ব্যবহৃত জিনিস কিংবা সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য কেনা হয় মূলত অর্থ সাশ্রয়ের জন্য। বিশেষ করে দামি ডিভাইস ও ইলেকট্রনিকস পণ্য কম দামে পেতে অনেকে ব্যবহৃত পণ্যের বাজার থেকে এগুলো কিনে থাকেন। তবে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট হাউটুগিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু পণ্য বা ডিভাইস যত সস্তাই হোক না কেন, কখনই সেকেন্ড হ্যান্ড কেনা উচিত নয়। কারণ এগুলো ব্যবহারের পর নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত বা নির্ভরযোগ্য অবস্থায় নাও থাকতে পারে।
ওএলইডি টিভি ও মনিটর
বিশ্লেষকরা বলেন, ওএলইডি টিভি ও মনিটরের ছবি মান সাধারণ ব্যাকলিট এলসিডির তুলনায় অনেক উন্নত। তবে ব্যবহৃত ওএলইডি কেনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এ প্রযুক্তিতে জৈব উপাদান ব্যবহার হয়, যা সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষয় হতে থাকে। বার্ন-ইন সমস্যা আগের মতো গুরুতর না হলেও একই ধরনের ছবি দীর্ঘ সময় ধরে প্রদর্শিত হলে কিছু পিক্সেল দ্রুত নষ্ট হয়ে স্থায়ী দাগ তৈরি করতে পারে। ব্যবহৃত ডিভাইসের ক্ষেত্রে আগের মালিক কীভাবে স্ক্রিনটি ব্যবহার করেছেন তা জানা যায় না, ফলে অদৃশ্য ক্ষয় বা বার্ন-ইনের ঝুঁকি থেকেই যায়।
হেডফোন ও ইয়ারবাডস
হেডফোন ও ইয়ারবাড এমন দুটি ডিভাইস, যা ব্যবহৃত অবস্থায় কেনা বা বেচা দুটোই ঝুঁকিপূর্ণ। কানে ব্যবহার করায় এটি অন্য কারো ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এছাড়া বড় হেডফোনও ঠিকমতো জীবাণুমুক্ত করা কঠিন, যেহেতু বেশির ভাগ মডেলেই পানি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই। অনেকে ব্যবহৃত ডিভাইসের বাজারে ‘ব্র্যান্ড নিউ ইন বক্স’ লেখা দিয়ে পণ্য বিক্রি করেন। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এমন দাবি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়। স্বাস্থ্যঝুঁকি বাদ দিলেও ইয়ারবাড ও হেডফোন প্রতিদিন প্রচুর ব্যবহার, ঘাম, ধাক্কা বা ঝাঁকুনি আর পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যায়। ফলে এগুলো খুব দ্রুত নষ্ট বা ভেতরে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই ব্যবহৃত হেডফোন বা ইয়ারবাডে লুকানো সমস্যার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
রিমুভেবল মেমোরি কার্ড
এসডি বা মাইক্রোএসডির মতো অপসারণযোগ্য মেমোরি কার্ড ব্যবহৃত অবস্থায় কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। ফ্ল্যাশ মেমোরি প্রযুক্তি তুলনামূলক দ্রুত ক্ষয় হয় এবং আগের মালিক কার্ডটি কীভাবে ব্যবহার করেছেন তাও জানার উপায় থাকে না। যদি কার্ডটি দীর্ঘ সময় ভারী কাজের ডিভাইসে ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে এর কার্যক্ষমতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই সেকেন্ড হ্যান্ড না কিনে নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের নতুন মেমোরি কার্ড কেনাই নিরাপদ বিকল্প।
গেমপ্যাড ও হ্যান্ডহেল্ড
গেমপ্যাড ও হ্যান্ডহেল্ড গেমিং ডিভাইসের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো অ্যানালগ স্টিকের ক্ষয় হওয়া। সময়ের সঙ্গে তৈরি হয় ‘স্টিক ড্রিফট’ সমস্যা, যেখানে স্টিক না নাড়ালেও ইনপুট দেখা যায়। এটি হয় মূলত স্টিকের ভেতরের ময়লা জমা বা পটেনশিওমিটারের (পরিবর্তনশীল রোধক) ক্ষয়ের ফলে। এক্সবক্স সিরিজ, প্লেস্টেশন ৫ কিংবা নিনতেন্দো সুইচের মতো কনসোলেই এ একই ধরনের স্টিক ব্যবহার হওয়ায় ঝুঁকিটা সর্বজনীন।
স্মার্টওয়াচ
অ্যাপল ওয়াচের মতো দামি ডিভাইসও পুরনো হয়ে গেলে ব্যাটারি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া ব্যবহৃত ঘড়ির ফ্যাব্রিক ব্যান্ড থেকে ছড়াতে পারে স্বাস্থ্য সমস্যা ও দুর্গন্ধ। প্রযুক্তির বাজারে সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহৃত স্মার্টওয়াচের চাহিদা বাড়লেও বিশেষজ্ঞ মহলে এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পুরনো ঘড়ি কেনার মাধ্যমে কিছু অর্থ সাশ্রয় হতে পারে, কিন্ত এটি সুবিধার চেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া কাপড়ের তৈরি স্ট্র্যাপ বা ব্যান্ডগুলো কয়েক বছর ব্যবহারের পর নষ্ট হতে পারে, জমে থাকতে পারে অনেক জীবাণু। কারণ এসব ঘড়ি বেশির ভাগ সময় শরীরচর্চার জন্য ব্যবহার হয়। ফলে ঘাম ও ময়লা জমায় স্মার্টওয়াচটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সেকেন্ড হ্যান্ড স্মার্টওয়াচ কেনার আগে এর স্ট্র্যাপের পরিচ্ছন্নতা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।










