ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই মানুষকে শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সক্ষম এক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে, যার নাম হু-ফাই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কাজ করা এ পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিটি সাধারণ ওয়াই-ফাই সংকেতকে বায়োমেট্রিক স্ক্যানারে রূপান্তর করতে পারে। নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মাত্রা বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর গ্যাজেটস থ্রিসিক্সটি।

অনলাইন গবেষণা প্লাটফর্ম আর্কাইভে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হু-ফাই সাধারণ ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মানুষের গতিবিধি ও উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। এ প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে এক ধরনের ট্রান্সফরমার-ভিত্তিক নিউরাল নেটওয়ার্ক, যা এলএলএমের মতো কাজ করে।

মানুষ যখন কোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় চলাফেরা করে, তখন তার শরীর থেকে প্রতিফলিত সংকেতের গতি ও শক্তিতে যে পরিবর্তন ঘটে, তা থেকে তৈরি হয় এক ধরনের ইউনিক প্যাটার্ন বা স্বাক্ষর। এ প্যাটার্ন ঠিক মানুষের আঙুলের ছাপ বা চোখের রেটিনার মতোই বায়োমেট্রিক স্বাক্ষর হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রশিক্ষিত হু-ফাই সিস্টেম একজন মানুষকে তার গতিবিধির মাধ্যমে শনাক্ত করতে পারে, এমনকি ওই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পর একই জোনে ফিরে এলেও। এটি শরীরের নড়াচড়া বিশ্লেষণ করে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজও শনাক্ত করতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এ প্রযুক্তির জন্য একটি সাধারণ ট্রান্সমিটার ও তিনটি অ্যান্টেনাযুক্ত রিসিভারই যথেষ্ট, যা একে সাশ্রয়ী করে তুলেছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোনো ব্যক্তি দেয়ালের ওপাশে থেকেও স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলে ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ নিখুঁতভাবে তাকে শনাক্ত করতে পেরেছে হু-ফাই।

এ প্রযুক্তি কাপড় পাল্টালেও বা পিঠে ব্যাগ থাকলেও শনাক্তকরণে বিভ্রান্ত হয় না। একসঙ্গে নয়জন ব্যক্তি পর্যন্ত শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম এটি। আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো, হু-ফাই সহজে ধরা পড়ে না, কারণ এতে কোনো ইনফ্রারেড, রাডার বা দৃশ্যমান আলো ব্যবহার হয় না। এটি প্যাসিভ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (আরএফ) সেন্সিং ব্যবহার করে, যা একে গোপনে কাজ করতে সাহায্য করে।

তবে প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হয়নি। তার পরও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অদৃশ্য নজরদারি প্রযুক্তি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত আইন-কানুন প্রণয়নেরও তাগিদ রয়েছে।