সম্প্রতি মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি বড় প্রযুক্তি বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি এতটাই গুরুতর ছিল যে, এটি বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলোর জন্য বিরাট সমস্যা সৃষ্টি করে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় আইটি সিস্টেমগুলোর এমন বিভ্রাটের কারণে ব্যবহারকারী তাদের গুরুত্বপূর্ণ ডাটার অ্যাকসেস হারাতে পারেন। এ অবস্থায় ডিজিটাল ডাটাগুলোর সুরক্ষার জন্য ব্যাকআপ রাখার সংস্কৃতি চালুতে বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন তারা কতটা জরুরি। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
প্রথম আইটি বিভ্রাটটি ঘটে ১৯ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি ক্রাউডস্ট্রাইকের একটি ত্রুটি সারা বিশ্বে মাইক্রোসফট সিস্টেমগুলো বিকল করে দেয়, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইটি বিভ্রাট বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ঘটনায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে ইন্টারনেটনির্ভর ব্যবসা ও সেবা খাতগুলো। মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্রাউডস্ট্রাইক আপডেট হওয়ার জন্য এ সমস্যা তৈরি হয়।
এরপর ৩০ জুলাই আরেকটি আইটিসংশ্লিষ্ট সমস্যার মুখোমুখি হয় মাইক্রোসফট। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রথমটির চেয়ে কম গুরুতর ছিল। এ সময় হ্যাকাররা মাইক্রোসফটের ক্লাউড পরিষেবাগুলোয় প্রচুর পরিমাণে ভুয়া ট্রাফিক তৈরি করে। এ অতিরিক্ত চাপের কারণে ক্লাউড পরিষেবাগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারছিল না। এ কারণে ব্যবহারকারীরা ধীরগতির পারফরম্যান্স ও বিঘ্নের সম্মুখীন হন।
এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডাটা ব্যাকআপে গুরুত্বারোপ করে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক আলভিন আর ক্যাবরাল বলছেন, ডাটা ব্যাকআপ রাখা হলে দ্রুত তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এছাড়া সবকিছু হারানোর ঝুঁকিও থাকে না। সাম্প্রতিক বিভ্রাটগুলো মনে করিয়ে দেয়, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত ডাটা ব্যাকআপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের বিশ্লেষক ইয়োতাশা থাভার বলেন, ‘মূলত সবকিছুই (ডিজিটাল ডাটা) হুট করে হারিয়ে যেতে পারে।’ অর্থাৎ আজকের ডিজিটাল বিশ্বে ডাটা ও তথ্য খুবই দুর্বল৷। সাইবার অ্যাটাক বা সিস্টেমের ব্যর্থতার মতো কিছু ভুল হলে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ ডাটা বা পরিষেবাগুলোয় অ্যাকসেস হারানো সম্ভব। আর তাই আকস্মিক ও গুরুতর ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যাকআপ পরিকল্পনার প্রয়োজন। আলভিন আর ক্যাবরাল জানান, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫৩৫ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতিদিন প্রায় ১৫ দশমিক ৮৭ টেরাবাইট ডাটা তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এ ডাটা তৈরির হার ২০২৫ সালের মধ্যে আরো ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আর তাই ব্যাকআপ না থাকলে ডাটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকে। ডাটা ব্যক্তিগত বা পেশাগত যা-ই হোক না কেন, একটি ব্যাকআপ পরিকল্পনার অভাব ক্ষতিকারক হতে পারে।
অন্যদিকে ডাটা ব্যাকআপে মানুষের অনাগ্রহের কথা উল্লেখ করে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের গবেষণা পরিচালক মোহিত আগরওয়াল বলেন, ‘যদিও ডাটা ব্যাকআপ করার অনেক উপায় রয়েছে, যেমন এক্সটার্নাল হার্ডড্রাইভ ও ক্লাউড স্টোরেজ। তবু অনেকে বিশেষ করে প্রবীণ ব্যবহারকারীরা এখনো মনে করেন ব্যাকআপ প্রক্রিয়াটি খুব জটিল। এ ধারণা ডাটা ব্যাকআপ নিয়ে তাদের অনাগ্রহকে বাড়িয়ে তোলে।’"
ডাটা স্টোরেজ কোম্পানি সিগেট টেকনোলজির হেড অব সেলস (এমইটিএ) মোহিত পান্ডে বলেন, ‘মানবসৃষ্ট ত্রুটি, হার্ডওয়্যার ব্যর্থতা ও সাইবার আক্রমণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার জন্য ডিজিটাল সম্পদ, যেমন সংবেদনশীল নথি, মিডিয়ার ব্যাকআপ অপরিহার্য।’










