টেড বিশপ। অনুবাদ: এস এম রশিদ
দ্য স্প্লেন্ডর
অব
ইসলামিক
ক্যালিগ্রাফি বইটি পড়তে গিয়ে গলনাট কালি নিয়ে সাধারণ মানের একটা প্রবন্ধ পেলাম। ওরহান পামুকের মাই
নেম
ইজ
রেড আগেই পড়া হয়েছে—ইস্তাম্বুলের হত্যাকাণ্ড রহস্য, প্রেমকাহিনী ও পারস্যের চিত্রকর-ক্যালিগ্রাফার বিহজাদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। চারপাশে তুষার জমেছে আর আমি তার মধ্যে বসফরাসের কোনো ক্যাফেতে বসে আছি—এ স্বপ্ন কতদিন যে দেখেছি তা বর্ণনা করা কঠিন। কোনো এক বসন্তে আমি রীতিমতো অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম। তাই লয়েড যখন উজবেকিস্তান-তাসখন্দ-বুখারা-সামারখন্দ সফরের প্রস্তাব দিল, তখন এক মুহূর্তের কম সময় নিয়ে বলে উঠলাম—অবশ্যই, কেন নয়?
আমি জানতাম, সামারখন্দে আছে ঝকমকে রেজিস্তান—পারস্যের কার্পেটের মতো টাইলসে মোড়া এক চত্বর। বুখারায় আছে উঁচু কালোন মিনার—এমনই রাজসিক যে চেঙ্গিস খান পুরো শহর মাটিতে মিশিয়ে দিলেও এ মিনারটিতে হাত দেননি। তাসখন্দ দেখতে কানাডার ক্যালগারির মতো—চওড়া সড়ক, ভবন, সোভিয়েত জমানার হোটেল। তাসখন্দ হলো এমন জায়গা, যেখান থেকে আপনি আরো দারুণ কিছু জায়গায় যেতে পারবেন। তাসখন্দে অবশ্য খুব বেশি কিছু নেই। তবে আমি জানি যে এখানেই আছে উসমান (রা.)-এর
রক্তে ভেজা কোরআন শরিফ (তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান রা.)। কোরআন শরিফের এই কপি ‘সামারখন্দ কোডেক্স’ নামে পরিচিত।
চেঙ্গিস খান এ অঞ্চল জয় করেছিলেন এবং যেসব মোঙ্গল এখানে থেকে গিয়েছিল তারা স্থানীয়দের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল। রুশরা প্রথম এই জনগোষ্ঠীকে একত্রে ‘তাতার’ না দেয়। তুর্কেমেনস্তান নামটি এই পুরো অঞ্চলকে বোঝাতে ব্যবহূত হয়। কিন্তু এ নামটিও এক অর্থে সংকীর্ণ, কারণ তুর্কেমেনস্তানে কেবল তুর্কোমান, উজবেক, কিরগিজ, কসাক ও উইঘুররাই থাকে না, এখানে পারসিক, তাজিক ও ককেসীয়রাও থাকে। সঙ্গে আরো কিছু জাতির মানুষও থাকে। এ অঞ্চলের নির্দেশক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে বুখারা, সামারখন্দের মতো শহরের মালা, সিল্ক রুট ধরে বিভিন্ন সত্তা, মিশ্র ফার্সি ভাষা, তুর্কি জাতি ও ইসলাম ধর্ম।
আমাদের ধারণা ছিল, বিমান থেকে নেমে দেখব কঠোর, আনন্দহীন, কট্টর সমাজ। বিমানবন্দরে হাজির ছিল আমাদের গাইড তৈমুর। স্বাস্থ্যবান চেহারার তৈমুরের পরনে ছিল কমলা টি-শার্ট, জিন্স, ডেনিম স্পোর্টস জ্যাকেট, পিঠে কালো নাইলন ব্যাগ।
দুপুরের খাবারের সময় তৈমুর আমাদের চমকে দিয়ে জিজ্ঞেস করে বসল, ‘মি.
এডভার্ড, আপনি নিশ্চিয়ই ভদকা পান করবেন!’ আমরা
পান করলাম, তৈমুরের কাছে একটা মদের পাত্রও ছিল। ডিনারে আমরা উজবেক পোলাও (ভাত, খাসি, সবজির মিশ্রণ) খেলাম।
তৈমুরের মতো এখানকার সুন্দরী মেয়েরাও আমাদের অবাক করেছিল। লয়েডের স্ত্রী নিকোল বলল, ‘এখানকার সব মেয়েরই পাগুলো তন্বী! খুব সুন্দর।’ হ্যাঁ, এখানকার মেয়েদের পা দেখা যায়, এরা অনেকেই কালো স্কার্ট পরে যেগুলো হাঁটু পর্যন্ত, সঙ্গে থাকে হিলসহ স্টাইলিশ জুতা। এক তরুণী মা তো লয়েডকে চুমো খেয়ে বসেছিল। আমরা এ





