খ্রিস্টের জন্মের
৯৬ বছর
পর মিসর
যখন রোমের
শাসনাধীন, তখনকার
স্পিমনবিসি চুক্তি
পরীক্ষা করে
কিম ব্র্যান্ডলি
তার ‘ডিসকভারিং
দ্য রোমান
ফ্যামিলি; স্টাডিজ
ইন রোমান
সোস্যাল হিস্ট্রি’
গ্রন্থে একটি
ধারণা দিতে
চেয়েছিলেন যে
স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ
করা নারী
কোনো কাজকর্ম
বা ব্যবসা-বাণিজ্য
শেখার জন্য
শিক্ষানবিশি করেনি।
শিক্ষানবিশ হিসেবে
যাদের নাম
অন্তর্ভুক্ত হয়েছে
তারা চারটি
শ্রেণীর মধ্যে
তিনটির অন্তর্ভুক্ত।
চারটির মধ্যে
দুটি হচ্ছে
ফ্রিবোর্ন পুরুষ
ও ফ্রিবোর্ন
নারী অর্থাৎ
তারা দাসত্বের
দায়মুক্ত। অন্য
দুটি স্লেইভ
গার্ল ও
স্লেইভ বয়েস।
ক্রীতদাস বালিকা
ও ক্রীতদাস
বালক। তিনি
শিক্ষানবিসির যেসব
দলিল পেয়েছেন,
তাতে ফ্রিবোর্ন
বালিকা বা
নারী একজনও
নেই। যারা
কাজকর্ম ও
বাণিজ্য নিয়েছে
তারা স্বাধীন
পুরুষ এবং
ক্রীতদাস নারী
ও ক্রীতদাস
পুরুষ। এ
আবিষ্কার থেকে
কিথ ব্র্যাডলি
এটাই প্রমাণ
করতে চেয়েছেন
রান্নাবান্না গার্হস্থ্যকর্ম,
সন্তান ধারণ
ও সন্তান
পালন, স্বামীর
মনোরঞ্জনের মধ্যেই
সীমাবদ্ধ ছিল
স্বাধীন নারীর
কর্মজীবন। আর
এস বাগনাল
ও বি
ডব্লিউ ফ্লাইয়ারের
লেখা ‘দ্য
ডেমোগ্রাফি অব
ইজিপ্ট (১৯৯৫)-এ
দেখানো হয়েছে
স্বাধীন পরিবারে
জন্ম নেয়া
মেয়ে শিশুকে
কম বয়সে
বিয়ে দেয়া
হয়েছে কিন্তু
স্বাধীন পরিবারে
জন্ম নেয়া
পুরুষ শিশু
কুড়ির শেষে
বিয়ে করেছে।
ঘরের বাইরে
গেলে মেয়েদের
কৌমার্য নষ্ট
হতে পারে
এ আশঙ্কায়
তাদের গৃহাভ্যন্তর
হয়েছে। তার
পরও এদের
মধ্যে যারা
পরবর্তী সময়ে
কর্মদক্ষতা দেখিয়েছে,
তারা প্রতিষ্ঠানিক
প্রক্রিয়া এড়িয়ে
পরিবারে জ্যেষ্ঠ
সদদ্যের কাছে
কাজ শিখেছে,
ব্যবসা-বাণিজ্যের
কাজও রপ্ত
করেছে। তার
প্রমাণ মিসরে
নারী শাসন
এবং কখনো
কখনো নারীর
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
থেকে স্পষ্ট
হয়েছে। এর
সঙ্গে মোগল
হেরেমের নারীর
কিছুটা মিল
পাওয়া যায়।
তাদের হেরেমের
সীমানা প্রাচীরের
বাইরে যাওয়ার
কোনো সুযোগ
ছিল না।
তবু তাদের
কেউ কেউ
সুশিক্ষিত হিসেবেই
আত্মপ্রকাশ করেছে।
সম্রাট আকবরের
সময় মহাসমারোহে
নওরোজ উৎসব
হতো। প্রবাসী
(৩৪০ প্রথম
