কোকা-কোলাকে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন যে মানুষটি, তার নাম রবার্ট উডরাফ। কোকা-কোলার চেয়ে তিনি বয়সে চার বছরের ছোট ছিলেন। ১৯৮৫ সালের প্রথম দিন। ৯৫ বছর বয়সী উডরাফ তার ঘরে শুয়ে আছেন। তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন কোকা-কোলার সিইও রোবের্তো গোইজুয়েতা। এই রোবের্তো ছিলেন কিউবার অধিবাসী ও কোকা-কোলার প্রথম বিদেশী সিইও। রোবের্তো জন্মের পর প্রথমবারের মতো কোকা-কোলার ফর্মুলা বদলাতে চান। তাই অনুমতি নিতে এসেছেন উডরাফের কাছে। রোবের্তো বিক্রির বিভিন্ন পরিসংখ্যান, বাজার পরিস্থিতি উডরাফের সামনে তুলে ধরলেন। আর সব পরিসংখ্যানের ওপর মূল কথাটি হচ্ছে, ভোক্তারা কোকের চেয়ে পেপসিকে বেশি পছন্দ করছে। বিজ্ঞাপন ও বিতরণে অনেক বেশি অর্থ খরচ করেও পেপসিকে আটকানো যাচ্ছে না। তাই সমস্যার সমাধান হিসেবে রোবের্তো কোকের ৯৯ বছরের পুরনো ফর্মুলায় পরিবর্তন আনতে চান। বেশ কিছুক্ষণ নীরবে কাটল, তারপর উডরাফ তার উত্তরসূরিকে বললেন, ‘ডু ইট।’ তবে তার চোখ তখন পানিতে ভরে উঠেছিল। রোবের্তোর মুখে অবশ্য হাসি। বসের অনুমতি পাওয়া গেল, তাই তার খুশি হওয়ারই কথা। উডরাফ এই রোবের্তোকেই তার উত্তরসূরি হিসেবে বেছেছিলেন। কিন্তু কোকের ফর্মুলা পরিবর্তন হয়তো উডরাফ মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। হঠাৎ তিনি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিলেন এবং নতুন ফর্মুলার কোক বাজারে আসার আগেই চিরতরে চোখ মুদলেন। রোবের্তোকে সেই অনুমতি দেয়ার দুই মাসের মধ্যে বিদায় নিলেন উডরাফ। নতুন কোক বাজারে আসতে তখনো এক মাস বাকি।

নতুন কোক নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া এসেছিল, তা হয়তো রোবের্তো স্বপ্নেও ভাবেননি। নতুন কোক বাজারে আসার পর থেকে প্রতিদিন কোকা-কোলার প্রশাসন হাজার হাজার ফোন কল, চিঠি পেতে লাগল। সবার এক কথা, আগের কোকই ভালো ছিল, আগের কোক ফিরিয়ে আনো। রোবের্তোর মনে হলো, কয়েক দিন সময় যেতে দিলে ভোক্তাদের ক্ষোভ কমে আসবে। কিন্তু হলো উল্টো, ক্ষোভ কমার তো কোন লক্ষণই নেই, বরং বেড়ে চলল। পরিষ্কার হয়ে গেল যে, রোবের্তো, তার ম্যানেজমেন্ট ও মার্কেটিং দলের সব জরিপ ও ধারণা ভুল ছিল। কোকের ভক্তদের পাঠানো চিঠিগুলো থেকে বোঝা যায়, স্বাদটা তাদের কাছে এমন জরুরি কিছু না; কোক তাদের কাছে পুরনো বন্ধুর মতো, প্রতিদিনের জীবনের অংশ, আমেরিকার তালিসমান, এক রকমের আইকন। কিছু চিঠিতে লেখা ছিল এ রকম—&dquote;&dquote;

‘কোককে বদলানো দেখে মনে হচ্ছে ঈশ্বর যেন ঘাসকে বেগুনি বানিয়ে দিয়েছেন।’

‘আমি মনে হয় না আমার বাসার উঠোনে দেশের পতাকা পোড়ালেও এত মন খারাপ করতাম।’

রোবের্তো ও তার টিমের যথেষ্ট শিক্ষা হয়ে গিয়েছিল এই এক ঘটনায়। শিগগিরই তারা কোককে তার আদি ফর্মুলায় ফিরিয়ে আনেন। মার্ক পেন্ডারগ্রাস্ট তার বইয়ে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন—

