টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী (সিইও) পাভেল দুরভকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় প্যারিসের বোর্গেট বিমানবন্দর থেকে রুশ-বংশোদ্ভূত ধনকুবেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে টিএফওয়ান ও বিএফএম টিভি। খবর রয়টার্স।

টিএফওয়ানের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, দুরভ তার ব্যক্তিগত জেট উড়োজাহাজে ভ্রমণ করছিলেন। টেলিগ্রাম অ্যাপ সম্পর্কিত অপরাধের তদন্তের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে ফ্রান্সে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। টিএফওয়ান ও বিএফএম উভয় মাধ্যম জানিয়েছে, টেলিগ্রামের মডারেটরদের ঘাটতির ব্যাপারে তদন্ত করা হবে এবং পুলিশ মনে করছে, মডারেটর না থাকায় মেসেজিং অ্যাপটিতে অবাধে অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে টেলিগ্রাম এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। এমনকি ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্বজুড়ে মাধ্যমটির বর্তমান ব্যবহারকারী প্রায় ১০০ কোটি। এনক্রিপশন সুবিধার জন্য রাশিয়া, ইউক্রেন ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রজাতন্ত্রগুলোয় অ্যাপটি জনপ্রিয়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক ও উইচ্যাটের পর প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে টেলিগ্রামকে ধরা হয়।

২০১৩ সালে ভাইয়ের সঙ্গে দুরভ টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। তার আরেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকন্টাক্টে থেকে বিরোধীদের বের করে দেয়ার জন্য রুশ সরকারের দাবি মেনে না নেয়ায় প্লাটফর্মটি বিক্রি করে ২০১৪ সালে রাশিয়া ত্যাগ করেন তিনি।

রাশিয়া থেকে চলে যাওয়া ও তার কোম্পানির জন্য একটি বাড়ি খোঁজার ব্যাপারে দুরভ গত এপ্রিলে আমেরিকান সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে বলেন, ‘কারো কাছ থেকে আদেশ নেয়ার চেয়ে আমি বরং স্বাধীন থাকব।’

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ শুরু করার পর যুদ্ধ ও সংঘাতকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ থেকে রাজনীতি সম্পর্কিত বিভ্রান্তিকর বিষয়বস্তু ছড়ানোর প্রধান উৎস হয়ে ওঠে টেলিগ্রাম।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যারিসে তাদের দূতাবাস দুরভ সম্পর্কে স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে পশ্চিমা মানবাধিকার সংগঠনগুলো দুরভের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।