সংবাদপত্রের ইতিহাস পুরনো। তথ্য যখন ‘খবর’ হয়ে ওঠে তখন থেকেই সংবাদ পরিবেশনের সূচনা। রাজাদের কাছে নানা সংবাদ একত্রে পরিবেশনকে এ প্রক্রিয়ার একটা ধাপ বলা যায়। সে হিসেবে খ্রিস্টের জন্মের আগেও সংবাদপত্রের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সংবাদপত্রের আজকের যে চেহারা তা এসেছে আরো পরে। ভারতবর্ষে আধুনি সংবাদপত্র এসেছে ঔপনিবেশিক শাসনের সূত্রে। ১৭৭৯ সালে প্রকাশিত হিকি’স বেঙ্গল গেজেটকে ভারতের প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে ধরা হয়। বাংলায় সমাচার দর্পণ এর পরবর্তী সময়ের জনপ্রিয় পত্রিকা। এখনো পত্রিকাটির নাম আমাদের পরিচিত। তবে সমাচার দর্পণ এখন টিকে নেই। এ অঞ্চলে সংবাদপত্রের একটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যাওয়া। বহু পত্রিকার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। আবার কিছু পত্রিকা টিকে আছে বছরের পর বছর। ১০০ এমনকি ২০০ বছর পার করেছে এমন ভারতীয় পত্রিকাও আছে বেশকিছু।

২০০ বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে বম্বে সমাচার

১৮২২ সালে প্রকাশিত হয় ভারতীয় পত্রিকা বম্বে সমাচার। এখন পর্যন্ত প্রকাশনা অব্যাহত রাখা পত্রিকাটি দীর্ঘতম সময় ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হওয়া পত্রিকা। ১৮২২ সালে ফারদুনজি মারজবানের হাত ধরে পত্রিকাটির সূচনা হয়। তিনিই ভারতে প্রথমবারের মতো আঞ্চলিকভাবে প্রিন্টিং প্রেস স্থাপন করেন। উনিশ শতকের শুরুর দিকের এ সাংবাদিক ভারতীয় পত্রিকা ও সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ। পত্রিকাটি প্রাথমিকভাবে গুজরাট থেকে প্রকাশিত হতো। সাপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা করেছিল বম্বে সমাচার। কোয়ার্টো শিটে (১০–৮ ইঞ্চি) আট পৃষ্ঠা ছাপা হতো পত্রিকাটি। ক্রোড়পত্রসহ ১৪ পৃষ্ঠার পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো।

১৯৩২ সাল পর্যন্ত সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয় বম্বে সমাচার । এরপর ১৮৫৫ পর্যন্ত দ্বিসাপ্তাহিক হিসেবে এবং ১৮৫৫ থেকে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে যাত্রা করে পত্রিকাটি। শুরুতে হারানো বিজ্ঞপ্তি বা এ ধরনের লিখিত বিজ্ঞাপন দিয়ে পত্রিকাটির যাত্রা হয়। তবে দিনে দিনে পত্রিকাটি আধুনিক হতে থাকে এবং এর জনপ্রিয়তা বাড়ে। ফারদুনজির কীর্তি অর্থাৎ তুখোড় সাংবাদিকতা ও পাবলিশিংয়ের গুণের কারণে পত্রিকাটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ফলে বম্বে সমাচার অল্পদিনের মধ্যেই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে পত্রিকাটি ভারতের রাজনীতি ও জনজীবনেও প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামেও পত্রিকাটির অবদান ছিল এবং তা মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল প্রমুখ উল্লেখ করেছেন। পত্রিকাটি এ বছরের জুনে ২০০ বছর পূর্ণ করেছে। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পত্রিকাটির দ্বিশতবার্ষিকী উদযাপনে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে পত্রিকাটির নাম মুম্বাই সমাচার।

