যুক্তরাষ্ট্রে জেনারেশন আলফার সাত-নয় বছর বয়সী শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরেছে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সফটওয়্যার কোম্পানি কুস্টোডিও। তারা গ্রুপটিকে ‘আইপ্যাড কিডস’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কুস্টোডিওর গবেষণার ফল বলছে, এ বয়সের ৩০ শতাংশের বেশি শিশুর এক্সে (আগের টুইটার) অ্যাকাউন্ট রয়েছে। খবর টেকক্রাঞ্চ।
উল্লেখ্য, ২০১০-২০ সালের মাঝামাঝি সময় জন্ম নেয়া শিশুদের জেনারেশন আলফা বলা হয়। তারা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও নতুন সব আপডেটেড প্রযুক্তির সঙ্গে বেড়ে উঠছে।
কুস্টোডিওর প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এক্সকে সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রবীণদের ব্যবহারের জন্য একটি প্লাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এক্সের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় সাত-নয় বছরের শিশুদের খুবই কম বয়সী হিসেবে দেখা হয়। এসব অল্প বয়সী শিশুর মধ্যে ৪৪ শতাংশের কাছে নিজস্ব ট্যাবলেট রয়েছে। ট্যাবলেটগুলো সাধারণত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ও গেমস খেলার জন্য ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ এ শিশুরা কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে ডিভাইসগুলো ব্যবহার করছে না বরং এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবেও যুক্ত আছে। কুস্টোডি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক্স মূলত রাজনীতি, খবর এবং কখনো কখনো ভুল তথ্যের ওপর ফোকাস করা সত্ত্বেও এটি অল্প বয়সী ও তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারে। কারণ এক্সের পোস্টগুলো সরাসরি গুগলের সার্চ রেজাল্টে দেখা যায়। ফলে যারা অনলাইনে কিছু খোঁজার জন্য যাচ্ছে, তাদের এক্সের প্রতি আরো আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
কুস্টোডি টেকক্রাঞ্চকে জানিয়েছে তারা ধারণা করছে, শিশুরা কৌতূহলবশত এক্স ব্যবহার করছে। তারা গুগলের সার্চ রেজাল্ট থেকে এক্সের পোস্টে ঢুকছে ও অ্যাকাউন্ট তৈরি করছে। এছাড়া অভিভাবকরাও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার মতো এক্স ব্যবহারে শিশুদের বিধিবিষেধ দেন না কিংবা অ্যাপটির অ্যাকসেস ব্লক করেন না। তারা মনে করেন, শিশুদের এক্সের প্রতি আগ্রহ নেই কারণ এটি প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের জন্য। কুস্টোডিওর মতে, এ অসাবধানতার কারণে শিশুদের মধ্যে এক্সের ব্যবহার বাড়ছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ১৩ শতাংশ এক্সের পোস্টে অ্যাডাল্ট কনটেন্ট রয়েছে, যা অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের ঝুঁকি তৈরি করে। ফলে শিশুরা ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও ভুল তথ্যের মতো অনুপযুক্ত কনটেন্টের সম্মুখীন হতে পারে। সম্প্রতি ১ লাখ ৮০ হাজার পরিবারের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা অনেক ছোট বয়স থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। সাত-নয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে রেডিট ব্যবহার করছে ২৮ শতাংশ এবং ২৬ শতাংশ শিশু ব্যবহার করছে ফেসবুক। গবেষণায় আরো উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৪২ শতাংশ শিশু ১০ বছর বয়সেই স্মার্টফোন হাতে পেয়ে যাচ্ছে এবং ৪০ শতাংশ শিশু প্রতিদিন প্রায় ১২১ মিনিটের জন্য টিকটক অ্যাপ ব্যবহার করছে।










