যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপনে সংগ্রহ করছে বলে দাবি করেছে চীনের সাইবারসিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্স (সিসিআইএ)। নতুন এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হ্যাকিং টুল ব্যবহার করে সিম কার্ড, অপারেটিং সিস্টেম ও মোবাইল অ্যাপে প্রবেশ করছে। খবর গিজচায়না।
সিসিআইএর তথ্য বলছে, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস ও মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অবস্থান ও কার্যক্রম নজরদারি করা হয়। সংগৃহীত ডাটার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত ও অ্যাকাউন্টের তথ্য, ডিভাইসের অবস্থানের রেকর্ড। তবে নজরদারির বিষয়ে ব্যবহারকারীরা কিছুই জানেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিসিআইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপলের আইফোন ব্যবহারকারীরা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান লক্ষ্য। এতে দাবি করা হয়েছে, তারা ‘জিরো-ক্লিক’ হামলা চালিয়ে ফোন হ্যাক করে। এটি এমন এক পদ্ধতি, যেখানে ব্যবহারকারীর কিছু ক্লিক করা বা খোলার প্রয়োজন ছাড়াই অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় হ্যাকাররা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিরো-ক্লিক হামলায় হ্যাকাররা ব্যক্তির আইমেসেজ অ্যাপে স্পাইওয়্যার ইনস্টল করা একটি গোপন বার্তা পাঠায়। একবার ফোনে ঢুকতে পারলে এই স্পাইওয়্যার বার্তা, কল রেকর্ড, ছবি এবং এমনকি রিয়েল টাইম লোকেশনও চুরি করতে পারে। এ পদ্ধতিতে আইফোন ব্যবহারকারীদের অজান্তে দীর্ঘমেয়াদে নজরদারিতে রাখা সম্ভব।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি শুধু মোবাইল ফোনেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের হ্যাকিংয়ের তালিকায় রয়েছে বড় আইটি কোম্পানির ডাটা সেন্টার, মোবাইল নেটওয়ার্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং ইউএসবি কেবল ও ডাটা স্থানান্তর সরঞ্জাম।
এভাবে হ্যাকিং চালিয়ে যেকোনো সংস্থা একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করা আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিসিআইএ।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হামলা সব মোবাইল ব্যবহারকারীকে ঝুঁকিতে ফেলছে। মার্কিন সংস্থাগুলো স্পাই টুল, ট্রোজান ভাইরাস ও গোপন পদ্ধতি ব্যবহার করে মোবাইল ফোন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারকেও নজরদারির আওতায় রাখতে পারে। তাদের মতে, এটি নিরাপদ ওয়েব ব্যবহার ব্যাহত করে ব্যক্তিগত তথ্যে হস্তক্ষেপ করে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যদি এ কার্যক্রম বন্ধ না হয়, তবে আরো বেশি ব্যবহারকারী পরিচয় চুরি ও তথ্যফাঁসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।










