স্মার্টফোনের গড় ব্যাটারি সক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটির তৈরি স্মার্টফোনের ব্যাটারির ধারণক্ষমতা গড়ে ৫ হাজার ৪১৮ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা (এমএএইচ), যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ৫১৮ এমএএইচ বেশি। দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার ও চার্জ ধরে রাখার দিক থেকে চীনা ফোনগুলো অন্যান্য দেশের তুলনায় এগিয়ে। বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে চীনে স্মার্টফোন ব্যাটারি গড় সক্ষমতা পৌঁছেছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার এমএএইচে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশ।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে চীনে বেশি সক্ষমতার ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন তৈরি ও ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, চীনে স্মার্টফোন ব্যাটারির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে সিলিকন কার্বন (এসআইসি) প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণ। চলতি বছর মে মাসে দেশটির অধিকাংশ বড় স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গড় ব্যাটারি সক্ষমতায় বছরওয়ারি ভিত্তিতে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সর্বশেষ গ্লোবাল হ্যান্ডসেট মডেল সেলস ট্র্যাকার অনুযায়ী, চীন বরাবরই ব্যাটারি সক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সেই ব্যবধান আরো বেড়ে ৫০০ এমএএইচ ছাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে সীমিত কিছু মডেলে সিলিকন কার্বন ব্যাটারির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারই এ ব্যবধান বাড়ার মূল কারণ।

একটি ব্যাটারি কতটুকু চার্জ ধরে রাখতে পারে এবং কত সময় ধরে সেই চার্জ সরবরাহ করতে পারবে, সেটাই ব্যাটারির ধারণক্ষমতা। এটি সাধারণত মিলি অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার বা এমএআইচ এককে পরিমাপ করা হয়।

সিলিকন কার্বন অ্যানোডযুক্ত ব্যাটারির বৈশিষ্ট্য হলো বেশি চার্জ ধারণক্ষমতা এবং পাতলা ডিজাইনের সুবিধা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম স্মার্টফোনে এ ব্যাটারির ব্যবহার শুরু হয়। তবে এটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেতে শুরু করে ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে। ওই সময় অনর এক্স৬০ প্রো, রেডমি কে৮০ এবং ভিভো এস১৯-এর মতো জনপ্রিয় মডেলগুলোয় এ প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ে।

মাঝারি দামের স্মার্টফোনে সিলিকন কার্বন ব্যাটারির ব্যবহারের কারণে গ্রাহকদের দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যবহারের সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। স্ক্রিন টাইম বাড়া এবং অন-ডিভাইস জেনারেটিভ এআইয়ের মতো বেশি শক্তি খরচকারী অ্যাপ ব্যবহারের যুগে এ প্রযুক্তি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে ৬ হাজার এমএএইচ বা তার বেশি ব্যাটারিযুক্ত ফোন এখন বাজারের ৩৫ শতাংশ দখলে রেখেছে। যেখানে এক বছর আগেও এ হার ছিল মাত্র ৯ শতাংশ।

২০২৫ সালের মে মাসের তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি সক্ষমতা দেখা গেছে ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোনে, বিশেষ করে চীনের এইস সিরিজে। একইভাবে অনর, হুয়াওয়ে ও ভিভোর মতো ব্র্যান্ডগুলোও শুধু চীনের বাজারের জন্য বড় ব্যাটারিযুক্ত মডেল উন্মোচন করেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী প্রান্তিকগুলোয় বড় ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন প্রথমে চীনের বাজারেই আসবে। জনপ্রিয় টিপস্টার ডিজিটাল চ্যাট স্টেশন সম্প্রতি জানিয়েছে, ১০ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার-ঘণ্টা (এমএএইচ) ব্যাটারির একটি মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোন পরীক্ষাধীন রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ডিভাইসটি চীনে উন্মোচন হতে পারে। এটি হবে বাজারে আসা প্রথম স্মার্টফোন, যার ব্যাটারি সক্ষমতা পাঁচ অংকের সীমা অতিক্রম করবে। টিপস্টার নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করেনি। তবে অনেকে ধারণা করছেন, ফোনটি হতে পারে রিয়েলমির।