অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না যে প্রতিদিন তাদের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সংগ্রহ করা হয়। গুগলের কার্যক্রম নজরদারি থেকে শুরু করে স্যামসাংয়ের ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপনসহ বেশকিছু সেটিংস ডিফল্টভাবে চালু থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক মিনিট সময় নিয়ে কিছু সাধারণ সেটিংস বদলালেই এ তথ্য সংগ্রহ অনেকটা কমানো যায় এবং গোপনীয়তা রক্ষা যায়।

গুগলের কার্যক্রম নজরদারি বন্ধ করা

গুগল ডিফল্টভাবে সার্চ, লোকেশন হিস্ট্রি, অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য এমনকি ইউটিউবে দেখা ভিডিও পর্যন্ত রেকর্ড করে রাখে। এতে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ টাইমলাইন তৈরি হয়। এটি বন্ধ করতে স্যামসাং ফোনে সেটিংস থেকে গুগলে গিয়ে ম্যানেজ ইউর গুগল অ্যাকাউন্টের ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসিতে যেতে হবে। সেখানে ‘হিস্ট্রি সেটিংসে’ থাকা ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’, ‘টাইমলাইন’ ও ‘ইউটিউব হিস্ট্রি’ অপশনগুলো বন্ধ বা পজ করে দিতে হবে। চাইলে আগে থেকে সংরক্ষিত তথ্যও মুছে ফেলা যাবে।

বিজ্ঞাপন আইডি রিসেট বা মুছে ফেলা

প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই একটি আলাদা বিজ্ঞাপন আইডি থাকে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন অ্যাপের কার্যকলাপ ট্র্যাক করা যায়। এটি বন্ধ করতে সেটিংসের সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসিতে যেতে হবে। সেখানে থাকা মোর প্রাইভেসি সেটিংসের অ্যাডসে গিয়ে ডিলিট অ্যাডভার্টাইজিং আইডি’ সিলেক্ট করতে হবে। চাইলে ‘রিসেট অ্যাডভার্টাইজিং আইডি’ করে পুরনো আইডি মুছে নতুন আইডি তৈরি করা যায়, এতে আগের ডাটার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র থাকে না।

স্যামসাংয়ের ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন বন্ধ করা

স্যামসাংয়ের কাস্টমাইজেশন সার্ভিস ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট তথ্য নিয়ে বিজ্ঞাপন ও সুপারিশ তৈরি করে। এটি বন্ধ করতে সেটিংস → স্যামসাং অ্যাকাউন্ট → সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি → প্রাইভেসি → কাস্টমাইজেশন সার্ভিসে গিয়ে টগল বন্ধ করে দিতে হবে। এর পরও বিজ্ঞাপন দেখা যাবে, তবে আর ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে থাকবে না।

ডায়াগনস্টিক ডাটা পাঠানো বন্ধ করা

স্যামসাং ডিভাইসগুলো মাঝে মাঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্র্যাশ লগ, পারফরম্যান্স রিপোর্টসহ বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক তথ্য পাঠায়। এটি বন্ধ করতে সেটিংস → সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি → মোর প্রাইভেসি সেটিংস → সেন্ড ডায়াগনস্টিক ডাটায় গিয়ে টগল বন্ধ করা যায়। এতে ফোনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব পড়ে না।

লোকেশন অনুমতি নিয়ন্ত্রণ

লোকেশন তথ্য সবচেয়ে সংবেদনশীল একটি বিষয়। অনেক অ্যাপ প্রয়োজন না থাকলেও এ অনুমতি চায়। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে সেটিংস → সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি → মোর প্রাইভেসি সেটিংস → পারমিশন ম্যানেজার → লোকেশন-এ গিয়ে কোন অ্যাপগুলো অনুমতি পেয়েছে তা দেখতে হবে। প্রয়োজনে ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ বা ‘ডোন্ট অ্যালাউ’ নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া ‘ইউজ প্রিসাইজ লোকেশন’ বন্ধ করলে অ্যাপগুলো কেবল আনুমানিক অবস্থান পাবে, সঠিক অবস্থান নয়।

গুগলের ইউজেজ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস বন্ধ করা

গুগল কেবল সার্চ ও লোকেশন নয়, আরো প্রযুক্তিগত তথ্য যেমন অ্যাপ পারফরম্যান্স, ব্যাটারির অবস্থা ইত্যাদিও সংগ্রহ করে। এ তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করতে সেটিংস → সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি → মোর প্রাইভেসি সেটিংস → গুগল → ইউজেজ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস-এ গিয়ে টগল বন্ধ করতে হবে। এতে ফোন থেকে তথ্য পাঠানো বন্ধ হবে।

নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি

এছাড়া ফোনের সফটওয়্যার আপডেট বা নতুন অ্যাপ ইনস্টল করলে প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। তাই কয়েক মাস অন্তর এসব সেটিংস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এ পরিবর্তনগুলো করলে গুগল ম্যাপস বা ইউটিউবের মতো সেবা ঠিকই ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু প্রযুক্তি জায়ান্ট কোম্পানির নজরদারি অনেকাংশে কমে যাবে। —মেকইউজঅব অবলম্বনে