ইস্যুটা স্বাদ নিয়ে ছিল না। বিষয়টা মার্কেট জরিপ কিংবা ফোকাস গ্রুপও নয়।

ইস্যু ছিল ঈশ্বর।

ইস্যু ছিল দেশ।

ইস্যু ছিল কোকা-কোলা।

 

‘আমি একটা পানীয় নিয়ে পরীক্ষা করছি— ৯-১০ ভাগ পানি— আরো ১০ ভাগ রাসায়নিক। প্রতি ব্যারেল তৈরি করতে ১ ডলারের বেশি খরচ হবে না... তৃতীয় বছরে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে খুব সহজেই ১০ লাখ বোতল বিক্রি করতে পারব। মুনাফা হবে কমপক্ষে সাড়ে ৩ লাখ ডলার এবং তখন আমাদের সত্যিকার ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের সদর দপ্তর থাকবে কনস্ট্যান্টিনোপলে আর আরেক প্রান্ত থাকবে ভারতে।... বার্ষিক আয় একমাত্র ঈশ্বরই জানেন কত মিলিয়ন ডলার স্রোতের মতো আসতে থাকবে।’ এ সংলাপ কর্নেল বেরিয়াহ সেলারসের। মার্ক টোয়েন ১৮৭৩ সালে লেখা দ্য গিল্ডেড এজ উপন্যাসে একটি চরিত্রকে দিয়ে এ সংলাপ বলিয়েছিলেন।  উপন্যাসের কর্নেল বেরিয়াহয়ের সেই পানীয়টিকে কোকা-কোলার সঙ্গে মেলালে খুব বেশি ভুল হওয়ার কথা নয়। মার্ক টোয়েনের সেই উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার ১৬ বছর পর আত্মপ্রকাশ করে কোকা-কোলা। ১৯৮৬ সালে জন পেমবারটন কোকা-কোলা পানীয়টি তৈরি করেন। তার বাসার পেছনের উঠানে তিন পায়ের একটি কেতলিতে তৈরি হয়েছিল কোকা-কোলা। কিন্তু এ আবিষ্কারের পর বেশিদিন আয়ু ছিল না পেমবারটনের। ১৯৮৮ সালেই তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর আগে ক্যান্ডলার কোকা-কোলার ফর্মুলা কিনে নেন। ক্যান্ডলারই কোকা-কোলার প্রচারণা শুরু করেন। তার হাতেই ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠা হয় কোকা-কোলা কোম্পানি। বিশ শতকের শুরুর দশকে কোকা-কোলার অবিশ্বাস্য উত্থানকে ‘রোমান্স অব কোকা-কোলা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।&dquote;&dquote;

কোকা-কোলাই দুনিয়ার প্রথম জনপ্রিয় পানীয়, যা একই সঙ্গে মেডিসিন ও সোডা হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। পেমবারটনের কোকা-কোলার সুযোগ ছিল কম। কারণ তখন আমেরিকার বাজারে নানা ধরনের সোডার প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে এবং ভোক্তারাও দারুণভাবে সোডার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। ১৮৮৬ সালে পেমবারটন যখন কোকা-কোলা আবিষ্কার করলেন, তখন তার হাতে তেমন টাকাও ছিল না, যা দিয়ে তিনি প্রচারণা চালাতে পারেন। তবে তিনি তার পানীয়র ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে আশাবাদী ছিলেন। তবে কোকা-কোলার সফলতা তিনি দেখে যেতে পারেননি।