খণ্ড) থেকে
উদ্ধৃত করা
হচ্ছে: ‘৯৯৪
হিজরির নওরোজ
(১১ মার্চ
১৫৮২ খৃ:)
উৎসব সম্পন্ন
হইয়াছিল আকবরের
নবনির্মিত রাজধানী
ফতেপুর সিক্রিতে।
আগ্রা-দুর্গে
কোন বৎসর
খুশরোজের বাজার
আদৌ রহিয়াছিল
কি না
সন্দেহ। কোন
ইতিহাসে ইহার
স্পষ্ট উল্লেখ
নেই। তবে
আজকাল নতুন
ও পুরাতন
দিল্লির মত
আগ্রা ও
ফতেপুর আকবরের
সময় প্রায়
এক শহর
ছিল। নওরোজের
সময় আগ্রা
ও ফতেপুর
শহরের দোকানপাট
উৎসবের সজ্জায়
রাজ্যে নানা
বর্ণের আলোকশজ্জায়
শুশোভিত হইত।
প্রথম বছর
১৮ দিন
ব্যাপী (১১
মার্চ ১৫৮২-১৯
মার্চ ১৫৮২)
নওরোজের উৎসব-মণ্ডপ
নির্ম্মিত হইয়াছিল
ফতেপুর সিক্রির
দেওয়ান-ই-আমের
ময়দানের চতুর্ষ্পাশ্বস্থ
দুর্গপ্রাচীর সংলগ্ন
১২০টি বারান্দায়।
সম্রাট উৎসব
মণ্ডপের সাজসজ্জার
ও তত্ত্বাবধানের
ভার আমীরগণের
মধ্যে ভাগ
করিয়া দিয়াছিলেন।
সম্রাট এক
এক দিন
এক এক
জন আমীর
স্টলে অতিথি
হইতেন। সেদিনকার
বাদশাহী ভোজের
ভার পড়িত
সেই আমীরের
উপর। নওরোজের
বাজার সপ্তাহে
একদিন সর্বসাধারণের
জন্য খোলা
থাকিত। স্ত্রীলোক
নওরোজের উৎসব
মণ্ডপে প্রথমবার
আমন্ত্রিত হইয়াছিলেন
এই বৎসর
পর তৃতীয়
নওরোজের সময়
এইবার ফতেপুর-সিক্রি
হইতে চার
মাইল দূরে
হামিদা বানুর
উদ্যানে এই
উৎসব অনুষ্ঠিত
হইয়াছিল। উৎসবের
প্রথম কয়দিন
নওরোজের বাজার
সর্বসাধারণের জন্য
খোলা ছিল।
তাহার পরে
পুরুষদের যাওয়া
আসা নিষিদ্ধ
হইল। সম্রাটের
মা হামিদা
বানু, পিসি
গুলবদন বেগম
ও বাদশাহী
মহলের অন্যান্য
বেগম ও
আমীরদের পরিবার
উৎসব-মণ্ডপে
আমন্ত্রিত হইয়াছিলেন।
তাহাদিগকে প্রায়
এক লক্ষ
টাকার নজর
ও খেলাৎ
দেওয়া হইয়াছিল।
তখনকার বিবরণীতে
মীনা বাজার
বা দুপাশের
বাজার বলা
হয়নি। তার
আইন-ই-আকবরীর
বিবরণ অনুযায়ী
উৎসবের তৃতীয়
দিনটি ছিল
মীনা বাজার।
তবে তাতে
স্ত্রী দোকানদারের
বিষয়টি স্পষ্ট
হয়নি। আবার
অসূর্যস্পশ্যা বেগমেরা
বেপর্দা হইয়া
পুরুষ দোকানদারদের
নিকট হইতে
জিনিস কিনিতেন?
ইহা অতি
অসম্ভব ব্যাপার।
আবার একই
সাথে এ
প্রশ্নও করা
হয় ব্যবসা-বাণিজ্যে
আগ্রহী নারীদের
জন্য এই
মীনা বাজার
নাকি পিতৃতান্ত্রিক
সমাজে ক্ষমতাসীন
ব্যক্তিবর্গের খেয়াল
ও খায়েশ
মেটাতে মীনা
বাজারের আয়োজন?