তবে বম্বে সমাচারের আগেই প্রকাশিত হয়েছিল মাদ্রাজ কুরিয়ার। এটি তত্কালীন পত্রিকার মধ্যে অন্যতম প্রথম পত্রিকার পাশাপাশি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা। তবে শুরুতে মূলত সরকারি নোটিস ছাপানো হতো বেশি পরিমাণে। ১৭৮৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে পত্রিকাটি ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হতে শুরু করে। হিউ বয়েড ছিলেন প্রথম সম্পাদক। তবে পত্রিকাটি মধ্যখানে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে অনলাইনে আনার মাধ্যমে মাদ্রাজ কুরিয়ার নতুন করে ফেরে। তবে ছাপানো দৈনিক না হওয়া এবং টানা প্রকাশ না হওয়ায় শতবর্ষী ভারতীয় পত্রিকার তালিকায় এর স্থান হয় না।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। দ্য টাইমস গ্রুপের এ পত্রিকা প্রচার সংখ্যার হিসাবে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম পত্রিকা। পত্রিকাটির প্রথম সংস্করণ ১৮৩৮ সালে প্রকাশিত হয়। সে হিসেবে এটি ভারতের সবচেয়ে পুরনো ইংরেজি পত্রিকা হওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় পত্রিকা, যা প্রথম প্রকাশের পর থেকে এখনো চলমান। পত্রিকাটি বম্বে টাইমস অ্যান্ড টাইমস জার্নাল নামে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির দায়িত্বে ছিলেন রাওবাহাদুর নারায়ণ দীননাথ ভেলকার। তিনি ছিলেন মহারাষ্ট্রের একজন সমাজ সংস্কারক। পত্রিকাটিতে ব্রিটেন, বহির্বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের সংবাদ থাকত। পত্রিকাটি প্রথমে বুধ ও শনিবার প্রকাশ হতো। ১৮৬০ সালে পত্রিকাটির সম্পাদক রবার্ট নাইট এতে ভারতীয় শেয়ারহোল্ডারদের ইচ্ছানুসারে বম্বে স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে একীভূত করে একটি এজেন্সির সূচনা করেন। এর সঙ্গে টাইমস যুক্ত হয়ে তা রয়টার্সের ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৮৬১ সালে নাইটই বম্বে টাইমস ও স্ট্যান্ডার্ডের নাম বদলে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া নামকরণ করেন।

একুশ শতকে এসে পত্রিকাটির আধুনিকায়ন করা হয়। ২০০৬ সালের শেষের দিকে বিজয়ানন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেড টাইমস অধিগ্রহণ করে। এরা আগে কন্নড় পত্রিকা প্রকাশ করত। ২০০৮ সালের ১২ এপ্রিল থেকে এর একটি চেন্নাই সংস্করণ ও ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোলাপুর সংস্করণ প্রকাশিত হয়। পত্রিকা, সংবাদ প্রকাশের পাশপাশি পত্রিকাটির পৃষ্ঠপোষকতায় টয়ফা (TOIFA) অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত হয়। বলে রাখা ভালো, টাইমস অব ইন্ডিয়া সংক্ষেপে TOI নামেই পরিচিত।

দ্য স্টেটসম্যান

দ্য স্টেটসম্যান ১৮৭৫ সালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর নিয়মিত কলকাতা, নয়াদিল্লি, শিলিগুড়ি ও ভুবনেশ্বরে প্রকাশিত হতো। মূলত ১৮১৮ সালে স্থাপিত দ্য ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়াকে অধিগ্রহণ করে এটির যাত্রা হয়। এটি দ্য স্টেটসম্যানের অধীনে আসে এবং চৌরঙ্গি স্কয়ারে স্টেটসম্যান হাউজে এর হেডকোয়ার্টার ছিল। দ্য স্টেটসম্যানের ন্যাশনাল এডিটোরিয়াল অফিস আবার ছিল নয়াদিল্লির কনট প্লেসে।

রবার্ট নাইট এ পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ইন্ডিয়ান স্টেটসম্যান তিনিই শুরু করেন। ১৯২৭ সালে দ্য ইংলিশম্যান অধিগ্রহণ করে পত্রিকাটি। স্টেটসম্যান একটি ব্রিটিশ করপোরেট প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হতো। বর্তমানে পত্রিকাটির সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার। এর সার্কুলেশন প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ এবং রোববার তা বেড়ে আড়াই লাখ কপির কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

