ইউবিসফট গত কয়েক মাসে বেশ কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে। ফরাসি এ ভিডিও গেম ডেভেলপারের কয়েকটি গেম প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ‘অ্যাভাটার: ফ্রন্টিয়ার্স অব প্যান্ডোরা’ ও ‘স্টার ওয়ার্স: আউটলস’ দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে কোম্পানিকে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। অভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও খেলোয়াড়দের ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস ইউবিসফটের সমস্যা আরো বাড়ায়।
দুই দফায় বিলম্বিত হওয়ার পর গত সপ্তাহে পিসি, পিএস৫ ও এক্সবক্স সিরিজ এস/এক্স-এ মুক্তি পায় জনপ্রিয় অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার গেম অ্যাসাসিনস ক্রিড ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী সংস্করণ অ্যাসাসিনস ক্রিড শ্যাডোজ। গেম সংশ্লিষ্টদের অনেকেই অ্যাসাসিনস ক্রিড শ্যাডোজকে কোম্পানির শেষ ভরসা হিসেবে দেখেছেন। এর মাধ্যমে ভিডিও গেম কোম্পানিটি সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার গেমটি মুক্তির দিনেই ১০ লাখের বেশি গেমার পেয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে গেমারের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। যদিও ইউবিসফটের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে গেম বিক্রির সংখ্যা জানানো হয়নি। বেশ কিছুদিন মন্দা অবস্থার পর অবশেষে আশার আলো দেখতে পাচ্ছে কোম্পানিটি। সফল দুটি সংস্করণ ‘অ্যাসাসিনস ক্রিড অরিজিনস’ ও ‘অ্যাসাসিনস ক্রিড অডিসি’কে এরই মধ্যে পেছনে ফেলেছে গেমটি।
নতুন সংস্করণে গেমাররা নিজেদের নিয়ে যাবে জাপানের সামন্তযুগের এক প্রাচীন বিশ্বে। খেলোয়াড়রা চাইলে খেলতে পারে নাওয়ে নামে এক শিনোবি অ্যাসাসিন চরিত্রে, অথবা ইয়াসুকে নামে এক সাহসী সামুরাই যোদ্ধার ভূমিকায়।
গেমটি নভেম্বরেই মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা করলেও কিছু পরিমার্জনার জন্য তারিখ পিছিয়ে দেয় ইউবিসফট। বিলম্বের কারণে ৩১ মার্চ শেষ হতে যাওয়া চলতি অর্থবছরের আয়ে কিছুটা প্রভাব পড়েছে ঠিকই, তবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স সে চাপ অনেকটাই লাঘব করছে।
ইউবিসফট জানিয়েছে, গেমের ক্রয়াদেশে বেশ শক্তিশালী অবস্থান দেখা যায়। মুক্তির পর পরই গেমারদের উপস্থিতি থেকে এর প্রমাণও পাওয়া গেছে। তবে আশার খবরের মাঝেও রয়েছে কিছু হতাশা। গত কয়েক মাসে একাধিক ব্যর্থতা ও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে কোম্পানির শেয়ারদর এখনো আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে।
অ্যাসাসিনস ক্রিড শ্যাডোজ সফল হলেও ইউবিসফট এখনো কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কোম্পানির বহুল প্রত্যাশিত ‘স্টার ওয়ার্স: আউটলস’ বাণিজ্যিকভাবে হতাশাজনক ছিল। অন্যদিকে ফ্রি-টু-প্লে (বিনামূল্যে খেলা যায়) শুটার গেম ‘এক্সডেফিয়েন্ট’ পর্যাপ্ত গেমার আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। একের পর এক ধাক্কার ফলে বিনিয়োগ কমাতে বাধ্য হয় ইউবিসফট। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থানে। কোম্পানিটি সম্প্রতি ২৭০ জনের বেশি কর্মী ছাঁটাই করে। পাশাপাশি বন্ধ করে দেয় তাদের সান ফ্রান্সিসকো ও ওসাকা স্টুডিও।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এবার যুক্তরাজ্যের লিমিংটন স্টুডিও বন্ধ করে দিচ্ছে ইউবিসফট। এদিকে নিউক্যাসল, ডুসেলডর্ফ ও স্টকহোমে কর্মী সংখ্যা কমানো হয়। ফলে চাকরি হারাতে যাচ্ছেন আরো ১৮৫ কর্মী। এরই মাঝে নতুন চাপের মুখোমুখি হয়েছে কোম্পানিটি। স্লোভাকিয়াভিত্তিক হেজ ফান্ড এজে ইনভেস্টমেন্টসের শেয়ারের পরিমাণ ১ শতাংশেরও কম। কিন্তু তারা ইউবিসফটকে বিক্রির জন্য চাপ তৈরি করছে। গেম ডেভেলপারটির সিইও ইভ গিলমো বলেন, ‘কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন কৌশলগত বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন উপদেষ্টারা।’
অ্যাসাসিনস ক্রিড শ্যাডোজের এ সাফল্য ইউবিসফট ও এর বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ কয়েক মাসের আর্থিক চাপ ও পরিচালনাগত টানাপড়েনের পর অন্ধকারে চলে যাওয়া গেমটির সফলতা যেন অনেকটা আলো দেখাচ্ছে। তবে সত্যিই কি গেমটির একক অর্জন কোম্পানির গতিপথ পাল্টে দিতে পারবে? সে প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
খবর গিজচায়না