আবার এটাও
সত্য বাণিজ্য
সফল মোগল
নারীরও উদাহরণ
রয়েছে। সম্রাট
জাহাঙ্গীরের মা
মরিয়ম জামানির
একটি বাণিজ্যিক
জাহাজ ছিল।
জাহাজটির নাম
‘রাহিমি’।
এই জাহাজেই
পারস্য উপসাগরীয়
দেশ ও
পশ্চিম এশিয়ার
সাথে তার
বাণিজ্য চলত।
রাহিমি কত
গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক
জাহাজ ছিল
তা বুঝতে
১৬১১ সালের
একটি ঘটনার
ওপর আলোকম্পাত
করতে হবে।
তখন পর্তুগিজ
জলদস্যুরা তার
জাহাজটি অবরোধ
করে দখল
করে নেয়
এবং ৩০
হাজার রিয়াল
মুক্তিপণ প্রদান
করলে তা
ছেড়ে দেবে
বলে জানায়।
এই নারীর
উদ্যোগেই সাময়িকভাবে
হলেও সাগর
থেকে পর্তুগিজ
জলদস্যুদের তাড়ানো
হয়। ‘রাহিমি’
পবিত্র ভূমি
মক্কায় বাণিজ্যিক
দ্রব্যসামগ্রী সরবরাহ
করত এবং
ভারত থেকে
হজ্জযাত্রী আনা-নেওয়া
করত। তার
মতো দুঃসাহসী
ব্যবসায়ী পুরুষদের
মধ্যেও কম
ছিল।
বৈদেশিক বাণিজ্যে
সক্রিয় ছিলেন
সম্রাজ্ঞী নূরজাহান।
তারও একাধিক
বাণিজ্যিক জাহাজ
ছিল এবং
বিদেশের সাথে
নীল ও
এমব্রয়ডারি করা
কাপড়ের ব্যবসা
করতেন। তার
কতগুলো বাণিজ্যিক
উদ্যোগ তাকে
বিপুলভাবে লাভবান
করে। সমুদ্রপথে
পর্তুগিজ জলদস্যুদের
উৎপাত সম্পর্কে
অবহিত ছিলেন
এবং বাস্তবধর্মী
ব্যবসায়ী হিসেবে
অর্থের বিনিময়ে
তাদের সাথে
সমঝোতা করেন।
টমাস রো
লিখেছেন, নূরজাহানের
উদ্যোগে রাজ
পরিবারে বিদেশি
দ্রব্য ভোগ্যপণ্য
ও প্রসাধন
সামগ্রী আসতে
শুরু করে।
তিনি আরো
বলেছেন, এই
বাণিজ্যিক তত্পরতার
সুযোগ কেবল
অবস্থাপন্ন ও
ক্ষমতাশীল নারীদেরই
ছিল। সম্রাট
শাহজাহানের কন্যা
জাহানারা সুরাট
বন্দরের বাণিজ্যিক
শুল্ক হিসেবে
বছরে সাড়ে
সাত লক্ষ
টাকা পেতেন,
এর পুরোটাই
জনকল্যাণে খরচ
করতেন। মোগল
শাসনামলের শুরুর
দিকে যেসব
ইউরোপীয় পর্যটক
এসেছেন তাদের
লেখা থেকে
প্রমাণিত হয়
ভারতীয় বিশেষ
করে মুসলমান
নারীরা যে
কেবল হেরেমবন্দি
ছিলেন বা
জেনানা মহলে
থাকতেন, এ
ধারণাটি সম্পূর্ণ
সত্য নয়।
১৬৭৬ সালে
ফ্রায়ার লিখেছেন:
ভারতীয় নারীরা
স্বামীর খাবার
সাজাচ্ছেন, দূর
থেকে পানি
আনছে, যাতাকলে
শস্য গুঁড়ো
করছে এবং
তখন আনন্দে
পান করছে।
সনাতন ইতিহাস
মোগল সাম্রাজ্যে
নারীর ভূমিকা
উপেক্ষা করে
গেছে। আসলে
অনেক ক্ষেত্রে
জেনানা মহলে
থেকেও তারা
রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা
রক্ষায় এবং
নাগরিকদের কল্যাণে
বাস্তব ভূমিকা
রেখেছেন।
ইতালীয় চিকিৎসক
ও পর্যটক
নিকোলো মানুচ্চি
(১৬৩৮-১৭১৭)
মোগল হেরেমের
খণ্ড খণ্ড
বর্ণনা দিয়েছেন।
যদিও হেরেম
পুরুষ অতিথির
জন্য নিষিদ্ধ
ছিল, তবু
সূর্যাস্তের আগ
পর্যন্ত কেউ
কেউ পরিদর্শনের
সুযোগ পেয়েছেন।
হেরেমের দৈনিক
ব্যয় তিরিশ
হাজার টাকার
কম নয়
বলে একজন
উল্লেখ করেছেন।
হেরেমবাসী নারীর
সাধনা ছিল
কতটা আকর্ষণীয়
করে নিজেকে
সম্রাটের কাছে
উপস্থাপন করা
যায় তারই
চেষ্টা করা।
নওরোজ উপলক্ষে
যে মেলা
(মীনা বাজার),
ইংরেজ পর্যটক
পিটার মুন্ডির
মতে, তার
একটি উদ্দেশ্য
হেরেমের নারীদের
একঘেয়ে জীবনে
কিছুটা বৈচিত্র্যের
স্বাদ এনে
দেওয়া। তাতে
অংশগ্রহণের জন্য
নগরের শ্রেষ্ঠ
সুন্দরীদেরও আমন্ত্রণ
জানানো হতো—
তাদের পিতা
বা অভিভাবক
সম্রাটের সে
নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান
করার মতো
সাহস পেতেন
না। কোনো
কোনো পর্যটক
লিখেছেন সম্রাটের
ইন্দ্রিয়সুখ বৃদ্ধির
অভিপ্রায়েও এই
আয়োজন করা
হতো। মেলাতে
তিনি সুন্দরী
নারী শনাক্ত
করে নিজের
হেরেমের জন্য
নির্ধারণ করতেন
এবং তাতে
হেরেমের ঐশ্বর্য
বৃদ্ধি পেত।
এ ধরনের
মীনা বাজারে
তিরিশ হাজার
নারীকে আমন্ত্রণ
জানানো হয়েছে।
সম্রাট ও
সভাসদদের কাছে
অত্যন্ত বাহারি
পণ্যের মধ্যে
সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল
সুন্দরী অভ্যগতদের
নিজেদের দেহ।
কেউ কেউ
মনে করেন
রাজধানীর সম্ভ্রান্ত
নারীগণ বিভিন্ন
অজুহাতে মীনা
বাজারের আমন্ত্রণ
এড়িয়ে চলতেন।
মানুচ্চি মনে
করেন বাজারের
ক্রেতা বিক্রেতা
পণ্য—পুরো
আয়োজনটিই ছিল
সম্রাটের জন্য
নারী পছন্দ
করার জন্য
একটি সুযোগ
সৃষ্টি করা।
হুমায়ুন নামা-তে
গুলবদন বেগম
লিখেছেন, সম্রাট
হুমায়ুনই প্রথম
আগ্রা শহরে
যমুনার তীরে
সুরক্ষিত অঞ্চলে
এ ধরনের
মেলার আয়োজন
করেন। তবে
সম্রাট আকবরের
সময় তা
খুশরোজ নামে
হর বছরের
মেলায় পরিণত
হয়।
বাণিজ্যিক পণ্যের
বিক্রি বৃদ্ধির
লক্ষ্যে মোগল
আমলের ব্যবসায়ীরা
বিভিন্ন সুবিধাজনক
স্থানে মেলার
আয়োজন করতেন
কিন্তু সম্রাট
আকবরই কেবল
নারী উপস্থিতির
মেলার উদ্ভাবক।
ভারতীয় জনতা
পার্টির একজন
নেতা সম্প্রতি
এই মীনা
বাজারের সূত্রে
আকবরকে দুশ্চরিত্র
