টেলিযোগাযোগ খাতে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালুসহ অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বিভিন্ন কোম্পানির কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ভারত। তবে এর বিপরীতে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-ওয়েস্ট) ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর এবিপিলাইভ।

ভারতে বর্তমানে প্রতি বছর ৩২ লাখ টন ই-ওয়েস্ট তৈরি হয়, যার মাত্র ৩০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়ে থাকে। ভোক্তা পর্যায়ে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে সামনের বছরগুলোয় বর্জ্যের পরিমাণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা। এ পরিমাণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাও যেমন প্রকট, তেমনি এ খাতের উন্নয়নে সমূহ সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতেও ভোক্তা পর্যায়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ছে। এর সঙ্গে বর্জ্যকে রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য হিসেবে তৈরি করার জন্য উন্নত প্রযুক্তির চাহিদাও বাড়ছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, ই-বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব যেমন কমাবে, পাশাপাশি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য উপাদানগুলোকেও সহজে আলাদা করা যাবে। পুনঃপ্রক্রিয়াজাতের জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ই-বর্জ্য থেকে ক্ষতিকর উপাদান বা পদার্থ ও পুনর্ব্যবহার উপযোগী উপাদানগুলোকে আলাদা করে ফেলে। বিশ্বব্যাপী ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে এনডেভার রিসাইক্লার্স। 

কোম্পানিটি ভারতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরিতে আগ্রহী। এটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পুনর্ব্যবহারযোগ্য পদ্ধতিতে কাজ করে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব কমানোর পাশাপাশি সম্পদের ঘাটতি মোকাবেলা সম্ভব। এনডেভার রিসাইক্লার্স শুধু যে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের সর্বোচ্চ মান মেনে চলে তা নয়, সেই সঙ্গে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত শিল্পের জন্য নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করে থাকে।

এনডেভার রিসাইক্লার্সের কার্যক্রমের মূলে রয়েছে হাসানগড়ের (হরিয়ানা) অত্যাধুনিক ই-বর্জ্য শোধনাগার। কেন্দ্রটি টেকসই ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অন্যতম মডেল হয়ে উঠেছে। এখানে বড় পরিসরে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করা হয় এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদানকে সম্পদে রূপান্তর করে থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উচ্চ দক্ষতা এবং কার্যকারিতা অর্জনে হাসানগড়ের উন্নত যন্ত্রপাতি ও অত্যাধুনিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তি ও নীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা অর্জনে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা জানান, স্থানীয় সম্প্রদায় থেকে শুরু করে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ই-বর্জ্য নিষ্পত্তিতে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বুঝতে হবে। সেই সঙ্গে পুনর্ব্যবহারকে সমর্থন করার মাধ্যমে পরিবেশগত বিরূপ প্রভাব হ্রাস হয় এমন বিষয়গুলো চর্চা করতে হবে।

অন্যদিকে চলতি বছরের মার্চে গ্লোবাল ই-ওয়েস্ট মনিটরিং রিপোর্টে ই-বর্জ্যের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ থেকে রক্ষা পেতে শিগগিরই উদ্যোগ নেয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ (ইউএনআইটিএআর) ও ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়নে (আইটিইউ) প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে ক্রমে বেড়ে চলা ইলেকট্রনিক বর্জ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া প্রতি বছর ২৬ লাখ টন বর্জ্য বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

ইলেকট্রনিক বর্জ্য হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ফেলে দেয়া বা বাতিল অংশ। এর মধ্যে সেলফোন, ল্যাপটপের ব্যাটারি, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও টেলিভিশন রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, প্রতি বছর ই-বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। ২০২২ সালে ৬ কোটি ২০ লাখ টন বর্জ্য তৈরি হয়েছে। সে হিসেবে ২০৩০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক পর্যায়ে ই-বর্জ্যের পরিমাণ ৮ কোটি ২০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২২ সালে বিপুল বর্জ্য তৈরি হলেও এর মাত্র ২২ দশমিক ৩ শতাংশের তথ্য অফিশিয়াল রেকর্ডে প্রবেশ করেছে।