বিশ্বের বৃহত্তম পার্টিকেল অ্যাক্সিলেটর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের (এলএইচসি) পরবর্তী সংস্করণ হিসেবে ফিউচার সার্কুলার কোলাইডার (এফসিসি) নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পারমাণবিক গবেষণা সংস্থা সার্ন।

সোমবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত এফসিসি প্রকল্পের সম্ভাব্য সময়, পরিবেশগত প্রভাব, গবেষণার লক্ষ্য ও আনুমানিক ব্যয়সহ বিভিন্ন দিক বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ৯১ কিলোমিটার পরিধির এ কোলাইডারটি ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর কিছু অংশ লেক জেনেভার নিচ দিয়ে যাবে।

এ মহা প্রকল্পের ধারণা প্রথম আলোচনায় আসে ২০১৪ সালের দিকে। প্রায় এক দশকব্যাপী গবেষণার পর প্রকাশিত এ সমীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন নয়।

FCC-min

ফিউচার সার্কুলার কোলাইডারের সম্ভাব্য অবস্থান ছবিঃ সার্ন

সমীক্ষায় কোলাইডারের প্রস্তাবিত রুট, পরিবেশগত দিক বিবেচনা ও আনুমানিক খরচসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এফসিসি নির্মাণে প্রথম পর্যায়ে ইলেকট্রন-পজিট্রন সংঘর্ষের জন্য খরচ হবে প্রায় ১৫ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক বা প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইউরোপীয় সংস্থা সার্ন জানিয়েছে, এফসিসি প্রকল্পটি ক্রায়োজেনিক্স এবং সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকের মতো প্রযুক্তির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি হিগস-বোসন কণার বিস্তর গবেষণার সুযোগ করে দেবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিগস-বোসন কণা বিগ ব্যাং পরবর্তী পদার্থ গঠনের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায় ২০৪০-এর দশকে চালু হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এফসিসি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় কি না।

— এপি