টনকয়েন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যা টন ব্লকচেইনের ভিত্তিতে নির্মিত। টনের পূর্ণ রূপ হচ্ছে দ্য ওপেন নেটওয়ার্ক। টেলিগ্রামের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পাভেল দুরভ গ্রেফতারের পর টনকয়েন ২৭০ কোটি ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে। খবর গ্যাজেটস থ্রিসিক্সটি।
টেলিগ্রাম জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে টন ব্লকচেইনে অ্যাপটির মাসিক ৯০ কোটি ব্যবহারকারীর অ্যাকসেস রয়েছে। এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে টেলিগ্রাম অ্যাপে নতুন ফিচার যোগ হবে, যেমন ইন-অ্যাপ পেমেন্ট ও গেমের মতো পরিষেবা। টন যখন যাত্রা করে তখন অনেকেই ভেবেছিলেন যে, এর মাধ্যমে টেলিগ্রাম হয়তো চীনা ‘উইচ্যাট’ অ্যাপের মতো সুপার অ্যাপে পরিণত হবে। সুপার অ্যাপ হচ্ছে একই প্লাটফর্মের অধীনে নানা ধরনের পরিষেবা দেয়া।
টেলিগ্রামের অপরাধমূলক ব্যবহার প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে চলতি সপ্তাহে প্যারিস বিমানবন্দর থেকে দুরভকে গ্রেফতার করা হয়। এর পরই বাজারমূল্যের ভিত্তিতে দশম বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি টনকয়েনের শেয়ারের দাম ২০ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টদের মতে, ৩৯ বছর বয়সী পাভেল দুরভের পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাবের কারণে এ পতন ঘটেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে প্রভাবিত করেছে ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য হ্রাস করেছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক পরিষেবা প্রকল্পটির বয়স হচ্ছে তিন বছর। এরই মধ্যে টেলিগ্রাম থেকে আলাদা হওয়ার বিষয় জানায় তারা। টেলিগ্রাম ও টনের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে ক্রিপ্টো দুনিয়ায় বেশ হইচই শুরু হয়েছিল।
টেলিগ্রামের সদর দপ্তর সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে অবস্থিত। কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টসহ ইউরোপীয় আইন মেনে চলে এবং দুরভের এক্ষেত্রে ‘লুকানোর কিছু নেই’।
ডিজিটাল অ্যাসেট ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের হেজ ফান্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড গ্যালভিন বলেন, ‘দুরফের গ্রেফতারের ফলে ঠিক কী প্রভাব পড়বে তা বলার সময় এখনো আসেনি। আরো সময় লাগবে। তবে এটুকু বলা যায়, টনের বাজারমূল্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সপ্তাহ শেষ হলে বাকিটা বলা যাবে।’
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও উইচ্যাটের পর প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে ধরা হয় টেলিগ্রামকে। ২০১৩ সালে ভাইকে সঙ্গে নিয়ে দুরভ টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। তার আরেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকন্টাক্টে থেকে বিরোধীদের বের করে দেয়ার জন্য রুশ সরকারের দাবি মেনে না নেয়ায় প্লাটফর্মটি বিক্রি করে ২০১৪ সালে রাশিয়া ত্যাগ করেন তিনি।










