আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আর্চারদের গৌরবময় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ইরাকের সুলায়মানিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া কাপ আর্চারি-ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং টুর্নামেন্ট, স্টেজ-২’ থেকে ৩টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জপদকসহ মোট ১০টি পদক জিতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় আর্চারি দল।
আজ রোববার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ দলকে বহনকারী উড়োজাহাজটি। এ সময় দেশে ফেরা আর্চারদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি এবং ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
বিমানবন্দরে এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. মনজুর আলম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান, মন্ত্রণালয় ও ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, কোচ, ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ ক্রীড়ানুরাগীরা। তাদের উপস্থিতিতে বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সুলায়মানিয়ায় ২৪ থেকে ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আর্চাররা রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড বিভাগে নিজেদের দক্ষতা ও নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে রিকার্ভ পুরুষ দলীয় ইভেন্টে কাজাখস্তানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জয় করে। আব্দুর রহমান আলিফ, মো. সাগর ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফির সমন্বয়ে গঠিত দলটি এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে।
এছাড়া, কম্পাউন্ড নারী দলীয় ইভেন্টে বন্যা আক্তার, শ্রীপর্ণা বিশ্বাস ও কুলসুম আক্তার মনি কাজাখস্তানকে ২৩০-২২০ স্কোরে হারিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। কম্পাউন্ড নারী ব্যক্তিগত ইভেন্টে বন্যা আক্তার কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভাকে ১৪৫-১৪৩ স্কোরের ব্যবধানে হারিয়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক জয় করেন।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আর্চাররা আরো ৩টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেন। সব মিলিয়ে ১০টি পদক অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আর্চারির অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয়েছে।
দেশে ফিরে প্রতিক্রিয়ায় স্বর্ণজয়ী আর্চার বন্যা আক্তার জানান, এশিয়া কাপে এটি তার প্রথম ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক। এই অর্জন আগামীতে বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। অন্যদিকে, রিকার্ভ পুরুষ দলের স্বর্ণজয়ী আর্চাররা তাদের এই অর্জনকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে আরো বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দলের টিম ম্যানেজার তাজুল হোসেন বাপ্পী খেলোয়াড়দের জন্য অনুকূল প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, আর্চারির মতো মানসিক চাপ ও মনোযোগনির্ভর খেলায় আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো গেলে আরো ভালো ফল অর্জন সম্ভব।
দলের প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক জানান, এবারের দলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ আর্চার ছিলেন। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-২১ ও অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশে বড় দর্শকের সামনে ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় তাদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।