ও অন্যান্য
ধর্মাবলম্বী নারীর
প্রতি আসক্ত
সম্রাট বলে
যথেষ্ট বিতর্ক
সৃষ্টি করেছেন।
আকবরের পর
জাহাঙ্গীর এবং
শাহজাহান এ
আয়োজন অব্যাহত
রাখেন। আমন্ত্রিত
নারীকে একটি
বাণিজ্যিক পণ্য
নিয়ে মেলায়
আসতে হতো।
মানুচ্চির বর্ণনা
মতে, সম্রাট
এসে সেই
নারীর সাথে
হাস্যকর ধরনের
দরকষাকষি করতেন
এবং এক
পয়সার জিনিস
হাজার টাকা
দিয়ে কিনে
নিতেন। সম্রাট
ও তার
পরিজন সামান্য
পণ্যের জন্য
অর্থ এবং
বহুমূল্য অলংকারও
দিয়ে দিতেন।
সম্রাটের চোখে
ভালো লাগা
কোনো নারী
দোকানির যে
হেরেমে সম্রাজ্ঞীদের
ভাগ ও
শান্তি কেড়ে
নেবে—এ
সম্পর্কে অবশ্য
কোনো লেখালেখি
চোখে পড়েনি।
ঐতিহাসিকদের কেউ
কেউ মনে
করে থাকেন
জাহাঙ্গীরের সাথে
নূরজাহানের সাক্ষাৎ
নওরোজের এই
মেলাতেই। তখনই
প্রেমের সূচনা
বিয়েতে গড়াতে
লেগে যায়
আরো দশ
বছর।
মীনা বাজারেরও আগে মনিপুরের ইমা কিথেল
এই
ভারতবর্ষেরই মোগল
রাজত্বের মীনাবাজার
সৃষ্টির আগেই
স্থাপিত ইমা
কিথেল এখন
এশিয়ার সর্ববৃহৎ
কেবলই নারীদের
বাজার। মিতি
ভাষায় ইমা
মানে ‘মা’
কিথেল মানে
‘বাজার’।
অর্থাৎ, মায়েদের
বাজার। বাজার
সৃষ্টির পর
অনেকেই একে
নুপি কিথেলও
বলেছেন। নুপি
মানে নারী
নারীদের বাজার।
এর ঐতিহাসিক
প্রেক্ষাপট জানা
দরকার। প্রাচীন
মনিপুর একটি
স্বাধীন রাষ্ট্র
ছিল। ১৭৫৪
সালে মনিপুর
বার্মার দখলে
চলে যায়।
ব্রিটিশদের সঙ্গে
সমঝোতা করে
১৮৯১ সালে
মনিপুর ব্রিটেনের
মিত্র প্রিন্সলি
টেস্টের মর্যাদা
লাভ করে।
ব্রিটিশ ভারতে
সর্বশেষ সংযুক্ত
প্রিন্সলি স্টেট
হচ্ছে মনিপুর।
১৯২৬ সালে
মনিপুরকে ব্রিটিশ
বার্মার অধীনে
ন্যস্ত করা
হয় এবং
৪ জানুয়ারি
১৯৪৭ পর্যন্ত
তা অব্যাহত
থাকে। ১৪
আগস্ট উপমহাদেশের
সঙ্গে মনিপুরও
স্বাধীন হয়
এবং ১৫
অক্টোবর ১৯৪৯
থেকে ভারতের
অংশ হতে
সম্মত হয়।
প্রদেশটির রাজধানীর
ইমফল। ১৫৩৩
সালে ইমফল
ও সংলগ্ন
অঞ্চলে লালাপ
কাবা জারি
করা হলো।
এটা অনেকটা
ড্রাফটিং বা
বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে
যোগদানের মতো
একটি ব্যাপার।
লালাপ মানে
হচ্ছে পুরুষের
বাধ্যতামূলক শ্রম
প্রদান। একটি
পরিবার যে
রাষ্ট্রের ভূমি
উপভোগ ও
ব্যবহার করছে,
তার বিনিময়ে
রাষ্ট্রকে বাধ্যতামূলক
শ্রম দান
করে কৃষি
ও অন্যান্য
কাজে সহায়তা
করবে। ১০