আসা ক্যান্ডলারের জন্ম ১৮৫১ সালের ৩০ ডিসেম্বর। তাকে বলা যায় একেবারে আদর্শ পুঁজিপতি। ৬৪ বছর বয়সে তিনি বলেছিলেন, তার জীবনে এমন একটি দিনও যায়নি, যেদিন তিনি আরো বেশি টাকা উপার্জনের প্রত্যাশা দিয়ে চালিত হননি। তার কথা ছিল, ‘মানুষ যদি কোকা-কোলার গুণ জানতে পারে, যেমনটা আমি জানি, তাহলে তাদের ভিড় সামলাতে আমাদের কারখানার দরজা বন্ধ করে দিতে হবে এবং তারপর শটগান হাতে রক্ষী রাখতে হবে সেই ক্রেতাদের ভিড়কে শৃঙ্খলায় রাখতে।’ ছোটবেলা থেকেই ক্যান্ডলার ডলার উপার্জনের নানা ফন্দিফিকির করতে শুরু করেছিলেন। ধনী হওয়ার জন্য তিনি যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন। ১৮৮৮ সালে ক্যান্ডলার আইনিভাবে কোকা-কোলার পুরো অধিকার বুঝে পান। কোকা-কোলাকে নিজের অধিকারে নিতে সব মিলিয়ে ক্যান্ডলারের ২ হাজার ডলারের মতো খরচ করতে হয়েছিল। আটলান্টার তখনকার চালচিত্রে তিনি আরেকজন নতুন উদ্যোক্তা ব্যতীত আর কিছু নন। সেদিন কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে, সেই শতক শেষ হতে হতে ক্যান্ডলার আটলান্টার অন্যতম ধনী মানুষে পরিণত হবেন আর কোকা-কোলা আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় কোমল পানীয় হবে। ১৮৮৯ সালে ক্যান্ডলার বেশ করুণ দশায় ছিলেন। তার ঘাড়ে ছিল ৫০ হাজার ডলারের ঋণের বোঝা আর হাতে ছিল কোকা-কোলা। তিনি তখনো মূলত ওষুধের ব্যবসায়ী। ১৮৯১ সাল নাগাদ ক্যান্ডলার বুঝতে পারেন, তার ভবিষ্যৎ কোকা-কোলাতেই। তাই তিনি তার ওষুধের ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে পুরো মনোযোগ কোকা-কোলায় নিবিষ্ট করেন। এ সময় ক্যান্ডলার কোকা-কোলার বিজ্ঞাপনে গুরুত্ব দেন। তখন কোকা-কোলার লোগোর ডিজাইন করে বিজ্ঞাপন তৈরি করে নীরব নায়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন ফ্রাংক রবিনসন। ছোটখাটো গড়নের এ মানুষটি কখনো খ্যাতি বা নামডাক চাননি। দুজনের মনোভাব ১৮০ ডিগ্রি উল্টো হলেও তারা দুজনে মিলে এক দারুণ টিম ছিলেন।

১৮৯১ সালের জুনে পেটেন্ট অফিস থেকে কোকা-কোলার টাইটেলের নিবন্ধনের সপ্তাহখানেকের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ল, কোকা-কোলায় কোকেন মেশানো হয়। আটলান্টা কনস্টিটিউশনে শিরোনাম লেখা হলো, ‘কোকা কোলায় কী মেশানো হয়? বলা হচ্ছে, এ জনপ্রিয় পানীয় কোকেন গ্রহণের অভ্যাসকে উসকে দিচ্ছে।’ এ পত্রিকা পড়ে ক্যান্ডলারের মাথা ঘুরতে শুরু করল। তারপর বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ জানালেন যে, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে, কোক পান করে কেউ কোকেনের নেশা করতে উৎসাহিত হয়েছে, তাহলে তিনি কোক উৎপাদন বন্ধ করে দেবেন। তিনি প্রকাশ্যে জানালেন, প্রতি গ্যালন কোকা-কোলা উৎপাদনে মাত্র আধা আউন্স কোকা পাতা ব্যবহার করা হয়। সে হিসাবে প্রতি গ্লাস কোকা-কোলায় শূন্য দশমিক চার মিলিগ্রাম কোকেন থাকে, যা ভোক্তার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতি বা নেশা বয়ে আনে না। উল্লেখ্য, কোকা পাতা থেকে কোকেন তৈরি হয়। তবে এখানে একটা বিষয় কৌতূহলোদ্দীপক যে, পেমবারটনের মূল ফর্মুলায় ক্যান্ডলারের ব্যবহূত কোকেনের চেয়ে ১১ গুণ কোকেন ব্যবহারের কথা ছিল। কিছুদিনের মধ্যে কোকেন গুজব স্তিমিত হয়ে এল। কিন্তু এ গুজব হয়তো কোকা-কোলার উপকারই করেছিল। কারণ নিষিদ্ধ, বিতর্কিত পানীয় নিয়ে বরাবরই মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে।&dquote;&dquote;

