ভারতে ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি থেকে জুন) স্মার্টফোন বিক্রি বেড়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এ সময় দেশটিতে বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৯ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন। এদিকে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সাড়ে তিন কোটি স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর গ্যাজেটস থ্রিসিক্সটি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বছরের বাকি সময়গুলোয় স্মার্টফোন বিক্রি কেমন হবে তা বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের দ্বিতীয়ার্ধের ওপর নির্ভর করে। কারণ দ্বিতীয় প্রান্তিকের মাঝামাঝি থেকে অনেক নতুন স্মার্টফোন বাজারে এনেছে নির্মাতারা। এ নতুন মডেলগুলোর বেশির ভাগই মিড-প্রিমিয়াম ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টের ছিল। অর্থাৎ নতুন মডেলগুলোর প্রবর্তন বছরের বাকি সময়ে স্মার্টফোন বিক্রিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

আইডিসির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনের (সাড়ে ৮ হাজার রুপির কম) বিক্রি কমেছে গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৩৬ শতাংশ। এ সময় স্মার্টফোন বাজারে এন্ট্রি-লেভেল সেগমেন্টের বাজার হিস্যা ছিল ১৪ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ২২ শতাংশ। এ সেগমেন্টে শীর্ষে রয়েছে শাওমি, এরপর আছে পোকো ও রিয়েলমি। এছাড়া একই সময় সাড়ে ৮ হাজার থেকে ১৭ হাজার রুপি পর্যন্ত দামের স্মার্টফোন বিক্রি বেড়েছে ৮ শতাংশ। এ সেগমেন্টে শীর্ষ তিন ব্র্যান্ড শাওমি, রিয়েলমি ও ভিভোর বাজার হিস্যা একসঙ্গে ৬০ শতাংশ।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোনের এন্ট্রি-প্রিমিয়াম সেগমেন্টের (১৭ হাজার থেকে সাড়ে ৩৩ হাজার রুপি) বিক্রি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্য বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময় সেগমেন্টের যত ফোন বিক্রি হয়েছে, তার মধ্যে অপো, ভিভো ও স্যামসাংয়ের বাজার হিস্যা ছিল ৬০ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে মিড-প্রিমিয়াম ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টের বিক্রি কমেছে যথাক্রমে ২৫ ও ৩৭ শতাংশ। প্রিমিয়াম সেগমেন্টের (সাড়ে ৫০ হাজার থেকে ৬৭ হাজার রুপি) মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৩, আইফোন ১২ ও স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৩ এফই। এ সেগমেন্টের বিক্রি কমলেও আইফোনের বাজার হিস্যা গত বছরের তুলনায় ৬১ শতাংশ বেড়েছে এবং স্যামসাংয়ের বেড়েছে ২১ শতাংশ। 

প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেকআর্ক চলতি মাসে জানিয়েছে, ভারতে এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ১০ কোটি স্মার্টফোন বিক্রি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালে ভারতে মোট ১৫ কোটি ৮০ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭-৯ শতাংশ বেশি। টেকআর্কের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কায়ুসা জানান, কভিড-পরবর্তী সময়ে স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এর প্রভাব পড়তে শুরু করবে। এটি আগামী বছরগুলোয় ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারের গতিশীলতাকে নিয়ন্ত্রণ করবে।