উইন্ডোজ ১০-এর সাপোর্ট ধীরে ধীরে বন্ধ করতে শুরু করেছে মাইক্রোসফট। তবু এখনো অনেক ব্যবহারকারী পুরনো এ অপারেটিং সিস্টেম ছাড়তে চাইছেন না বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৫ সালে প্রকাশের পর ২০২৫-এ এসেও উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারে অটল থাকার সিদ্ধান্তের পেছনের বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে।
১০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্বের লাখো ব্যবহারকারীর কাছে উইন্ডোজ ১০ এখনো বেশ জনপ্রিয়। মাইক্রোসফট এরই মধ্যে অপারেটিং সিস্টেমটি ‘এন্ড–অব–সাপোর্ট’ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে নিরাপত্তা আপডেট পেতে পারেন। এর পর পুরনো সিস্টেমে অনলাইনে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবুও অনেকেই এখনো উইন্ডোজ ১১-তে আপগ্রেড করতে অনিচ্ছুক।
যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পকেট-লিন্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীরা মূলত চারটি কারণে পুরনো সংস্করণে থেকে যাচ্ছেন, যদিও এসব কারণ এখন আর তেমন যুক্তিসংগত নয়।
পুরনো কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১ চালাতে পারে না
সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অনেকের পুরনো কম্পিউটার উইন্ডোজ ১১ ঠিকমতো কাজ করে না। নতুন সংস্করণ চালাতে হলে প্রয়োজন ৬৪-বিট ডুয়াল-কোর প্রসেসর এবং দুটি নিরাপত্তা প্রযুক্তি—সিকিউর বুট ও টিপিএম (ট্রাস্টেড প্লাটফর্ম মডিউল) ২.০। এসব ফিচার মূলত এনক্রিপশন ও নিরাপদ লগইনের জন্য ব্যবহার হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক বেশির ভাগ কম্পিউটারেই এসব ফিচার আগে থেকেই থাকে। সিকিউর বুট ২০১২ সাল থেকেই উইন্ডোজে যুক্ত রয়েছে, আর টিপিএম ২.০ প্রায় পাঁচ বছর আগেই এসেছে। এমনকি ২০১৪ সালের পুরনো গ্র্যাফিকস কার্ডেও উইন্ডোজ ১১ চালানো যায়। তাই যদি কোনো পিসিতে উইন্ডোজ ১১ না চলে, সেটি সম্ভবত প্রযুক্তিগতভাবে অনেক পিছিয়ে আছে এবং আপগ্রেডের সময় এসেছে।
উইন্ডোজ ১০ পরিচিত ও ব্যবহার সহজ
অনেক ব্যবহারকারীর কাছে উইন্ডোজ ১০ একটি পরিচিত ও আরামদায়ক প্লাটফর্ম। বহু বছর ব্যবহারের ফলে এর প্রতিটি ফিচার তাদের কাছে সহজবোধ্য হয়ে গেছে। অন্যদিকে উইন্ডোজ ১১-এ টাস্কবার ও স্টার্ট মেনুতে কিছু পরিবর্তন এসেছে, যা শুরুতে কিছুটা অচেনা মনে হতে পারে। তবে একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে উইন্ডোজ ১১-ও দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করে। এতে নতুন কিছু সুবিধাও যুক্ত হয়েছে।
অতিরিক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার নিয়ে অসন্তোষ
আরেকটি বড় কারণ হলো, উইন্ডোজ ১১-এ মাইক্রোসফট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অনেক বেশি ব্যবহার করেছে। ‘কোপাইলট’ নামের এআই সহকারী এখন টাস্কবার, সেটিংস এমনকি পেইন্টের মতো সাধারণ অ্যাপেও যুক্ত রয়েছে। অনেকের কাছে এটি অপ্রয়োজনীয় ও বিরক্তিকর মনে হয়।
উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের অভাব
অনেকে মনে করেন, উইন্ডোজ ১১-এ তেমন নতুন সুবিধা নেই। নতুন ‘উইজেট প্যানেল’ বা ‘রিকল’ ফিচার তেমন কাজে লাগে না। তবু উইন্ডোজ ১১-এ অনেক ছোট কিন্তু দরকারি পরিবর্তন এসেছে। এখন নোটপ্যাডে ট্যাব ও অটোসেভ ফিচার রয়েছে, ফাইল এক্সপ্লোরার আরো উন্নত হয়েছে, যাতে আরএআর ও ৭-জিপ ফাইল খোলা যায়। গেমারদের জন্য আছে অটো এইচডিআর ও ডাইরেক্ট স্টোরেজ, যা গেম লোডিং দ্রুত করে। পাশাপাশি ‘স্ন্যাপ লে-আউটস’ দিয়ে মাল্টিটাস্কিং আরো সহজ হয়েছে এবং ‘উইন্ডোজ হেলো’ পাসকির মাধ্যমে পাসওয়ার্ড ছাড়াই নিরাপদ লগইন করা যায়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, উইন্ডোজ ১০ মাইক্রোসফটের অন্যতম স্থিতিশীল সংস্করণ হলেও এর সময় শেষের পথে। নতুন নিরাপত্তা ও উদ্ভাবনী সুবিধা শুধু উইন্ডোজ ১১-তেই পাওয়া যাবে। তাই পুরনো সিস্টেমে আটকে না থেকে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।