কোকা-কোলার ফর্মুলা মানুষকে আগ্রহী করেছে। এর গোপনীয়তা নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য কোকা-কোলার এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান। পেমবারটনের মূল ফর্মুলাটা জানতেন অন্তত ১০ জন। তবে কোকা-কোলা তার এ মূল ফর্মুলায় থাকেনি। ক্যান্ডলার ভোক্তাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে মূল ফর্মুলায় কিছু পরিবর্তন ঘটিয়েছিলেন। এমনকি তার ছেলেও কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। কোকা-কোলার ফ্লেভারের কোড নেম ছিল সেভেন এক্স। ফর্মুলাকে গোপন রাখতে ক্যান্ডলার ও রবিনসন তাদের কাঁচামালের সরবরাহ আসার পর বেশকিছু সতর্কতা পালন করতেন। প্রথমেই তারা সব কাঁচামালের ওপর থেকে নামের ট্যাগ তুলে ফেলতেন এবং সেগুলোকে ১ থেকে ৯ সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করতেন। কোকা-কোলা তৈরির বিভিন্ন পণ্য কেনার জন্য ডাকে আসা ইনভয়েস ক্যান্ডলার নিজে খুলতেন, যেন সেগুলো হিসাবরক্ষণ বিভাগের হাতে না যায়। শুরুর দিকে উপাদানের মিশ্রণটি ক্যান্ডলার ও রবিনসন মিলে নিজেরাই করতেন। এ ফর্মুলা ছিল তাদের কাছে এক ধর্মীয় পবিত্র প্রতিজ্ঞার মতো, যা ভঙ্গ করা যায় না। ক্যান্ডলার যখন তার ছেলে হোওয়ার্ডকে এ ফর্মুলা শেখালেন, তা ছিল এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মতো, সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে হোওয়ার্ড বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে গৌরবান্বিত মুহূর্তের একটি, যখন আমার বাবা আমাকে সেই গোপন ফর্মুলাটি শিখিয়েছিলেন। তিনি এমনভাবে আমাকে সেই ফর্মুলা শিখিয়েছিলেন, যেন মনে হচ্ছিল, তা পবিত্রতম।’ সাধারণভাবে এ ফর্মুলা কোনো কাগজে লেখা হতো না। কাঁচামালের কোনো কনটেইনারে নামের লেবেল থাকত না। তৈরি কোক কারখানা ত্যাগের আগে ক্যান্ডলার বা রবিনসন কোনো একজন সেটা পরীক্ষা করে দেখতেন। কোকা-কোলার স্বাদ নিশ্চিত হয়েছে কিনা সেটা বুঝতে রবিনসন একটু বেশি পারদর্শী ছিলেন, তার ঘ্রাণশক্তি ছিল প্রখর।

১৮৯২ সালে কোকা-কোলা করপোরেট চার্টার পায়। তারপর ক্যান্ডলার কোকা-কোলার লোগোর প্যাটেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এখানেই গোল বাধে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাকে জানানো হয়, আরো বেশ কয়েক বছর আগে অন্য কেউ কোকা-কোলা নামে একটি পণ্যের ট্রেডমার্ক নিয়ে নিয়েছেন। ক্যান্ডলারের তখন মাথায় হাত। তবে খুব বেশি চমকে যাননি। কারণ ১৮৮০-এর দশকে কোকা পাতা ও কোলা বাদাম বেশ জনপ্রিয় খাদ্য তৈরির উপাদান ছিল। তাই কেউ এ দুই নাম এক করে কোনো পণ্য তৈরি করতে পারে, সেটা অভাবনীয় কিছু ছিল না। কিন্তু সমস্যা হলো, ক্যান্ডলারের কোকা-কোলার এবার কী হবে? ১৮৯৪ সালে ক্যান্ডলার প্রথম ট্রেডমার্ক স্বত্বাধিকারীর কাছ থেকে কোকা-কোলার ট্রেডমার্ক কিনে নেন। এভাবে কোকা-কোলার ব্যবসা উড়াল দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল।&dquote;&dquote;

১৮৯১ সালে কোকা-কোলা বিক্রি হয়েছিল ২০ হাজার গ্যালন, পরের বছর সেটা বেড়ে হয় ৩৫ হাজার ৩৬০ গ্যালন। এরপর ১৮৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দাভাব ছিল। কিন্তু তার পরও কোকা-কোলার বিক্রি শনৈঃশনৈঃ বেড়ে চলছিল। সে বছর বিক্রি হয়েছিল ৪৮ হাজার ৪২৭ গ্যালন। ১৮৯৪তে আরো বেড়ে হয় ৬৪ হাজার ৩৩৩ গ্যালন। ১৮৯৫ সালে হয়েছিল ৭৬ হাজার ২৪৪ গ্যালন। ১৮৯২ সালে ১০ মাসের কর্মযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে কোকা-কোলার প্রথম বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি হয়। এতে দেখা যায়, কোকা-কোলা তার পানীয়র কাঁচামাল কিনতে খরচ করেছে ২২ হাজার ৫০০ ডলার। অন্যদিকে বিজ্ঞাপন খাতে খরচ করেছিল ১১ হাজার ৪০০ ডলার। এ বিজ্ঞাপন যজ্ঞে ছিল কোকা-কোলার চিহ্ন প্রচার, ক্যালেন্ডার, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন।

