বর্তমানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে স্মার্টফোন, বিশেষ করে কিশোর-তরুণদের ক্ষেত্রে। এসব ডিভাইস এখন টিনএজ ব্যবহারকারীদের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের স্মার্টফোন ইউজেস স্ট্যাটিসটিকস ২০২৫ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘুম থেকে ওঠার পরই ৭২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী নিজেদের ফোনের মেসেজ ও নোটিফিকেশন দেখে। এছাড়া ৫৬ শতাংশ টিনএজার হাতে ফোন ছাড়া একাকী, উদ্বিগ্ন বা মানসিক চাপ অনুভব করে। প্রতিবেদন বলছে, স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগ বা বিনোদনের মাধ্যমই নয় বরং এটি তরুণদের আবেগ, সামাজিক সম্পর্ক এবং প্রতিদিনের কাজকর্মের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোনের এ প্রভাবের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালবেলার অভ্যাসটি স্মার্টফোনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের বাড়তে থাকা নির্ভরশীলতার প্রতিফলন।

২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭২১ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহার হচ্ছে, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ। ফাইন্যান্স অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বে ১০ জনের মধ্যে সাতজন কিশোর-কিশোরী ঘুম থেকে ওঠার পরই নিয়মিত তাদের ফোনটি হাতে নেয়।

তবে এ নির্ভরশীলতার মূল্যও দিতে হচ্ছে তাদের। গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি কিশোর-কিশোরী হাতে ফোন ছাড়া হতাশ ও মানসিক চাপ অনুভব করে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের জন্য একটি যন্ত্র নয়, বরং অনেক তরুণের জন্য এটি আরাম ও সময় কাটানোর একটি উৎস।

প্রতিবেদনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মার্টফোন ব্যবহার নিয়েও নতুন উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী স্বীকার করেছে, তারা ক্লাসে ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের কারণে প্রায়ই মনোযোগ হারায়। আরো উদ্বেগজনক বিষয় হলো ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্বীকার করেছে যে তারা ক্লাসের সময় পড়াশোনার বাইরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং বা ভিডিও দেখার মতো অপ্রাসঙ্গিক কাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করে।

শিক্ষাবিদরা এ বিষয়ে সতর্ক করে বলছেন, শ্রেণীকক্ষে স্মার্টফোনের এমন ব্যবহার শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।