প্রতি বছরের মতো এ বছরও অ্যাপল উন্মোচন করেছে আইফোনের নতুন সিরিজসহ বেশকিছু পণ্য। এবারের অনুষ্ঠানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘অ ড্রপিং’। এর সবচেয়ে বড় চমক ছিল আইফোন এয়ার, যা অ্যাপলের প্রথম পাতলা ফোন। পাশাপাশি এসেছে নতুন ডিজাইনের প্রো আইফোন, এয়ারপডস প্রো ৩ ও নতুন অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের সফটওয়্যার হালনাগাদ কবে থেকে পাওয়া যাবে—
আইফোন এয়ার: সবচেয়ে পাতলা আইফোন
আইফোনের প্লাস মডেলকে বিদায় দিয়েছে আইফোন এয়ার। এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন, পুরুত্ব মাত্র ৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং ওজন ১৫৬ গ্রাম। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮০ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত টাইটেনিয়াম। ফোনটিতে রয়েছে ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চির প্রোমোশন ডিসপ্লে, নতুন এ১৯ প্রো চিপ ও একটি ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যা চার ধরনের ফোকাল লেন্থ নিতে সক্ষম।
পাতলা হওয়ায় এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফোনটিতে শুধু একটি ক্যামেরা আছে, ব্যাটারি অন্যান্য আইফোনের তুলনায় ছোট এবং এটি কেবল ই-সিম সাপোর্ট করবে। অ্যাপলের দাবি, এর ব্যাটারি সারা দিন চলবে। চাইলে আলাদা ব্যাটারি প্যাক কেনা যাবে। ভারতে আইফোন এয়ারের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ রুপি (১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা)।
আইফোন ১৭ প্রো ও প্রো ম্যাক্স: নতুন নকশা ও শক্তিশালী ক্যামেরা
প্রো সিরিজে বছরের পর বছর একই নকশা ধরে রাখার পর এবার বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন ডিজাইনে পেছনে তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা রাখা হয়েছে। টেলিফটো লেন্সে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আট গুণ অপটিক্যাল জুম এবং ৪০ গুণ ডিজিটাল জুম সাপোর্ট করবে।
প্রো মডেল দুটি ৬ দশমিক ৩ ও ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চি আকারে আসবে। মডেল দুটিতে টাইটেনিয়ামের পরিবর্তে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে, যা তাপ নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর। সঙ্গে রয়েছে ভেপার চেম্বার কুলিং ব্যবস্থা। নতুন এ১৯ প্রো চিপ আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি স্থায়ী পারফরম্যান্স দেবে। প্রো ম্যাক্সে ভিডিও প্লেব্যাক চলবে ৩৯ ঘণ্টা পর্যন্ত।
প্রো মডেল পাওয়া যাবে তিন রঙে—ডিপ ব্লু, কসমিক অরেঞ্জ ও সিলভার। সর্বোচ্চ স্টোরেজ ২ টেরাবাইট। প্রতিবেশী ভারতে আইফোন ১৭ প্রো সর্বনিম্ন দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার রুপি (১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা) এবং আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি (২ লাখ ৭০ হাজার টাকা)।
আইফোন ১৭: প্রমোশন ডিসপ্লে সাধারণ মডেলে
প্রথমবারের মতো সাধারণ আইফোনে এসেছে প্রমোশন প্রযুক্তি। ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির স্ক্রিনে থাকবে ১ হার্টজ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ তিন হাজার নিটস উজ্জ্বলতা। পেছনের দুটি ক্যামেরা ৪৮ মেগাপিক্সেলের। সামনের ক্যামেরায় এসেছে ‘সেন্টার স্টেজ’ ফিচার, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রুপ সেলফি ফ্রেম ঠিক করবে।
নতুন এ১৯ চিপের ফলে এর ব্যাটারি ভিডিও প্লেব্যাকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত সাপোর্ট দিতে পারবে। স্টোরেজ শুরু হচ্ছে ২৫৬ জিবি থেকে। ভারতে এর দাম শুরু ৮২ হাজার ৯০০ রুপি থেকে (১ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা)।
এয়ারপডস প্রো ৩: ফিটনেস ট্র্যাকিং ও লাইভ ট্রান্সলেশন
তিন বছর পর আপডেট হওয়া এয়ারপডস প্রো ৩-এ যুক্ত হয়েছে হার্ট রেট সেন্সর, উন্নত নয়েজ ক্যানসেলেশন এবং নতুন ইয়ারটিপ। এগুলো ঘাম প্রতিরোধী ও ব্যায়াম ট্র্যাক করতে সক্ষম। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচার হলো লাইভ ট্রান্সলেশন, যা তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন ভাষায় কথোপকথন অনুবাদ করতে পারে। দাম ২৫ হাজার ৯০০ রুপি (৩৬ হাজার ৭০০ টাকা)।
অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১: রক্তচাপ মনিটর
অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১-এর প্রধান ফিচার হলো উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণ। সেন্সরের মাধ্যমে ৩০ দিনের ডাটা বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করা হবে। ঘুম বিশ্লেষণে এসেছে নতুন স্লিপ স্কোর। প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে ফাইভজি কানেক্টিভিটি। দাম শুরু ৪৬ হাজার ৯০০ রুপি থেকে (৬৪ হাজার ৭৮০ টাকা)।
অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৩ ও এসই ৩
আল্ট্রা ৩ মডেলে যুক্ত হয়েছে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, যা দূরবর্তী স্থানে জরুরি বার্তা পাঠাতে সহায়তা করবে। এতে রয়েছে সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে এবং ব্যাটারি চলবে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত। দাম শুরু ৮৯ হাজার ৯০০ রুপি থেকে (১ লাখ ২৪ হাজার ১৭৪ টাকা)। সাশ্রয়ী এসই ৩ মডেলে এসেছে অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে ও উন্নত স্বাস্থ্য ফিচার, দাম ২৫ হাজার ৯০০ রুপি।
অ্যাপল এখন নিজস্ব ক্রসবডি স্ট্র্যাপ বিক্রি করবে, যা পুনর্ব্যবহৃত সুতা দিয়ে তৈরি, দাম ৫৯ ডলার এতে নতুন টেকওভেন কেস ব্যবহার করা হয়েছে, যা আঁচড় ও দাগ প্রতিরোধী।
১৫ সেপ্টেম্বর আইওএস ২৬, আইপ্যাডওএস ২৬, ম্যাকওএস টাহো ২৬ ও ওয়াচওএস ২৬ উন্মুক্ত হবে। নতুন সফটওয়্যারে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, যা পুরো ইন্টারফেসকে স্বচ্ছ ও আকর্ষণীয় করবে।
-টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে










