চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু জুনে বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলারে, যা মে মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। সেমিকন্ডাক্টর বিক্রিতে এ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল এশিয়া-প্যাসিফিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজার। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এসআইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এসআইয়ের তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক চিপ শিল্প ২০২৩ সালে অতিরিক্ত উৎপাদন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মতো বড় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিল। দুই বছর বাদে সাম্প্রতিক বিক্রির প্রবৃদ্ধিকে শিল্পটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন নিউফার বলেন, ‘বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর চাহিদা এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।’
সেমিকন্ডাক্টর বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেকইনসাইটস বলছে, আগামী এক দশকে বাজারটি আকার বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। এ প্রবৃদ্ধির মূল প্রভাবক হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং পুরনো ফোন ও ডিভাইস বদলে নতুন কেনার প্রবণতা।
এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আমদানীকৃত সেমিকন্ডাক্টরের ওপর প্রায় ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে চিপের দাম দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও গাড়িসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হবে। অধিকাংশ চিপই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলো এ শুল্কনীতি থেকে মুক্ত থাকবে।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, চিপ উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের চেষ্টা করতে গিয়ে বিলম্ব ঘটতে পারে অথবা শুল্কের খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে ইলেকট্রনিকসের দাম বাড়তে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ফের চাপের মুখে পড়তে পারে।
বর্তমান যুগে বেশির ভাগ যন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সেমিকন্ডাক্টর বা মাইক্রোচিপ। ছোট ছোট চিপ আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ভিডিও গেম কনসোল, হার্ট পেসমেকার এবং সোলার প্যানেলে ব্যবহৃত হয় এটি। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনসহ বিশ্বের বড় বড় অঞ্চল সেমিকন্ডাক্টরের জন্য ব্যাপকভাবে তাইওয়ানের ওপর নির্ভরশীল। তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) বিশ্বের অর্ধেকের বেশি চিপ সরবরাহ করে। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি বর্তমানে এনভিডিয়া, অ্যাপল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য চিপ তৈরি করে থাকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মোবাইল চিপ ডিজাইনে বিশেষ মনোযোগ দেয়ায় সম্প্রতি এনভিডিয়া ও কোয়ালকমের মতো কোম্পানিগুলো ভালো প্রবৃদ্ধি দেখেছে। কারণ ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও জেনারেটিভ এআইয়ের মতো নতুন প্রযুক্তি উন্নত এবং শক্তিসাশ্রয়ী চিপের চাহিদা বাড়াচ্ছে। প্রায় ৬০ শতাংশ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি বলছে, এসব প্রযুক্তি তাদের মূল ব্যবসায়িক লক্ষ্যকে প্রভাবিত করছে।