শুরুর দিকে ক্যান্ডলার নিজেই কোকা-কোলার নাম ভুল উচ্চারণ করতেন। তবে তারপর তিনি নিজেই সঠিক উচ্চারণের ব্যাপারে বেশ আবেগি হয়ে ওঠেন। কোকা-কোলাকে তখন অনেকে কোকো-কোলা, কোকোয়া-কোলা নামে ডাকত।

কোকা-কোলা থেকে বিপুল অর্থ আসা শুরু হলেও নিজের পুত্রকে কোনো বিলাসিতার সুযোগ ক্যান্ডলার দেননি। পুত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠিয়ে খরচ দিতেন পাই পাই হিসাব করে। ১৮৯৪ সালে ছেলে টাকা চেয়ে চিঠি পাঠালে ক্যান্ডলার তার ছেলের খরচের একটি ব্যালান্সশিট পাঠিয়ে দেন, যেখানে একটি কলা এমনকি টুথব্রাশ কেনার হিসাবও দেয়া আছে। হিসাব পাঠিয়ে তিনি ছেলেকে লেখেন, হিসাবমতে ছেলের কাছে আরো কিছু টাকা থাকা উচিত।

১৮৯৫ সালে ফ্রাংক রবিনসন ক্যান্ডলারকে জানালেন, কোকা-কোলাকে এবার ওষুধের পরিচয় থেকে বের করে খাঁটি কোমল পানীয়তে পরিণত করার সময় এসে গেছে। কারণ নারীরা মূলত অভিযোগ করছেন, একটা ওষুধ পান করছেন, এটা তাদের ভাবতে ভালো লাগে না। তাই এবার কোকা-কোলার বার্তা হলো সরল, ‘কোকা-কোলা পান করুন। সুস্বাদু, সতেজক।’ রবিনসনের মনে হলো, এতদিনের বিজ্ঞাপনগুলো বেশ লম্বা ছিল, এবার সেগুলোকে ছোট বার্তায় পরিণত করতে হবে। রবিনসন বিজ্ঞাপনে আরো মনোযোগ দিলেন। শুধু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন নয়; তার সঙ্গে রাস্তার সাইনবোর্ড, পোস্টার, ক্যালেন্ডার, পেন্সিল, ঘড়ি, স্কুলের শিশুদের জন্য বুকমার্কসহ আরো নিত্যনতুন মাধ্যমে প্রচার হতে থাকল কোকা-কোলার বিজ্ঞাপন।&dquote;&dquote;

১৯২৩ সালে কোকা-কোলা কোম্পানির দায়িত্ব নেন ৩৩ বছর বয়সী রবার্ট উডরাফ। ছয় ফুট লম্বা মানুষটি কোকা-কোলাকে আজকের চেহারা দিয়েছিলেন। দুনিয়াব্যাপী কোকা-কোলার যে বিস্তৃতি, তা এ উডরাফের হাতেই হয়েছিল। তবে নিকটজনের কাছেও তিনি এক ধাঁধা হয়ে ছিলেন। অসাধারণ ছিল তার নেতৃত্বদানের ক্ষমতা— এটা তার সহকর্মীদের মূল্যায়ন। সারাক্ষণ তার মুখে থাকত সিগার। অফিসে কোনো রুমে প্রবেশ করলে নীরবে তিনি চোখ বুলিয়ে পরিস্থিতি বুঝে নিতে পারতেন। এক সহকর্মী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘বস রুমে ঢুকলে বুঝতে পারবেন, এমনকি আপনি যদি উল্টো দিকে ফিরে থাকেন তাহলেও। তার ছিল অসাধারণ আকর্ষণ ক্ষমতা।’ কোকা-কোলার কর্মীরা তার কথামতো যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন। বহু বছর ধরে কর্মীরা তারা প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য দেখিয়েছেন। কিন্তু উডরাফ আবার ছিলেন একেবারে অনাকর্ষণীয় মানুষ, তিনি পড়াশোনা করতেন না। পরিচিতরা বলেছেন, তিনি কখনো কোনো বই পড়ে শেষ করেননি। এক পাতার চেয়ে দীর্ঘ কোনো চিঠি তিনি পড়তে চাইতেন না। তবে অনেকে মনে করেন, খুব সম্ভবত উডরাফের ডিজলেক্সিক ডিজঅর্ডার ছিল। এ সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের পড়তে অসুবিধা হয়। তিনি একা থাকতে ভয় পেতেন। অনেক ক্ষেত্রেই উডরাফ ছিলেন আসা ক্যান্ডলারের মতো, দুজনই কাজে ডুবে থাকতেন। বিশ্রাম নেয়া তাদের স্বভাবে ছিল না। ক্যান্ডলার ও উডরাফ দুজনেরই পছন্দের কবিতা ছিল রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের ‘ইফ’।

