পোর্টেবল অ্যাপ হলো এমন সফটওয়্যার, যা কোনো কম্পিউটারে ইনস্টল না করেও সরাসরি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ থেকে চালানো যায়। যারা একাধিক কম্পিউটারে কাজ করেন বা প্রায়ই অন্যের ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী। সাধারণ অ্যাপের মতো সিস্টেমে ছড়িয়ে না থেকে পোর্টেবল অ্যাপ সব ফাইল এক ফোল্ডারে রাখে। ফলে এটি সহজে ব্যবহারযোগ্য, নিরাপদ ও বহনযোগ্য। মার্কিন প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম স্ল্যাশগিয়ার তাদের প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি দরকারি পোর্টেবল অ্যাপের তালিকা প্রকাশ করেছে, যা দৈনন্দিন কাজে খুবই সহায়ক হতে পারে। সেগুলো নিয়েই আজকের আলোচনা—
ফারডিয়াম: একাধিক মেসেজিং অ্যাপ একসঙ্গে ব্যবহার করা অনেকের জন্য ঝামেলার। ফারডিয়াম অ্যাপ এ সমস্যা দূর করে সব মেসেজিং প্লাটফর্মকে একত্র করে। এটি হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামসহ জনপ্রিয় অ্যাপগুলো সমর্থন করে। এমনকি জিমেইল বা প্রোটনমেইলের মতো ই-মেইল ক্লায়েন্টও এতে যুক্ত করা যায়। ফলে আলাদা আলাদা অ্যাপ খুলতে হয় না। তবে ফারডিয়ামের পোর্টেবল সংস্করণ তুলনামূলকভাবে বেশি মেমোরি ব্যবহার করে, আর এতে ব্যক্তিগত তথ্য থাকতে পারে, তাই ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে। ব্যক্তিগত ডাটা সুরক্ষিত রাখতে ইউএসবি ড্রাইভে পাসওয়ার্ড লক দেয়া জরুরি।
অপেরা: যারা নিরাপদ ও ফিচারসমৃদ্ধ ওয়েব ব্রাউজার খুঁজছেন, তাদের জন্য অপেরার পোর্টেবল সংস্করণ একটি ভালো বিকল্প। এতে ইনস্টল সংস্করণের সব সুবিধা রয়েছে—বিল্ট-ইন অ্যাড ব্লকার, ভিপিএন, মেসেঞ্জার ইত্যাদি। এর মাধ্যমে নিজের ব্রাউজিং হিস্টরি, বুকমার্ক ও সেটিংস নিরাপদভাবে ইউএসবি ড্রাইভে রাখা যায়। ফলে অন্য কম্পিউটারে ব্যবহার করলেও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থাকে না।
বিটওয়ার্ডেন: পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার না করলে এখনই শুরু করা উচিত। বিটওয়ার্ডেনের পোর্টেবল সংস্করণ দিয়ে যেকোনো উইন্ডোজ কম্পিউটারে নিরাপদভাবে ও বিনামূল্যে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যায়। এটি সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স এবং শক্তিশালী এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, ফলে ডাটা সুরক্ষিত থাকে। তবে স্ল্যাশগিয়ার সতর্ক করে বলেছে, এ অ্যাপ ব্যবহারে ফ্ল্যাশ ড্রাইভ সুরক্ষিত রাখতে হবে। ফ্ল্যাশ ড্রাইভ হারিয়ে গেলে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কোল্ড টার্কি রাইটার: যারা লেখার সময় মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না, তাদের জন্য এ অ্যাপ বিশেষভাবে সহায়ক। এটি চালু করলে কম্পিউটার সম্পূর্ণভাবে লেখার মোডে চলে যায়। স্ক্রিনে শুধুই একটি ফাঁকা পৃষ্ঠা দেখা যায়। ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট সময় বা শব্দসংখ্যা পূর্ণ না করা পর্যন্ত অন্য কিছু করতে পারেন না। এটি মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যাপটি ডিফল্টভাবেই পোর্টেবল এবং উইন্ডোজ ও ম্যাক—দুই প্লাটফর্মেই কাজ করে।
এআইএমপি: অনেকে এখনো অফলাইনে নিজস্ব অডিও ফাইল শুনতে পছন্দ করেন। তাদের জন্য এআইএমপি একটি উপযুক্ত মিউজিক প্লেয়ার। এটি বিভিন্ন অডিও ফরম্যাট সমর্থন করে এবং ইন্টারনেট রেডিও বা পডকাস্টও চালানো যায়। পোর্টেবল সংস্করণটি ফ্ল্যাশ ড্রাইভে রাখলে যেকোনো কম্পিউটারে সহজেই গান শোনা যায়। নিরাপদ ব্রাউজিং থেকে শুরু করে মনোযোগী লেখালেখি—এ পাঁচটি পোর্টেবল অ্যাপ যেকোনো ফ্ল্যাশ ড্রাইভকে এক শক্তিশালী ডিজিটাল টুলকিটে পরিণত করতে পারে।