দ্য হিন্দু

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ইংরেজি পত্রিকা দ্য হিন্দু। ১০০ বছর পার করেছে এ পত্রিকাও। তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে হেডকোয়ার্টার এ পত্রিকার, মালিকানা দ্য হিন্দু গ্রুপের। সার্কুলেশন হিসাবে এটি টাইমস অব ইন্ডিয়ার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে। দ্য হিন্দু ভারতের ১১টি স্টেটের ২১টি স্থান থেকে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি ১৮৭৮ সালে মাদ্রাজ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রথমে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হয় দ্য হিন্দু। ব্রিটিশরাজের রাজনীতির প্রতিবাদে এ পত্রিকা ভূমিকা রেখেছিল। শ্রীনিধি প্রেস থেকে ১০০ কপি প্রিন্ট করে বিতরণ করা হয়। পত্রিকার শুরুতে সম্পাদক ছিলেন সুব্রমনিয়া আইয়ার এবং প্রথম ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাঘবাচার্য।

দ্য হিন্দু বর্তমানে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়। তবে প্রথমে অন্যান্য পত্রিকার মতো দ্য হিন্দুও বিজ্ঞাপন ধরেই চলত। ১৮৮৩ থেকে সপ্তাহে তিনদিন করে পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো। ১৮৮৯ থেকে সান্ধ্য সংস্করণও প্রকাশ হয়। চার আনা করে একটি কপি বিক্রি হতো। সে সময় এর অফিস ছিল ১০০ মাউন্ট রোডে। ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত সেখানেই ছিল এর ঘরবাড়ি। ১৯০৫ সাল থেকে অবশ্য পত্রিকাটি একটি পরিবারের হাতে চলে যায়। সে সময় এস কস্তুরি রাঙা আইয়েঙ্গার পত্রিকাটি কিনে নেন। এখন বলা হয়, পত্রিকার মালিক কস্তুরি পরিবার। বর্তমান চেয়ারপারসন মালিনি পার্থসারথি। পত্রিকাটির প্রকাশক এন রবি ও বর্তমান সম্পাদক সুরেশ নাম্বাথ।

দ্য ট্রিবিউন

অমৃতসর, জলন্ধর, লুধিয়ানা, ভাটেন্ডা, চণ্ডীগড় ও নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত হয় দ্য ট্রিবিউন। ১৮৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় দ্য ট্রিবিউন। সর্দার দয়াল সিং মাজিথিয়ার হাত ধরে পত্রিকাটির যাত্রা হয়। বর্তমানে পত্রিকাটি ভারতের অন্যতম প্রধান দৈনিক এবং বিশ্বজুড়ে এটির সার্কুলেশন হয়। পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও চণ্ডীগড় ইউনিয়নের সীমার মধ্যে পত্রিকাটি অধিক প্রচলিত ও প্রচারিত। ভারতীয় অন্যান্য পত্রিকার মতোই দ্য ট্রিবিউন একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো। এরপর এটি জাতীয়তাবাদী পত্রিকায় পরিণত হয়। পত্রিকাটি দৃঢ়ভাবে নিজেদেরর মত প্রকাশ করতে শুরু করে। তাদের আপসহীন মনোভাব ও বক্তব্যের কারণে পত্রিকাটি আলাদা মনোযোগ লাভ করে। এছাড়া তাদের পরিবেশিত সংবাদ ব্রিটিশ সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল।

১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার প্রভাবে পত্রিকাটি প্রভাবিত হয়। পাঞ্জাব ভাগ হওয়ার কারণে এর প্রভাব সরাসরি ভোগ করেছিল দ্য ট্রিবিউন। দেশভাগের পর পত্রিকাটি আম্বালায় প্রেস তৈরি করে সেখান থেকে নতুনভাবে যাত্রা করে। ব্রডশিটে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকাটি মধ্যম বাম ঘরানার। পত্রিকাটির বর্তমান সম্পাদক রাজেশ রামচন্দ্রন। দ্য ট্রিবিউনের দুটি সহপ্রকাশনা রয়েছে। হিন্দিতে প্রকাশিত হয় দৈনিক ট্রিবিউন এবং পাঞ্জাবি ভাষায় পাঞ্জাবি ট্রিবিউন। ১৯৯৮ সালে দ্য ট্রিবিউনের অনলাইন ভার্সন চালু হয় এবং প্রিন্ট পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইনও সমান জনপ্রিয়।

