মোবাইল গেমস ও অ্যাপ্লিকেশনের বৈশ্বিক বাজারের আকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৭৫০ বিলিয়ন বা ৭৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে। গুগলের পূর্বাভাস অনুযায়ী এ সময় বাজারটির প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে এশিয়া। খবর নিক্কেই এশিয়া।

টেক জায়ান্ট গুগল জানিয়েছে, মোবাইল গেমিংয়ে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী। জাপানের পোকেমন গো থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার মাল্টিপ্লেয়ার গেম পর্যন্ত এ অঞ্চলে গেমের জনপ্রিয়তা বিস্তৃত। গুগলের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী উদীয়মান বাজারে ইন-অ্যাপ কেনাকাটা (গেমের ভেতরে নতুন লেভেল, চরিত্র বা টুল কেনা) ৫ শতাংশ বেড়েছে, তবে উন্নত দেশে যেমন যুক্তরাষ্ট্রে আয় ৩ শতাংশ কমেছে। মার্কিন আদালতের নির্দেশের কারণে ব্যবহারকারীরা এখন গুগল ও অ্যাপলের স্টোরের বাইরে থেকেও অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবে। ফলে সামনের দিনে যুক্তরাষ্ট্রে স্টোরের মাধ্যমে ইন-অ্যাপ ক্রয় আরো কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোবাইল গেমিংয়ে এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে নাম উঠে এসেছে ভিয়েতনামের। দেশটি জনপ্রিয় গেম অ্যাক্সি ইনফিনিটি এবং ফ্ল্যাপি বার্ডের উৎপত্তিস্থল।

ভিয়েতনামে গুগলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্ক উ বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশটিতে অ্যাপ থেকে আয় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে, যা এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ।’

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে অনুষ্ঠিত গুগলের অ্যাপস সামিটে গত সপ্তাহে সাত শতাধিক ডেভেলপার অংশগ্রহণ করেন। নিক্কেই এশিয়ার প্রশ্নের জবাবে এ সময় গুগল জানিয়েছে, প্রোগ্রামারদের শুধু এ কোম্পানির জন্যই অ্যাপ বানাতে চাপ দেয়া হয় না। তারা চাইলে আইফোনের জন্যও কাজ করতে পারেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাধারণত ভিয়েতনামে অফিস বা ডাটা সেন্টার খোলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকে। কারণ দেশটির সরকার প্রায়ই কনটেন্ট ব্লকের নির্দেশ দেয়। তবে গুগল গত বছর সেখানে প্রথম অফিস খোলে। ভিয়েতনামের বাজারকে পাজল ও ক্যাজুয়াল অ্যাপ (সহজ ও বিনোদনমূলক) তৈরিতে শক্তিশালী ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে গুগল। অন্যদিকে চীন বড় ধরনের ব্লকবাস্টার গেম তৈরিতে দক্ষ। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় নেটশর্টের মতো কিছু উদ্ভাবনী বা নতুন ধারণার অ্যাপ তৈরি হচ্ছে।

সামিটে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। গুগল প্লের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদিত্য স্বামী বলেন, ‘বিশ্বের ৯০ শতাংশ অ্যাপ ডেভেলপার এরই মধ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, বিশেষ করে কোড লেখা বা মার্কেটিংয়ের জন্য।’