বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় একটি বড় আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাতিসংঘ। চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত এ চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বের ৬৫টি দেশ যেকোনো সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধের একত্রে কাজ করবে এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। তবে চুক্তিটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। খবর নিক্কেই এশিয়া।
ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়তে স্বাক্ষরিত জাতিসংঘ সাইবার অপরাধ চুক্তিটি কেবল তখনই কার্যকর হবে, যখন কমপক্ষে ৪০টি দেশ এটি অনুমোদন করবে। চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে ১০টি অপরাধকে ‘অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে হ্যাকিং, জালিয়াতি ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধ। অন্য কোনো সদস্য দেশ অনুরোধ করলে দেশগুলোকে ই-মেইলসহ প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। সমর্থকরা বলছেন, এ বৈশ্বিক সহযোগিতা সাইবার অপরাধ কমাতে সাহায্য করবে, তবে কিছু মানুষ মনে করছে এটি অত্যধিক নজরদারির সুযোগ বাড়াবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমাদের যেকোনো দুর্বলতা সবাইকে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই আমাদের শক্তিশালী ও সমন্বিত বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া দরকার।’
জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অফিস জানিয়েছে, সরকারগুলো প্রায়ই ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহে সমস্যায় পড়ে কারণ তা মুছে ফেলা যায়, বিদেশে সংরক্ষণ করা যায় বা ফেসবুক, এসএপির মতো কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকে। চুক্তি অনুযায়ী, দেশগুলোকে আইন প্রণয়ন করতে হবে, যাতে সার্ভিস প্রোভাইডাররা তথ্য অনুসন্ধান ও বাজেয়াপ্তে সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকে এবং এটি গোপন রাখা হয়।
তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ চুক্তির সমালোচনা করেছে। সাইবারসিকিউরিটি টেক অ্যাকর্ড বলেছে, চুক্তি খুব বিস্তৃত, যা সরকারের জন্য মানুষকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নজরদারি করার সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। চুক্তি এনক্রিপ্ট করা ডিভাইসে প্রবেশ বাধ্য করার কারণে সিস্টেমের নিরাপত্তাও কমিয়ে দিতে পারে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনসহ আরো ১৭টি সংস্থা বলেছে, সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য অনেক ঝুঁকিতে পড়তে পারে, এমনকি নির্দিষ্ট অপরাধ তদন্তের বাইরে। তারা আরো বলেছে, চুক্তি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক মতভেদ ও অন্যান্য মানবাধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
এ চুক্তি ‘হোয়াইট হ্যাট’ হ্যাকার, হুইসলব্লোয়ার, প্রযুক্তি কর্মী বা সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম নয় বলে সমালোচনা রয়েছে। এছাড়া চুক্তিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মতো সহায়তা দেয়ার ধারা রয়েছে।










