ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরি করা আরো ব্যয়বহুল হবে, তবে এটি ব্যবহার করা ক্রমেই সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে এ কথা জানান। তার মতে, এআই প্রযুক্তির বিকাশের জন্য কোম্পানিগুলোকে অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে হবে, কিন্তু একবার মডেল তৈরি হয়ে গেলে ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক কম খরচে এটি ব্যবহার করতে পারবে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

স্যাম অল্টম্যানের ভাষ্য, একটি এআই মডেলের বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে এর প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য কতটুকু কম্পিউটিং শক্তি ও ডাটা ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর। যত বেশি সম্পদ ব্যয় করা হবে, এআই তত বেশি স্মার্ট হবে। যেকোনো ক্ষেত্রে প্রতিটি বড় অগ্রগতির জন্যই আরো বেশি বিনিয়োগ দরকার হয়।

তিনি বলেন, ‘একটি এআই মডেলের ধারণাশক্তি সাধারণত এর প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত সম্পদের লগারিদমের (লগ) সমান হয়। এসব সম্পদের মধ্যে প্রধান হলো প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য কম্পিউটিং শক্তি ও ডাটা। তাই নিকট ভবিষ্যতে এআইয়ের বিকাশের জন্য ক্রমাগত বিনিয়োগ বাড়ানো বন্ধ করার কোনো কারণ নেই।’

স্যাম অল্টম্যানের মতে, সময়ের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের জন্য এআই ব্যবহারের খরচ অনেক কমে যাবে। প্রতি বছর এ খরচ ১০ গুণ কমতে পারে। ফলে সামনের দিনগুলোয় এআইয়ের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে জিপিটি ফোর ব্যবহার করতে যে খরচ হতো, ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে গিয়ে জিপিটি ফোরও তার থেকে প্রায় ১৫০ গুণ সাশ্রয়ী হয়েছে।

স্যাম অল্টম্যানের মন্তব্যটি এমন সময়ে এসেছে, যখন চীনা এআই স্টার্টআপ ডিপসিক ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক কম খরচে অত্যাধুনিক এআই মডেল তৈরি করেছে। গত মাসে ডিপসিকের এ ঘোষণা বৈশ্বিক বাজারে আলোড়ন তোলে ও প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের পাশাপাশি মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, আর্ম, ওরাকল ও সফটব্যাংকের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী চার বছরে এআই অবকাঠামো তৈরির জন্য ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে ডাটা সেন্টার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও লাইনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা গড়ে তোলা হবে।