আজ থেকে ২০ বছর আগে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতাদের একজন মার্ক জাকারবার্গ একটি বাক্য জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। সেটা হলো ‘সবকিছু ভেঙে ফেলুন এবং দ্রুত এগিয়ে যান’। মূলত উদ্ভাবনকে অনুপ্রাণিত করতেই এ উক্তি ব্যবহার করতেন জাকারবার্গ। কিন্তু ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া আধুনিক সমাজে তার ওই বাক্য এখন অনুশোচনার উক্তি হয়েও দাঁড়িয়েছে। কারণ কম্পিউটারের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে বানানো ত্রুটিপূর্ণ একটি সফটওয়্যার এ সমাজের পথচলায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। খবর এপি।
বিশ্বজুড়ে গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই প্রযুক্তি বিভ্রাট দেখা যায়। টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমচালিত অনেক কম্পিউটার ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে ইন্টারনেটনির্ভর ব্যবসা ও সেবা খাত।
মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্রাউডস্ট্রাইক আপডেট হওয়ার জন্য এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। ক্রাইডস্ট্রাইক হলো এক ধরনের সাইবার সিকিউরিটি প্লাটফর্ম, যা মাইক্রোসফট ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিয়ে থাকে। এ প্লাটফর্মে রয়েছে সিঙ্গেল সেন্সর ও ইউনিফায়েড থ্রেট ইন্টারফেস, যেগুলোর মাধ্যমে ‘আইডেনটিটি থ্রেট’ আটকানোর কাজ করে ক্রাউডস্ট্রাইক।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কনসাল্টিং প্রফেসর ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ পল সাফো বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ না বুঝেই ডিজিটাল সিস্টেম ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করি। কিন্তু এ নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই এ সিস্টেম কীভাবে কাজ করে বা ব্যর্থ হলে কীভাবে ঠিক করতে হয়, তা না জেনেই ব্যবহার করি।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কিংবা প্রযুক্তির দুর্বলতার সূত্রপাত ঘটে মূলত কম্পিউটার ও ফোনসহ অন্যান্য ডিভাইসের আন্তসংযোগের মাধ্যমে। এ আন্তসংযোগ জীবনযাপনকে আরো সহজ করার পাশাপাশি নানা সুবিধা দেয়। কিন্তু এতে বিভ্রাট ঘটলে তা জীবনযাপনকে বড় ধরনের বিপদের মুখেও ফেলে দেয়। গত সপ্তাহে ক্রাউডস্ট্রাইকের ভুলের মধ্য দিয়ে সে বিপদের প্রমাণও পেয়েছে বিশ্ব।
আমেরিকান উদ্ভাবক ও গবেষক গ্রেগরি ফ্যালকো পরামর্শ দিয়েছেন, ‘পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা কীভাবে নকশা করা হয়েছে, তা ভালোভাবে দেখা ও জানা উচিত।’ তার মতে, ইন্টারনেট যেভাবে কাজ করে তা খুব মজবুত বা সুসংগঠিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল বিশ্ব যেভাবে কাজ করে এবং এর দুর্বলতাগুলো কোথায়, তা খুঁজে বের করা জরুরি। এ জন্য সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি সময় ব্যয় করতে হবে। এসব দুর্বলতা বোঝা ও দুর্বলতা কাটানোর পরিকল্পনা বড় বড় সমস্যা এড়াতে সাহায্য করতে পারে। নয়তো মানবসমাজ এমন পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে, যেখানে ডিজিটাল বিশ্বের সমস্যা মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে যাবে। তারা এ পরিস্থিতিকে চোখ বেঁধে একটি বিপজ্জনক মাঠের মধ্য দিয়ে হাঁটার সঙ্গে তুলনা করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিকে অগ্রগতির একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। তবে এখন মনে হচ্ছে, এটি আধুনিক জীবনকে একটি গুরুতর সমস্যার দিকেও ধাবিত করছে। ডিজিটাল অবকাঠামো এতটাই নাজুক যে একটি ছোট সমস্যাও কখনো কখনো বড় ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।