থেকে ৬০
বছর বয়স্ক
সব পুরুষের
জন্য এ
শ্রম বাধ্যতামূলক।
প্রকৃতপক্ষে এ
বাধ্য করা
শ্রমিকদের সৈন্য
হিসেবে বার্মা
ও ব্রিটিশদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করতে হয়েছে।
গ্রামসুদ্ধ পুরুষ
মানুষের অনুপস্থিতি
তাদের স্ত্রীদের
ওপর আর্থিক
চাপ তৈরি
করে। সংসারের
খরচ জোগানোর
দায়িত্ব মায়েরা
নিজেদের হাতে
তুলে নেয়।
তারা তাদের
কৃষিপণ্যের তাতের
কাপড় নিয়ে
সুবিধাজনক স্থানে
বেচাকেনা শুরু
করে দেয়।
এখান থেকেই
ইমা কিথেলের
সৃষ্টি। ইমফলের
এই মায়েদের
বাজার বা
নারীদের বাজারে
কেবলমাত্র নারীদের
প্রবেশাধিকার থাকে।
গ্রামীণ অর্থনীতি
উজ্জীবিত রাখতে
এ বাজার
বিশেষ ভূমিকা
রেখেছে। ইমফল
তথা মনিপুরের
অর্থনীতির এটি
একটি প্রাথমিক
বাজার। নারীর
ক্ষমতায়নের যত
তত্ত্ব কথাই
বলা হোক
না কেন,
যতক্ষণ না
নারীর হতে
নিজের উপার্জিত
টাকা আসছে
তাত্ত্বিক ক্ষমতায়নের
কোনো মূল্য
নেই।
ইমা কিথেল
প্রথমে খোলা
আকাশের নিচে
শুরু হলেও
ধীরে ধীরে
অস্থায়ী এবং
অর্ধশতকের বেশি
সময় ধরে
তা স্থায়ী
কাঠামোতে রূপ
নিয়েছে। ইমা
কিথেল ইমফল
থেকে সরিয়ে
যাওয়াইরাবান্ধ এলাকায়
স্থানান্তরিত হয়েছে।
পাঁচ থেকে
ছয় হাজার
নারী বিক্রেতার
এমন দ্বিতীয়
কোনো সমাবেশ
বা বাজার
এশিয়ায় নেই।
নিত্য ব্যবহূত
অন্যান্য সামগ্রী
সবই পাওয়া
যায়। দামও
প্রতিযোগিতামূলক। ১৮৯১
সালে ব্রিটিশ
শাসনকালীন শোষণমূলক
হস্তান্তরের কারণে
ইমা কিথেলের
বৃদ্ধি ও
বিকাশ ব্যহত
হয়। স্থানীয়
চাহিদা বিবেচনায়
না এনে
ব্রিটিশ শাসকরা
বিপুল পরিমাণ
খাদ্যসামগ্রী বাজার
থেকে তুলে
নিয়ে রফতানি
করে। ফলে
মৌসুমী খাদ্যাভাব
দুর্ভিক্ষে রূপ
নেয় এবং
অনাহার-মৃত্যু
নিত্যকার ঘটনায়
পরিণত হয়।
এতে ইমা
কিথেলের নারীরা
বিক্ষুব্ধ হয়ে
ওঠে এবং
রাস্তায় নেমে
প্রতিবাদ জানায়।
এ বিদ্রোহী
নারীদের দমন
করতে ব্রিটিশরা
তাদের বাজারের
সম্পত্তি বিদেশী
ও এলাকার
বাইরের ক্রেতাদের
কাছে বিক্রি
করার উদ্যোগ
নেয়। ততদিনে
সংগঠিত নারী
শক্তির ‘নুপি
লান’ নারীর
যুদ্ধ শুরু
হয়ে যায়।
এর মধ্যে
জাপানের ভারত
আক্রমণ এবং
মনিপুরে যুদ্ধের
ঝুঁকি বিবেচনায়
নিয়ে ব্রিটিশরা
হাত গুটিয়ে
নেয়। সময়টা
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের
সূচনায় ১৯৩৯
সালে। ২০০৬
সালে ৬
দশমিক ৮
মাত্রার ভূমিকম্পে
ইমা কিথেল
ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত
হয় এবং
ব্যবসায়ী নারীদের
জীবিকা সংকট
দেখা যায়।
বাজারের একটি
ব্যবস্থাপনা কমিটি
রয়েছে। সুনির্দিষ্ট
নীতিমালা অনুসরণ
করে বাজার
পরিচালনা করা
হয়। এ
বাজারে ব্যবসা
করার জন্য
যোগ্যতা ন্যূনতম
একবার বিবাহিত।
তালাকপ্রাপ্ত এবং
মনিপুর বিদ্রোহে
স্বামী হারানো
বিধবাদের বাজারে
ঠাঁই দেয়া
হয়েছে। বিক্রেতারা
৪০ থেকে
৭০ বছর
বয়সের। ব্যবসায়ী
নারীদের মূলধন
সহায়তা দিতে
বাজার সমিতির
একটি ঋণদান
কর্মসূচি রয়েছে।
বর্তমানে বার্ষিক
প্রায় ৫০
কোটি রুপির
ব্যবসা করে
থাকে ইমা
কিথেলের সদস্যরা।
এ নারীরা
শুধু ব্যবসাই
নয়, ১৮৯১
সালে ইংরেজের
বিরুদ্ধে যুদ্ধেও
অংশগ্রহণ করেছে।
১৯০৪ ও
১৯৩০-এর
দশকের শেষ
ভাগে তারা
বিদ্রোহ করেছে।
মূলত তাদের
আন্দোলনের কারণে
সরকার প্রান্তবর্তী
অঞ্চলসমূহে খাদ্যসরবরাহ
অব্যাহত রাখে।
এ বাজার
ঘিরে আর্থিক
কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি
এসব পরিবারের
সদস্যরা ক্রীড়া
ও সাংস্কৃতিক
কর্মকাণ্ডে অনেক
এগিয়ে গেছে।
এখনকার একজন
নারী বক্সার
অলিম্পিক স্বর্ণপদক
পেয়েছে। ভারোত্তোলন
বক্সিং এবং
পলোর শ্রেষ্ঠ
ভারতীয় খেলোয়াড়রা
ইমা কিথেল
পরিবারের।
নেতৃতান্ত্রিক একটি
বাজার কেন্দ্র
করে এ
নারী জাগরণ
অভাবনীয়। ইমা
কিথেল মডেল
অন্যরাও গ্রহণ
করছেন। মায়ের
মৃত্যুর পর
কিংবা তার
অক্ষমতা দেখা
দিল দোকান
ও ব্যবসা
তার পুত্রবধূর
কাছে হস্তান্তরিত
হয়। ফলে
অবিমিশ্র নারী
সংগঠন হিসেবে
এটি বছরের
পর বছর
ধরে টিকে
আছে। ইমা
কিথেল সম্ভবত
ভারতের প্রাচীনতম
কয়েকটি বাজারের
একটি।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের
কারণে আরোপিত
লকডাউনে ইমা
কিথেলের অনেক
ক্ষতি হয়েছে।
সদস্যরা ঘুরে
দাঁড়ানোর জন্য
আবার ঘর
ছেড়েছেন। সেখানকার
ব্যবসায়ী নারীদের
কারো কারো
পঞ্চাশ বছরের
বেশি কেটে
গেছে এ
বাজারে। তাদের
কাছে ইমা
কিথেল বাজার
নয়, তাদের
দ্বিতীয় বাড়ি।
আর ঐতিহাসিক
দৃষ্টিকোণ থেকে
দেখলে মীনা
বাজারের পেছনে
ছিল বিলাসিতা
ও ভোগের
তাগিদ আর
ইমা কিথেল
ছিল নারীর
সফল সংগ্রামের
ফসল।
এমএ মোমেন: সাবেক
সরকারি কর্মকর্তা