রবার্ট উডরাফ ছিলেন পেশাদার মানুষ। করপোরেট কাঠামোকে কীভাবে মুনাফা সর্বোচ্চকরণে ব্যবহার করা যায়, সেটা তিনি খুব ভালো জানতেন। তিনি ছিলেন ১৯২০-এর দশকে তৈরি হওয়া ইতিহাসের প্রথম পেশাদার করপোরেট ব্যবস্থাপকদের একজন। এরা নির্ভর করতেন উকিল, পাবলিক রিলেশন এক্সপার্ট, বাজার গবেষক, মনস্তত্ত্ববিদ এবং বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের ওপর। আর উডরাফের একটি সুবিধা ছিল যে, তিনি যখন কোকা-কোলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন কোম্পানিটি তার একটি স্থিতিশীল অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিল। অন্যদিকে মানুষও নানা ধরনের কোমল পানীয়র পরিবর্তে শুধু কোকা-কোলা পানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছিল। তখন কেউ কোকা-কোলার বিরুদ্ধে কথা বললেও সেটাকে আর মানুষ গুরুত্বসহকারে নিত না। যেমন— ১৯২১ সালে মার্কিন সিনেটর বাজার গরম করার চেষ্টা করেছিলেন কোকা-কোলার সমালোচনা করে, কিন্তু লাভ হয়নি। টম ওয়াটসন নামের সেই সিনেটর সিনেটে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘একজন কোকা-কোলা আসক্ত মানুষ দিনে ১৪ থেকে ২০ বোতল কোকা-কোলা পান করে, এটা এখন একটা সাধারণ চিত্র হয়ে যাচ্ছে। স্টেট অব জর্জিয়ার সেরা চিকিৎসক আমাকে বলেছেন যে কোকা-কোলা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। ...মস্তিষ্কের ক্ষমতা, হজম শক্তি নষ্ট করে; মানুষের নৈতিকতা ধ্বংস করে এবং মেয়েদের সন্তান জন্মদানের পবিত্র অধিকারও নষ্ট করে দেয়।’ কিন্তু মানুষ টমের কথায় পাত্তা দেয়নি।&dquote;&dquote;

রবার্ট উডরাফের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল, সঠিক মানুষকে চিনতে পারা। দায়িত্ব নিয়ে উডরাফ যাদের কোম্পানির উচ্চপদে বসিয়েছিলেন, পরবর্তীতে কোকা-কোলার সাফল্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কোনো প্রতিপক্ষের কাজ যদি খুব শক্ত হতো, তাহলে বিরক্ত না হয়ে উডরাফ উল্টো খুশি হতেন এবং সেই বিরোধীকে কোকা-কোলায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেষ্টা করতেন। কোকা-কোলার কর জটিলতা নিয়ে আর্থার অ্যাকলিন কিছু ঝামেলা তৈরি করেছিলেন। শিগগিরই দেখা গেল আর্থার কোকা-কোলার অফিসে কাজ করছেন। আবার জন সিবলি নামের এক তরুণ আইনজীবী কিং অ্যান্ড স্পালডিংয়ের পক্ষ হয়ে কোকা-কোলার বিরুদ্ধে লড়াই করেন। কিন্তু কিছুদিন পর যাদের বিরুদ্ধে কাজ করছিলেন, এবার তাদের পক্ষেই তাকে কাজ করতে দেখা গেল। এই সিবলি আজীবন উডরাফের বন্ধু ও উপদেষ্টা হয়ে ছিলেন।

