মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের বর্তমান সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯৫ কোটি। এ বছরের মধ্যে ১০০ কোটির মাইলফলক অর্জন করবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ। সোমবার তিনি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে এ কথা জানান। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ‘এ মাসে একটি অ্যাপ স্টোর খোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং ‘‘ইন-অ্যাপ ব্রাউজিং’’ সুবিধা চালু করা হবে। যেখানে ‘‘ওয়েব-থ্রি’’ সমর্থিত ওয়েব পেজগুলো ব্যবহার করা যাবে।’ খবর টেকক্রাঞ্চ।  

মার্চে টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯০ কোটি ছাড়িয়েছিল। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দুরভ বলেন, ‘আগামী বছর লাভজনক হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে টেলিগ্রাম।’ 

ওয়েব-থ্রি প্রযুক্তি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন সমর্থন করে। টেলিগ্রামও বেশ আগে থেকেই মাধ্যম দুটি সমর্থন করে আসছে। ওয়েব-থ্রি প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এ দুই মাধ্যম ব্যবহার আরো সহজ হবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। সম্ভবত ২০১৮ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইনের মাধ্যমে টেলিগ্রাম ‘কয়েন’ দেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এক্ষেত্রে তাদের পদক্ষেপ কমিয়ে আনে কোম্পানিটি। ২০২২ সালে কোম্পানিটি টন ব্লকচেইনে ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ইউজার নেইম’ বিক্রি শুরু করে। টনের পূর্ণ রূপ হচ্ছে টেলিগ্রাম ওপেন নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্কে ব্লকচেইন-১ ব্যবহার করা হয়েছে। 

এরপর থেকে ডেভেলপারদের এমন সব মিনি-অ্যাপ ও গেম তৈরিতে সহায়তা করার দিকে নজর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যেগুলোর মাধ্যমে কেনাকাটার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা হবে। এ বছর থেকে কোম্পানিটি টনকয়েন হস্তান্তর করে চ্যানেল মালিকদের বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের অংশ দেয়া শুরু করেছে। টনকয়েন হচ্ছে টন ব্লকচেইনের টোকেন। এ টোকেন ব্যবহার করে ব্যবহারকারী বিজ্ঞাপন কেনার ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট পেতে অথবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কেনাকাটা করতে পারেন।

তবে টেলিগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের স্ক্যামের অভিযোগ পেয়ে আসছে। সিকিউরিটি কোম্পানি ক্যাসপারস্কির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে স্ক্যামাররা ব্যবহারকারীদের থেকে টনকয়েন হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। দুরভ অবশ্য গত সপ্তাহে একটি বার্তায় এ সমস্যা উল্লেখ করে জানান, তার কোম্পানি এর সমাধানে কাজ করছে।