১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। গতকাল রাতে অবসরের এ ঘোষণা দেন ৩৮ বছর বয়সী ক্রিকেটার। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার হয়ে ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন ম্যাক্সওয়েল। ফলে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় দেখা যেতে পারে তাকে।
ক্রিকেট বিষয়ক পডকাস্ট ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’-এ অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানান ম্যাক্সওয়েল। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটির সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে আছে। তবে একসময় যে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা জানতেন। এখন শরীরের প্রতি আরো মনোযোগ দিতে চান ম্যাক্সওয়েল। ক্যারিয়ারের বাকি সময়টুকু ভালোভাবে খেলতে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিজেকে ধরে রাখতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ভিক্টোরিয়ার হয়ে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮৬ ম্যাচ খেলে ম্যাক্সওয়েল করেছেন ৭ হাজার ২২৬ রান। তার ঝুলিতে রয়েছে ১৩৬টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাতটি টেস্ট, ১৪৯টি ওয়ানডে ও ১৩০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। ওয়ানডেতে তার রান ৩ হাজার ৯৯০ এবং টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার ৮৯৭। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাঁচটি সেঞ্চুরি রয়েছে তার। এই কীর্তিতে ভারতের রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন ম্যাক্সওয়েল।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২০১৫ ও ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছেন ম্যাক্সওয়েল। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি। তবে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য ২০১ রানের ইনিংসটি ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে ৯১ রানে সাত উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে একাই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন ম্যাক্সওয়েল। ১২৮ বলে ২১টি চার ও ১০টি ছক্কায় অপরাজিত ২০১ রান করেন তিনি। পেশিতে টান লাগায় ঠিকমতো দৌড়াতেও পারছিলেন না। তবু ব্যাটিং চালিয়ে যান। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে ২০২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন।
গত বছরের জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল এ সংস্করণে তার শেষ। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষবার মাঠে নামেন তিনি। ওই ম্যাচে বল হাতে দুটি উইকেট নিলেও ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি।
এপর বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে জায়গা হয়নি তার। আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের দলেও তাকে রাখেননি নির্বাচকরা। অস্ট্রেলিয়া দলে তরুণদের সুযোগ দেয়ার এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। আগামী ১২-২৪ মাসে দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
অবসরের আগে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার আশা ছিল ম্যাক্সওয়েলের। তবে সেই সুযোগ আর হচ্ছে না। এ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন তিনি।
এখন শরীরের যত্ন নেয়া এবং ক্যারিয়ারের বাকি সময় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলার দিকেই মনোযোগ দিতে চান ম্যাক্সওয়েল। সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে বেলফাস্ট উলভসের হয়ে খেলেছেন তিনি। সামনে বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টার্সসহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হয়ে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধ্যায় শেষ হলেও ক্রিকেট থেকে এখনই বিদায় নিচ্ছেন না ‘দ্য বিগ শো’।