১৯২৯ সালে উডরাফ কোকা-কোলার ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশে কোকা-কোলার স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন হতো। এর কারণ ছিল পানির ধরনের ভিন্নতা, পরিচ্ছন্নতা, কার্বোনেশন লেভেল, সোডা বা সিরাপের অনুপাত। কিন্তু ১৯২৯ সালে উডরাফ ঘোষণা করলেন, এ পরিস্থিতি আর চলতে পারে না। দুনিয়ার সবখানে কোকা-কোলার স্বাদ একই হতে হবে। এজন্য তিনি তার কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রশিক্ষণ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে সঠিক পদ্ধতিতে কোকা-কোলা তৈরির পদ্ধতি শেখানো হতো। এরপর উডরাফ মনোযোগ দেন কোকা-কোলার স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের দিকে। কোকা-কোলার সব ট্রাক একই রকম হতে হবে— হলুদ রঙের বডি এবং হুড হবে লাল-কালো রঙের। কর্মীদের জন্য বাছাই করা হলো হলুদ-সাদা স্ট্রাইপের পোশাক, যা নিয়ে কর্মীদের একটু আপত্তি ছিল। কারণ সেগুলো নাকি দেখতে জেলাখানার কয়েদিদের পোশাকের মতো। এরপর কোকা-কোলার ১ হাজার ২০০ কারখানায় যেন একই রকম পরিচ্ছন্ন পরিবেশে কাজ হয়, সেটা নিশ্চিত করা হলো। এসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের বাইরে উডরাফের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল  কোকা-কোলাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া। এ বিষয়ে তিনি কোকা-কোলার বোর্ডের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে কাজ করেছিলেন। ১৯৩২ সালে এক সাংবাদিক লিখলেন, বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও কোকা-কোলা এগিয়ে চলেছে। কী এমন আছে এ পানীয়তে যে, দুনিয়াব্যাপী মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক মন্দা, প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও কোকা-কোলা এগিয়ে যাচ্ছিল নিশ্চিতভাবে। ১৯৩০-এর দশকে কোকা-কোলা সিনেমা, সান্তা ক্লজের পোশাকে স্থান করে নেয়।

১৯৩৮ সালে কোকা-কোলার বিজ্ঞাপনের জন্য বেশকিছু অমোঘ নিয়ম তৈরি করা হয়, যার মধ্যে ছিল—&dquote;&dquote;

-‘কোকা-কোলা’ কোনো অবস্থাতেই দুই লাইনে লেখা যাবে না।

-কোকা-কোলাকে কখনো ‘ইট’ (ইহা) বলে সম্বোধন করা যাবে না।

-কোকা-কোলাকে কখনো ব্যক্তিগত পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যেমন— কখনো এ রকম বলা যাবে না যে, ‘কোকা-কোলা আপনাকে লাঞ্চের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’

-শিশুদেরও কোকা-কোলা পান করা উচিত এমনটা কখনো প্রচার করা যাবে না।

দুনিয়াজুড়ে কোকা-কোলা কোম্পানির হয়ে সরাসরি কাজ করেন দেড় লাখের বেশি মানুষ। তবে কোক বিক্রি, কনটেইনার, পানি সরবরাহসহ অন্য বিষয়গুলো যুক্ত করলে কোকা-কোলাসংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের পরিমাণ বহু লাখ হবে। ২০১২ সালে পরপর ১৩ বছরের জন্য কোকা-কোলা দুনিয়ার সেরা বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল।

২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিয়ানমারের কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এর সঙ্গে সঙ্গেই দেশটিতে ঢুকে পড়ে কোকা-কোলা। ফলে এখন কেবল দুনিয়ার দুটি মাত্র দেশে কোকা-কোলা বৈধভাবে বিক্রি হয় না— একটি হলো কিউবা, অন্যটি উত্তর কোরিয়া।

