যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাকাউন্ট টেকওভার বা অ্যাকাউন্ট দখল প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সাইবার অপরাধীরা অন্তত ২৬ কোটি ২০ লাখ বা ২৬২ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। সংস্থাটি এ বিষয়ে ৫ হাজার ১০০টির বেশি অভিযোগ পেয়েছে। খবর টেক রাডার।

এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণত আর্থিক অ্যাকাউন্ট, পেরোল সিস্টেম বা হেলথ সেভিংস অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার নিয়ে নেয় হ্যাকাররা। সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল ব্যবহার করে তারা প্রথমে ভুক্তভোগীদের লগইন তথ্য সংগ্রহ করে। ই-মেইল, ফোনকল বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী, কাস্টমার সাপোর্ট বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর লগইন তথ্য, এমনকি মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) কোড বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পর্যন্ত আদায় করে নেয়।

এফবিআই জানিয়েছে, ‘একজন সাইবার অপরাধী অ্যাকাউন্টের লগইন তথ্য দিয়ে দিতে বাধ্য করে। তারা অনেক সময় বট যাচাইকরণে ব্যবহৃত কোডও হাতিয়ে নেয়। এরপর এসব তথ্য ব্যবহার করে বৈধ ওয়েবসাইটে ঢুকে পাসওয়ার্ড রিসেট করে। শেষ পর্যন্ত পুরো অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ায় প্রতারণার ধরন আরো জটিল হয়েছে। ফিশিং ক্যাম্পেইন, ভুয়া ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞাপন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফোর্টিনেটের ফোর্টিগার্ড ল্যাবস জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৭৫০টির বেশি ক্ষতিকর ভুয়া ডোমেইন শনাক্ত করেছে। এসব ডোমেইন ব্ল্যাক ফ্রাইডে বা বড়দিনের মতো কেনাকাটার মৌসুমকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছিল। ওই সময় জরুরি বার্তার মতো দেখানো নোটিফিকেশন পাঠিয়ে ব্যবহারকারীদের লগইন তথ্য নেয়ার চেষ্টা করা হয়।

মোবাইল ফিশিংও বেড়েছে। অ্যামাজন বা টেমুর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ভুয়া নোটিফিকেশন পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভুয়া অনলাইন স্টোর তৈরি করে পেমেন্ট তথ্য সংগ্রহের ঘটনা বাড়ছে।

এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে বেশি শেয়ার করলে পাসওয়ার্ড অনুমান বা সিকিউরিটি প্রশ্নের উত্তর বের করা সহজ হয়। তাই সতর্ক থাকতে হবে।

সংস্থাটি বলেছে, অনলাইনে কম ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে হবে। অ্যাকাউন্ট নিয়মিত নজরে রাখতে হবে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে জটিল ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। লগইন করার আগে ইউআরএল ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। অচেনা বার্তা বা কল পেলে সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করাও জরুরি।