আনন্দবাজার পত্রিকা

এ বছরই আনন্দবাজার পত্রিকা শতবর্ষ পূর্ণ করল। পত্রিকাটির মালিকানা রয়েছে এবিপি গ্রুপের হাতে। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় পত্রিকা আনন্দবাজার। খবর থেকে শুরু করে শিল্প, সাহিত্য সংস্কৃতি, বিনোদন প্রতিটি ক্ষেত্রেই আনন্দবাজার নিজেকে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। ১৯২২ সালে এর প্রতিষ্ঠা হলেও পত্রিকাটির ইতিহাস আরো আগে শুরু হয়েছে।

১৮৭৬ সালে যশোরের মাগুরা থেকে একটি পত্রিকা প্রকাশ হয়। তুষার কান্তি ঘোষ ও তার পিতা শিশির ঘোষ ছিলেন এ পত্রিকার কাণ্ডারি। তুষার কান্তির দাদির বোন আনন্দময়ীর নামের সঙ্গে মিল রেখে তারা এর নাম দিয়েছিলেন আনন্দবাজার। তবে পত্রিকাটি বেশিদিন চলেনি। এরপর ১৮৮৬ সালে তুষার কান্তি তার দাদি অমৃতময়ীর নামে চালু করেন অমৃতবাজার। পত্রিকাটিও বেশিদিন চলেনি। পরে ১৯২২ সালের মার্চে সুরেশ চন্দ্র মজুমদারের তত্ত্বাবধানে প্রফুল্ল কুমার সরকারের সম্পাদনায় পত্রিকাটি পুনরায় প্রকাশিত হতে শুরু করে। শুরু থেকেই পত্রিকাটি ব্রিটিশবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছিল। ২০০১ সালে এর অনলাইন সংস্করণ প্রকাশিত হতে শুরু করে। পত্রিকাটির প্রধান অফিস কলকাতায়। ব্রডশিটে প্রকাশিত আনন্দবাজারের সার্কুলেশন প্রতিদিন ১০ লাখ কপিরও বেশি। আনন্দবাজারের সিস্টার কনসার্ন হিসেবে ১৯৮২ সালে ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ প্রকাশিত হতে শুরু করে।

আরেকটি ইংরেজি পত্রিকা এ আলোচনায় বিশেষ স্থান পাওয়ার দাবিদার। পাইওনিয়ার মেইল নামের পত্রিকাটি ১৮৬৫ সালে যাত্রা করে। এটি ভারতের অন্যতম প্রথম ইংরেজি সংবাদপত্র। ১৮৬৫ সালে এলাহাবাদ থেকে প্রকাশ হয় পত্রিকাটি। জর্জ অ্যালেন নামের একজন সফল চা ব্যবসায়ী পত্রিকাটি শুরু করেন। ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি সপ্তাহে তিনদিন প্রকাশ হতো। এর পর থেকে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশ হতে শুরু করে। ১৮৭২ সালে আলফ্রেস সিনেট এ পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৮৭৪ সালে পাইওনিয়ার মেইল থেকে পত্রিকাটির নাম দ্য পাইওনিয়ার মেইল করা হয় এবং এতে ফিচারসহ গল্প ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশ শুরু হয়। পত্রিকাটির সঙ্গে বিখ্যাত লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের নাম জড়িয়ে আছে। পাইওনিয়ারের এলাহাবাদ অফিসে তিনি সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে লখনৌ থেকে পাইওনিয়ারের হিন্দি সংস্করণ শুরু করে। ২০১২ সালে এর রায়পুর ব্যুরো শুরু করা হয়।

