‘স্প্যাম অ্যান্ড মিনিমাম ফাংশনালিটি’ নীতি হালনাগাদ করছে টেক জায়ান্ট গুগল। এ নীতির অধীনে প্লে স্টোরে থাকা অ্যাপগুলোর উচ্চ মানদণ্ড ও ব্যবহারকারীদের উন্নত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হবে। যেসব অ্যাপ মানদণ্ডের শর্ত পূরণ করতে পারবে না, সেগুলো সরিয়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি, যা ৩১ আগস্ট থেকে কার্যকর করা হবে। খবর ফোর্বস। 

কিছু অ্যাপ আছে যেগুলোয় শুধু লেখা বা পিডিএফ ফাইল থাকে। অথবা এসব অ্যাপে কন্টেন্টের পরিমাণ বেশ কম। এতে অ্যাপের বৈচিত্র্য নষ্ট হয়। এ রকমটা হলে প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডিলিট করবে গুগল। 

অন্যদিকে কোনো অ্যাপ থেকে যদি ব্যবহারকারী উপযুক্ত অভিজ্ঞতা না পান তাহলেও ডিলিট করা হবে। এমন কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলোয় গ্রাফিকসের ব্যবহার যথেষ্ট কম। অথবা অ্যাপগুলো আদতে সে রকম কোনো কাজের নয়, নেই তেমন কোনো তথ্য। এ ধরনের অ্যাপও ডিলিট করবে গুগল। 

পাশাপাশি গুণগত মান ও নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে কোম্পানিটি। প্লে স্টোরে এমন অনেক অ্যাপ আছে যেগুলো স্প্যাম বা ফিশিংয়ের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। এসব অ্যাপের মাধ্যমে ম্যালওয়্যারও ছড়িয়ে থাকে। এজন্য অ্যাপের উদ্দেশ্য, কার্যাবলি ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ অ্যাপগুলো ডিলিট করবে গুগল।

প্লে স্টোরে এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে যেগুলো অসংখ্যবার ডাউনলোড করা হয়েছে। কিন্তু গুগল যে মানদণ্ডের কথা বলছে তা যদি ওইসব জনপ্রিয় অ্যাপ পূরণ করতে না পারে, তাহলে সেগুলো ডিলিটের তালিকায় চলে যাবে। 

ডেভেলপারদের গুগল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের তৈরি অ্যাপগুলোকে অবশ্যই স্থিতিশীল, কার্যকর, প্রতিক্রিয়াশীল হতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের উন্নত অভিজ্ঞতা দিতে হবে। অ্যাপ ডিলিটের ঘোষণা বেশ খানিকটা সময় হাতে নিয়েই দিয়েছে গুগল। তাই ডেভেলপারদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছে কোম্পানিটি। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে গুগল প্লে স্টোরে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর অ্যাপ ৬০ কোটি বার ডাউনলোড করা হয়েছে। ফলে কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্যাসপারস্কির তথ্যমতে, গুগল প্লে স্টোর থেকে ক্ষতিকর অ্যাপ নামানোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘বিউটি স্লিমিং ফটো এডিটর’, ‘ফটো ইফেক্ট এডিটর’ ও ‘জিআইএফ ক্যামেরা এডিটর প্রো’। প্রতিটি অ্যাপই ছয় লাখ বারের বেশি ডাউনলোড করা হয়েছে।