২০২৫-৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ও প্রযুক্তি পরিষেবা খাতের আয় গড়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়বে। এ ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালে খাতটির আকার ৫ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাজার গবেষণা সংস্থা ওমডিয়া।

সংস্থাটি বলছে, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং সিক্সজি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বড় ধরনের বিনিয়োগই এ ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। তিনদিক থেকেই উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়ায় পুরো খাতের আয় ক্রমাগত বাড়ছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রচলিত টেলিকম খাতের (ভয়েস কল, ইন্টারনেট, ডাটা সংযোগ) আয় ধীরে ধীরে প্রতি বছর গড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, অ্যাপল, মেটা ও মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি খাতের আয় প্রতি বছর বাড়তে পারে গড়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হারে। ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বিক যোগাযোগ খাতের আয়ের প্রায় ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রযুক্তি প্লাটফর্ম থেকে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, যোগাযোগ খাতের মধ্যে টেলিকম অপারেটর, যেমন ফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী, কেবল ও ব্রডব্যান্ড সংস্থা, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সংস্থাসহ প্রযুক্তি প্লাটফর্মগুলো অন্তর্ভুক্ত।

ওমডিয়ার রিসার্চ ডিরেক্টর ডারিও তালমেসিও বলেছেন, ‘টেলিকম অপারেটররা এখন ভবিষ্যৎকেন্দ্রিক বিনিয়োগের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।’

কোম্পানিগুলো সিক্সজি, এআই, ক্লাউড ও নতুন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে যেন দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক থাকে।

তিনি আরো বলেন, ‘সামনে সিক্সজি আসছে এবং এআই অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ছে, তাই নেটওয়ার্ক ব্যবসার মডেলও পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে পরিমাণের (ডাটা বা মিনিট) ভিত্তিতে আয় হতো, এখন মূল্য বা সুবিধার ভিত্তিতে সংযোগ দেয়ার দিকে ঝোঁক বাড়ছে। অর্থাৎ গ্রাহককে আরো উন্নত ও প্রয়োজনমতো সেবা দেয়া হচ্ছে।’

ওমডিয়ার পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে টেলিকম খাতের বিনিয়োগ ব্যয় ৪০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে, যা প্রতি বছর গড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ খরচ ছাড়াবে ৫৪ হাজার কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, সিক্সজি প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে ২০২৮ সালের পর থেকে যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগের ধারা মূলত মোবাইল নেটওয়ার্কের দিকে স্থানান্তরিত হবে। পাশাপাশি ফিক্সড টেলিকম নেটওয়ার্কে (যেমন ল্যান্ডলাইন, হোম ব্রডব্যান্ড) বিনিয়োগ ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। কারণ এক্ষেত্রে নতুন গ্রাহক বা ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুব বেশি বাড়ার তেমন সুযোগ নেই।

পাশাপাশি এআই অবকাঠামো, ক্লাউড সেবা এবং ডিজিটাল নীতিমালা টেলিকম অপারেটরদের ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণ এবং বিশেষ হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী করছে। প্রচলিত টেলিকম খাতে বিনিয়োগের মাত্রা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কমতে থাকলেও মোবাইল নেটওয়ার্ক আপগ্রেডের কারণে এরপর তা বৃদ্ধি পেতে পারে। আয় ও বিনিয়োগের দিক থেকে উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম ইউরোপ এগিয়ে থাকলেও মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।