১৯১১ সালে গোপালকৃষ্ণ গোখলের হাত ধরে নাগপুর থেকে প্রকাশ হয় হিতবাদ। পরে পত্রিকাটি বনোয়ারিলাল পুরোহিতের মাধ্যমে পুরোহিত অ্যান্ড কোম্পানির মালিকানায় চলে যায়। পত্রিকাটির একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি নাগপুর, জব্বলপুর, রায়পুর ও ভোপাল থেকে প্রকাশ হয় এবং প্রতিটি শহরের ক্ষেত্রে পত্রিকাটির আলাদা ক্রোড়পত্র থাকে, যেখানে ওই শহরের সংবাদ প্রাধান্য পায়। পত্রিকাটির বর্তমান সম্পাদক বিজয় পানসিকার। হিতবাদের অনলাইন সংস্করণও পাঠকের মধ্যে জনপ্রিয়।

জাতীয় পর্যায়ের এ পত্রিকাগুলো একাধারে জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ। এর বাইরেও বেশকিছু পত্রিকা স্থানীয়ভাবে প্রকাশ হয়ে এখনো টিকে আছে। পার করেছে শত বছর। এর মধ্যে মালয়ালম পত্রিকা দীপিকা অন্যতম। পত্রিকাটি ১৮৮৭ সালে প্রথম প্রকাশ হয়। পত্রিকাটির সূচনা হয় একজন সিরিয়ান ক্যাথলিক যাজকের হাত ধরে। নিধিরিক্কাল মানিক্কাথানর নামের এ পুরোহিতের হাত ধরে শুরু হওয়া পত্রিকাটির নাম প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল নাসরানি দীপিকা। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এ নামেই প্রকাশিত হতো। বর্তমানে কোচি, কোট্টায়াম, কান্নুর, ত্রিশুরসহ প্রভৃতি স্থান থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। দীপিকার বর্তমান প্রধান অফিস কোট্টায়মে অবস্থিত। এরপর নাম করতে হয় মালয়ালা মনোরমা পত্রিকার। ১৮৮ সালে শুরু হয়ে পত্রিকাটি বর্তমানে কোট্টায়ম ও কেরালা থেকে প্রকাশিত হয়। ধারণা করা হয়, পত্রিকাটির পাঠক সংখ্যা দুই কোটির কাছাকাছি। সার্কুলেশনের হিসাবে পত্রিকাটি প্রতিদিন ২৪ লাখ কপি পাঠকের হাতে যায়। ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজপেপার্সের ২০১৬ সালের হিসাব অনুসারে বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত পত্রিকার মধ্যে মালয়ালা মনোরমার অবস্থান ১৪তম। মালয়ালম ভাষার কেরালা কৌমুদিও শতবর্ষ পার করেছে। ১৯১১ সালে যাত্রা করে সংবাদপত্রটি। সিভি কুনহিরামণের হাত ধরে সাময়িকী হিসেবে শুরু হয় কেরালা কৌমুদি।

মহারাষ্ট্রের দুটো পত্রিকাও শতবর্ষ পার করেছে। এর মধ্যে নবকালের বয়স ১০১ বছর। ১৯২১ সালে লোকমান্য পত্রিকাটি যাত্রা করে। কৃষ্ণজি প্রভাকর খাদিকার এ পত্রিকা শুরু করেন। তবে দুই বছরের মাথায় তিনি নিজেকে সরিয়ে নেন। ১৯২৩ সালে তিনিই শুরু করেন নবকাল। এ কারণে পত্রিকাটি ১০০ বছর পার করেছে বলা যায় আবার যায়ও না। তবে কেসারি সন্দেহাতীতভাবেই শতবর্ষ পার করেছে। ১৮৮১ সালে বালগঙ্গাধর তিলকের হাত ধরে মারাঠি পত্রিকাটি যাত্রা করে। ১৪১ সাল আগে যাত্রা করা পত্রিকাটি জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। মুদ্রিত সংস্করণের পাশাপাশি পত্রিকাটি অনলাইনেও প্রকাশ হয়। শতবর্ষ পুরনো এ পত্রিকার প্রতিটিই ভারতের রাজনীতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে।

 

আলী আমজাদ: লেখক