২০০৭ সালে প্রায় ৪০ কোটি ডলার খরচ করে কোকা-কোলা কোম্পানি তাদের নিজস্ব ইতিহাস সংরক্ষণে এক জাদুঘর তৈরি করেছে। বছরে ১০ লাখের বেশি দর্শনার্থী এ জাদুঘর দর্শন করেন। এ জাদুঘরের মাথায় আছে ৩০ ফুট লম্বা কোকের একটি বোতল, আটলান্টার টার্নার ফিল্ডের মাথায়ও একটা দৈত্যাকার কোকের বোতল আছে, যার উচ্চতা ৪৯ ফুট। এ বড় বড় বোতলের বাইরে কোকা-কোলার কিছু অবিশ্বাস্য কীর্তি এখানে উল্লেখ করলে মন্দ হবে না! আট আউন্সের বোতলে এখন পর্যন্ত যত কোকা-কোলা উৎপাদন হয়েছে, সেই বোতলগুলো যদি একটির ওপর অন্যটি রাখা হয়, তাহলে সেগুলো ২ হাজার ১৩৬ বার পৃথিবীর মাটি থেকে চাঁদে গিয়ে ফিরে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে ওল্ড ফেইথফুল নামে যে উষ্ণ প্রস্রবণটি আছে, সেটা স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ঘণ্টায় ৭ হাজার ৫২৫ গ্যালন পানি প্রবাহিত করে। এ-যাবৎ যত কোকা-কোলা উৎপাদন হয়েছে, তা যদি একত্র করা হয়, তাহলে ওল্ড ফেইথফুলের প্রবাহে ৭ হাজার ৪৯৮ বছর ধরে প্রবাহিত হতে থাকবে। ২০০৮ সালের আগস্টে লস অ্যাঞ্জেলেসের একজন অভিনেতা ডাস্টি সর্গ তার প্রিয় পানীয় কোকা-কোলার নামে একটি ফেসবুক পাতা খোলেন। এক মাসের মধ্যে এ পাতার ফলোয়ারের সংখ্যা হয়ে যায় সাড়ে সাত লাখ। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৩৩ লাখ। যুক্তরাষ্ট্রে এটিই তখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফলোয়ারসমৃদ্ধ ফেসবুক পাতা ছিল। প্রথম স্থানে ছিলেন তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।&dquote;&dquote;

২০০৯ সালে কোকা-কোলার ব্যবসা ৩ শতাংশ সম্প্রসারিত হয় এবং প্রথমবারের মতো মুনাফা ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে বছর তারা ২০২০ সালের জন্য কোকা-কোলার রূপকল্প নির্ধারণ করেছিল। এ রূপকল্পে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোম্পানিকে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। তারা হিসাব করে দেখেছিলেন, ১০০ কোটি মানুষ দুনিয়াজুড়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে যুক্ত হবে।

‘আমাদের মিশন: দুনিয়াকে সতেজ করা... আমরা আশা ও খুশিকে জাগিয়ে তুলতে চাই।... মূল্য তৈরি করতে চাই এবং একটা পরিবর্তন দেখাতে চাই।’— এই হচ্ছে কোকা-কোলা কোম্পানির ভিশন ২০২০, যা ২০০৯ সালে প্রণীত হয়েছিল।

কোকা-কোলা পশ্চিমা দুনিয়ায় এক রকম ঈশ্বরবিহীন ধর্ম। মার্ক পেন্ডারগ্রাস্ট একবার কোকা-কোলার এক কর্মকর্তার সাক্ষাত্কার নিয়েছিলেন। সেই কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘কোকা-কোলা হচ্ছে হোলি গ্রেইল। জাদুর মতো। যেখানেই যাই, মানুষ যখন জানতে পারে, আমি কোকা-কোলার হয়ে কাজ করি, তখন তাদের আচরণ দেখলে মনে হয়, আমি যেন ভ্যাটিকানের প্রতিনিধি। আমি খুবই বিস্মিত হই। কোকা-কোলার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা এমনই।’ রোবের্তো গোইজুয়েতার কথা এ লেখার শুরুতে এসেছিল। তার একটি উক্তি দিয়েই এ লেখার সমাপ্তি টানব, ‘কোকা-কোলার হয়ে কাজ করাটা একটা আহ্বান। এটা জীবিকা অর্জনের উপায় নয়। এটা একটা ধর্ম।’

তবে কোকা-কোলার সেই দিন এখন আর নেই। কোকা-কোলা এখন আর কোনো আহ্বান নয়। অনেকেই এখন আর কোককে সেরা প্রতিষ্ঠান মনে করেন না। ক্যারিয়ারের শুরুতে শুরু হিসেবে কিছুটা সময় কোকা-কোলা কেম্পানিতে কাজ করেন। তবে পুরনো কর্মকর্তাদের কাছে কোকা-কোলা এখনো অন্য রকম কিছু। তারা বলেন, শুনতে হাস্যকর মনে হলেও কোকা-কোলা যেন তাদের রক্তে মিশে গেছে।

 

মার্ক পেন্ডারগ্রাস্টের ফর গড, কান্ট্রি অ্যান্ড কোকা-কোলা : দ্য ডেফিনিটিভ হিস্টরি অব দ্য গ্রেট আমেরিকান সফট ড্রিংক অ্যান্ড দ্য কোম্পানি মেকস ইট গ্রন্থ অবলম্বনে