বর্তমান যুগে স্মার্টফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য একটি অংশে পরিণত হয়েছে। আগে ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করতে হতো, এখন এক স্মার্টফোনেই প্রায় সব ধরনের ডিভাইসের সুবিধা পাওয়া যায়। স্মার্টফোনের এ পরিবর্তন প্রযুক্তির ব্যবহার, কাজের ধরন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকেই নতুন রূপ দিয়েছে। নিচে এমন ১০টি ডিভাইসের কথা তুলে ধরা হলো যেগুলোর স্থান স্মার্টফোন দখল করে নিয়েছে—

পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরা

একসময় ডিজিটাল ফটোগ্রাফির জন্য পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরা ছিল বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন স্মার্টফোনেই মিলছে উন্নত মানের ক্যামেরা ও এআই-চালিত নানা ফিচার, যা আলাদা ক্যামেরার প্রয়োজন অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে স্মার্টফোন কেনার সময় অধিকাংশ ক্রেতার প্রথম চাওয়া থাকে একটি ভালো মানের ক্যামেরা। তবে একেবারে পেশাদার ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে এখনো ডিএসএলআর ও মিররলেস ক্যামেরার ভালো চাহিদা রয়েছে।

জিপিএস ডিভাইস

একসময় গারমিন ও টমটমের মতো জিপিএস ডিভাইস ছিল ভ্রমণকারীদের ভরসার নাম। গাড়ির ড্যাশবোর্ডে বসানো এসব ডিভাইস ব্যবহার করে গন্তব্য খোঁজা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে প্রযুক্তির ধরন। এখন স্মার্টফোনেই আছে গুগল ম্যাপস, অ্যাপল ম্যাপসসহ নানা নেভিগেশন অ্যাপ। এসব অ্যাপে রয়েছে রিয়েল টাইম ট্রাফিক আপডেট, রুট পরিবর্তনের পরামর্শ, নিকটবর্তী স্থানের তথ্যসহ নানা সুবিধা। ফলে আলাদা জিপিএস ডিভাইসের প্রয়োজন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অনেকটাই কমে গেছে।

এমপি থ্রি প্লেয়ার

এককালে গান শোনার জন্য এমপি থ্রি প্লেয়ারের বহুল ব্যবহার ছিল। এখন স্ট্রিমিং সেবা যেমন স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকের মাধ্যমে অসংখ্য গান সহজে পাওয়া যায়, ফলে এমপি থ্রি প্লেয়ারের ব্যবহার কমেছে।

অ্যালার্ম ক্লক

আলাদা অ্যালার্ম ঘড়ির পরিবর্তে স্মার্টফোনেই এখন অ্যালার্ম, স্নুজ, ঘুমের ট্র্যাকিং ইত্যাদি সুবিধা পাওয়া যায়। যদিও ঘুমের ভালো অভ্যাসের জন্য বিশেষজ্ঞরা ফোনকে শোয়ার ঘর থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন।

ফ্ল্যাশলাইট

স্মার্টফোনের এলইডি ফ্ল্যাশ এখন অনেকের কাছেই টর্চলাইটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। হঠাৎ অন্ধকারে আলো দরকার হলে ফোনের ফ্ল্যাশলাইটই হয়ে ওঠে ভরসা। তবে আলাদা ফ্ল্যাশলাইট এখনো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে। বিশেষ করে যেখানে উচ্চ ক্ষমতার আলো, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ও টেকসই গঠন প্রয়োজন হয়। যেমন ক্যাম্পিং, জরুরি উদ্ধার অভিযান বা পেশাদার কাজ।

ভয়েস রেকর্ডার

আগে যেকোনো কথা রেকর্ড করতে আলাদা ভয়েস রেকর্ডার ব্যবহার করা হতো। এখন সেটা স্মার্টফোনের ভয়েস মেমো অ্যাপ দিয়েই করা যায়, যা উন্নত মাইক্রোফোন ও এআই সুবিধা দেয়।

স্ক্যানার

আগে কাগজপত্র ডিজিটাইজ করার জন্য আলাদা স্ক্যানার লাগত। এখন স্মার্টফোনের স্ক্যানিং অ্যাপগুলো দ্রুত ও সহজে ডকুমেন্ট স্ক্যান করে পিডিএফে রূপান্তর করতে পারে।

পকেট ক্যালকুলেটর

একসময় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পকেট ক্যালকুলেটর বহন করত। এখন স্মার্টফোনের অ্যাপে সহজে বিজ্ঞানভিত্তিক ও গ্রাফিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায়। তবে পরীক্ষায় ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় আলাদা ক্যালকুলেটরের ব্যবহার এখনো রয়েছে।

পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (পিডিএ)

ক্যালেন্ডার, ঠিকানা বই, নোট নেয়া ও টাস্ক ম্যানেজমেন্ট—এসব কাজের জন্যই ব্যবহার হতো পিডিএ ডিভাইস। কিন্তু এখন সেসব কাজ আরো সহজ ও উন্নতভাবে করা যায় স্মার্টফোনেই।

ই-রিডার

যদিও কিন্ডলের মতো ই-রিডার এখনো ব্যবহৃত হয়, তবে অনেকেই বই, ম্যাগাজিন ও আর্টিকেল পড়ার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। ই-রিডারের মতো চোখে আরামদায়ক না হলেও স্মার্টফোনে পড়া সহজলভ্য।

-এমইউএ অবলম্বনে