রতি চাহিদা ও আগ্রহ স্পষ্টভাবে ফিরে এসেছে। এ চাহিদার অনেকটাই এন্ট্রি লেভেলের পিসির জন্য, যা পুনরুদ্ধারমূলক অর্থনীতি ও উত্তর আমেরিকায় “ব্যাক-টু-স্কুল’’ মৌসুমের কারণে ঘটেছে।’ ব্যাক-টু-স্কুল মৌসুম বলতে সাধারণত গ্রীষ্মের ছুটির পরের সময়কে বোঝায়, যখন শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এ সময়ে স্কুলের সরঞ্জাম, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের মতো ইলেকট্রনিকস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা হয়। উব্রানি আরো উল্লেখ করেছেন, কোয়ালকমের কোপাইলট প্লাসের মতো নতুন এআই পিসি, অ্যাপলের আসন্ন এমফোরভিত্তিক ম্যাকস ও ইন্টেল এবং এএমডি চিপ আগামী মাসগুলোয় পিসির প্রিমিয়াম সেগমেন্টকে আরো উৎসাহিত করবে, যা উন্নত ফিচার, চমৎকার কর্মক্ষমতা ও আরো আকর্ষণীয় ডিজাইন নিয়ে আসবে।
আইডিসির ডিভাইস ও ডিসপ্লে বিভাগের গবেষণা সহসভাপতি লিন হুয়াং বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এআই ও এআইচালিত পিসি চলতি দশকের শেষের দিকে খুব সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে, তবে এটি বৃহৎ পরিমাণে উৎপাদিত পণ্যের বাজারে পৌঁছতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। এছাড়া আগামী এক বছরের বেশি সময় মূলত সফটওয়্যার তৈরি, ব্যবহার ও এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সক্ষম হার্ডওয়্যারের জন্য সঠিক দর্শক খুঁজে বের করার ওপর মনোনিবেশ করা হবে।’
আইডিসি বলছে, শিক্ষা খাতের বাইরে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে পিসির চাহিদা শক্তিশালী। জাপানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে পিসি বিক্রি উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে এবং অন্যান্য বাজারো আগামী প্রান্তিকে একই পথে এগোবে। এদিকে টেক জায়ান্ট অ্যাপল চলতি বছর প্রথমার্ধে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং নতুন পণ্য বাজারে আসার আগেই গত বছরের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে ছিল।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিভাইস ট্র্যাকারদের সহসভাপতি ব্রায়ান মা উল্লেখ করেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পিসির বাজার এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে, তবে আগামী বছর কিছুটা বৃদ্ধি আশা করার জন্য যথেষ্ট ইতিবাচক লক্ষণ রয়েছে। আগের তুলনায় কম্পিউটারের ব্যবহার ও ক্রয়াদেশ বাড়ছে। ফলে সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোও বাজারে বড় ধরনের সুবিধা পাবে।
পিসি বিক্রি, বাজার হিস্যা ও প্রবৃদ্ধির দিক থেকে গত প্রান্তিকে শীর্ষে থাকা পাঁচটি কোম্পানি হলো লেনোভো, এইচপি, ডেল টেকনোলজিস, আসুস ও অ্যাপল। আইডিসি তাদের প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করেছে, প্রচলিত পিসির মধ্যে ডেক্সটপ, নোটবুক ও ওয়ার্কস্টেশন (প্রযুক্তিগত বা বৈজ্ঞানিক কাজের জন্য ডিজাইন করা) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে এতে ট্যাবলেট অন্তর্ভুক্ত নয়।










