ডিজিটাল জগতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে সবাই অনুধাবন করে যে নিরাপত্তার জন্য চাই একটি ভালো পাসওয়ার্ড। এটি হতে হবে বড় অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন সমন্বিত। কারণ শক্তিশালী পাসকোড অনলাইন অ্যাকাউন্টকে নিরাপদ রাখতে অনেকটাই সহায়তা করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসওয়ার্ডও সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারে না। কারণ হ্যাকাররা নানা উপায়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করে।

তাই সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাসওয়ার্ডের সঙ্গে দরকার আরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেমন টু-স্টেপ অথেনটিকেশন, ফোন ও কম্পিউটার আপডেট রাখা এবং সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার মতো পদক্ষেপ—

● শক্তিশালী পাসওয়ার্ড কী

‘স্ট্রং পাসওয়ার্ড’ বলতে বোঝায়, সেখানে থাকবে বড় অক্ষর, ছোট অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নের সমন্বয়। পাসওয়ার্ডটি যদি দীর্ঘ করা যায়, যেমন কমপক্ষে ১২ বা ১৬ অক্ষর, তাহলে হ্যাকারদের পক্ষে এটা আন্দাজ করা বেশ কঠিন হয়। কিন্তু পাসওয়ার্ড যত জটিলই হোক, কিছু সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে পাসওয়ার্ডকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই অপরাধীরা সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করতে পারে। যেমন—

● ফিশিং আক্রমণ বা লগইন তথ্য হাতিয়ে নেয়া

অনলাইন জগতে নিরাপত্তার জন্য পাসওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক সময় তা অরক্ষিত হয়ে যাচ্ছে ফিশিং হামলায়। সাইবার আক্রমণের সবচেয়ে পুরনো মাধ্যমগুলোর মধ্যে একটি হলো ফিশিং। প্রতারকরা অন্য কারো বেশ ধরে যে কাউকে গোপন তথ্য প্রদানে উৎসাহিত অথবা বাধ্য করে। এক্ষেত্রে সাধারণত অপরাধীরা নকল ওয়েবসাইট বা লিংক তৈরি করে, যা দেখতে অনেকটাই আসল ওয়েবসাইটের মতো মনে হয়। এসব লিংকে পাসওয়ার্ড ও ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া হলে অপরাধীরা মুহূর্তের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি দখল করে নিতে পারে। সাধারণত টেক্সট মেসেজ, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্ট, মেসেজের মাধ্যমে ফিশিং হামলা করা হয়। পাসওয়ার্ড বা ক্রেডিট কার্ড নম্বর পাওয়ার চেষ্টায় প্রতারকরা সাধারণত নামকরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে। তাই সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা ও লগইন তথ্য অন্য কারো সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

● কি-লগার বা চুপচাপ পাসওয়ার্ড চুরির ম্যালওয়্যার

কি-লগার হলো এক ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার। ব্যবহারকারী কম্পিউটার বা মোবাইলে যা কিছু টাইপ করে, তা গোপনে রেকর্ড করে ম্যালওয়্যারটি। ফলে পাসওয়ার্ড যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কি-লগার তা সহজেই হাতিয়ে নিতে পারে। যদিও কি-লগার শনাক্ত করার কিছু উপায় আছে, কিন্তু এগুলো সবসময় কার্যকর হয় না। কারণ উন্নত মানের ম্যালওয়্যার খুবই দক্ষতার সঙ্গে লুকিয়ে থাকে। তাই অনলাইনে নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত ডিভাইস স্ক্যান করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।

● ক্রিডেনশিয়াল স্টাফিং বা চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট হ্যাক

ক্রিডেনশিয়াল স্টাফিং এমন একটি হামলার পদ্ধতি, যেখানে অপরাধীরা আগে থেকে চুরি করা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অন্য ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাই যদি একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা হয়, তাহলে হ্যাকাররা খুব সহজেই একাধিক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে। এসব হামলা স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় দ্রুত চলে, তাই একবার কোনো একটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেই অন্য সব অ্যাকাউন্ট ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই শ্রেয়।

● শোল্ডার সার্ফিং বা চোখের সামনে পাসওয়ার্ড চুরি

যখন কোনো ব্যক্তি অন্যকে পাসওয়ার্ড টাইপ করা অবস্থায় দেখার চেষ্টা করে, তাকে বলে শোল্ডার সার্ফিং। এক্ষেত্রে কখনো আবার লুকানো ক্যামেরা দিয়েও পাসওয়ার্ড ধারণ করা হয়। পাসওয়ার্ড যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কেউ যদি তা চোখে দেখে ফেলে তাহলে তা আর নিরাপদ থাকে না। এ ধরনের হামলা বিশেষ করে এটিএম বুথ বা জনসাধারণের জায়গায় বেশি ঘটে।

মেকইউজঅব অবলম্বনে