বিশ্বব্যাপী মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো প্রতি বছর ১৫-১৯ বিলিয়ন বা ১-২ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করছে সাইবার নিরাপত্তায়। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খরচ ৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। শিল্প সংস্থা জিএসএমএর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য রেজিস্টার।

জিএসএমএ বলছে, টেলিকম শিল্প নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তৈরি অপরিকল্পিত নিয়ম-কানুনের ফলে মোবাইল অপারেটরদের খরচ বড়ছে। একই সঙ্গে প্রকৃত সাইবার ঝুঁকির দিকে মনোযোগ কমছে। টেলিকম সংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন নিয়ম-কানুন আছে। কিন্তু এসব নিয়ম যদি জটিল, অসংগত বা অতিরিক্ত কঠোর হয়, তাহলে অপারেটররা সেগুলো মেনে চলতে অনেক অর্থ, সময় ও শ্রম খরচ করে। এতে তারা সত্যিকার সাইবার হুমকি মোকাবেলায় মনোযোগ দিতে পারে না।

‘দ্য ইম্প্যাক্ট অব সাইবার সিকিউরিটি রেগুলেশন অন মোবাইল অপারেটর’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী মোবাইল অপারেটররা প্রায়ই অপরিকল্পিত, অসংগত বা অতিরিক্ত কড়া নিয়ম-কানুনের মুখোমুখি হয়। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়ে এবং প্রকৃত সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলা কঠিন হয়ে যায়।

জিএসএমএর নীতি ও নিয়ন্ত্রণ প্রধান মিখায়েলা অ্যাংগনিয়াস বলেন, ‘ডিজিটাল জীবনের মূল স্পন্দন হলো মোবাইল নেটওয়ার্ক। দৈনন্দিন ইন্টারনেট ব্যবহার, ফোনকল, মেসেজ, ব্যাংকিং, কাজ বা অন্যান্য অনলাইন কার্যক্রম সবই এর ওপর নির্ভরশীল। তাই বিশ্বব্যাপী সাইবার হুমকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপারেটররা সমাজকে নিরাপদ রাখতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, তবে নিয়ম-কানুনের মাধ্যমে অবশ্যই এ প্রচেষ্টাকে সাহায্য করা উচিত, বাধাগ্রস্ত নয়।’

মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ডাটার সুরক্ষার জন্য নিয়মগুলো সুসংগঠিত না হলে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং অপারেটরদের কাজের দক্ষতা কমে।

অ্যাংগনিয়াস বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা সবার দায়িত্ব। শুধু সরকার বা কোম্পানিই নয়, নাগরিক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অপারেটর মিলে এটি রক্ষা করতে হবে। সবাই যদি একই নীতি ও নিয়ম মেনে চলে, তাহলে কাজের মধ্যে সমন্বয় হবে। এতে করে ডিজিটাল পরিবেশ আরো নিরাপদ হয়ে ওঠে।’