চলতি হাওয়ার পন্থী না হলেই আমরা নিজেদের নাম দিই ‘বোহেমিয়ান’। এই যে ঠিক এইচএসসির আগ দিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো যেকোনো দিকের ট্রেনে উঠে পড়লে আমি বোহেমিয়ান। বুয়াকে প্রতিদিন কী রাঁধতে হবে, তা বাতলে দেয়ার জীবন ভালো না লাগলে আমি বোহেমিয়ান। চাকরি করা দূরে থাক, চাকরির চেষ্টা করতেও যদি ইচ্ছে না করে, তাহলে বোহেমিয়ান। কখনো দেনাপাওনার হিসাব মিলাতে না পারলে আমি জন্ম-বোহেমিয়ান। আদতে কারা ছিল এই বোহেমিয়ানরা? এসব রসুনখোররা, এসব স্নান না করা ন্যালাখ্যাপারা, ওয়াগনারের সুরভোলা পাগলরা, ছেলেমেয়েদের কো-এড স্কুলে পাঠানো অভিভাবকরা, পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্টদের ফ্যানরা, সমকাম ও বিবাহ সম্বন্ধবহির্ভূত কাম— এসব এক রকমের দম বন্ধ নিষিদ্ধ যুগে নেড়েচেড়ে দেখা প্রেমিক-প্রেমিকারা। যারা বন্ধু ও বন্ধুর বোন উভয়ের প্রেমেই পড়ত, যারা একদা প্রেমিকের কন্যাকে জীবনের একপর্যায়ে বিয়ে করত, যারা বিবাহবিচ্ছিন্ন না হয়েই আরেকজনের সঙ্গে সন্তান উৎপাদন করত। এরা কখনো বদ্ধ মাতাল, কখনো কপর্দকশূন্য, কখনো দিনের পর দিন অর্ধাহারী, কখনো নিরামিষাশী, কখনো মুদি দোকান ফাঁদতে গিয়ে ফতুর, কখনো হুপিং কাশিতে কাতর, কখনো মাসের পর মাস ফায়ারপ্লেস না থাকা ঘরে থাকা লোক। ব্যক্তিক পরিচয় এভাবে দিলে আসলে তা বড় অন্যায্য হবে এদের বাকি পরিচয়ের প্রতি, কারণ বাকি পরিচয়টুকু বিশাল ও বর্ণিল, এরা শিল্পী। এরা বোহেমিয়ান, যাযাবর জিপসিদের নামে যাদের ডাকা হতো, যারা সামাজিক ন্যায়নীতির ঊর্ধ্বে বা নিম্নে বসবাস করা কিছু অপূর্ব-উৎকোন্দ্রিক চিন্তক, যাদের একটি দলের নাম ‘ব্লুমজবারি গ্রুপ’, শিল্পের তাড়না বেঁধে দিয়েছিল তাদের বন্ধনহীন গ্রন্থিতে।

ব্লুমজবারি গ্রুপের প্রধানতম নামগুলো ভার্জিনিয়া উলফের, ইএম ফস্টারের, ভেনেসা বেল আর ডানকান গ্রান্টের, লিটন স্ট্র্যাচির... এদের নতুন করে চিনিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা সময়ের অপচয়। আর অদূরে জ্বলজ্বল করছে আরো কিছু শিল্পীর নাম, যেমন ডোরা ক্যারিংটন, যেমন ডেভিড গার্নেট, যেমন ভিটা স্যাকভিল-ওয়েস্ট। পুরুষরা ক্যামব্রিজের, নারীরা কিংস কলেজের, মোটের ওপর সবাই সেকালে ব্লুমজবারিতে থাকত। প্রথম মহাযুদ্ধের আগ দিয়ে ব্লুমজবারি গ্রুপ ছিল স্টিফেন ভাইবোনদের বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চিত্রশিল্পী-লেখক-বোদ্ধাদের একটা চক্র, এদের ভেতর ভেনেসা (ভার্জিনিয়া উলফের বোন) ছিলেন প্রসিদ্ধ শিল্পী ও কারুশিল্পী, ব্লুমজবারি গ্রুপের এবং চার্লসটনের প্রসঙ্গে বারবার ওর নাম আসবে। ভাইটি টাইফয়েডে মারা যাওয়ার পর ভেনেসা শিল্প সমালোচক ক্লাইভ বেলকে বিয়ে করেন, দুটি ছেলে হয় ওদের— জুলিয়ান আর কুয়েন্টিন, বাচ্চাদের জন্মের পর পরই বিয়ের মৃত্যু হয়, ভেনেসা একসময় প্রেমে পড়েন চিত্রশিল্পী ডানকান গ্রান্টের। ১৯১৬ সালের বসন্তকালে ভেনেসা সংসার পাতেন চার্লসটনে, সংসার সদস্য তার দুই পুত্র, সমকামী প্রেমিক ডানকান গ্রান্ট ও তদীয় বন্ধু ঔপন্যাসিক ডেভিড গার্নেট, ধাত্রী, পাচক ও পরিচারিকা।

ব্লুমজবারি হাউজ নামে পরিচিত একটি বাড়ি আছে ইংল্যান্ডের চার্লসটনে, যেখানে ভার্জিনিয়া উলফের প্ররোচনায় ভেনেসা বেল সংসার পেতেছিলেন। এক শনিবার আমরা চলে গেছিলাম সেখানে। লন্ডন থেকে বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় সে বাড়িতে, প্রায় অক্ষত অবস্থায় সবকিছু রক্ষিত আছে সেখানে। তাই কোনো কিছু স্পর্শ করা নিষেধ। একবারে ১০-১২ জনের বেশি লোক সে বাড়িতে ঢুকতে পারবে না। কোনো আসনে বসতে পারবে না (বরাদ্দকৃত একটি কুরসি রয়েছে প্রতিটি ঘরে, সেটি বাদে), চিলেকোঠায় যেতে পারবে না। এ বাড়িতে প্রেমিক-প্রেমিকারা থাকত, দুরন্ত শিশুরা থাকত, সব মিলিয়ে এমন এক গোছা লোক থাকত, যাদের জীবনদর্শন হচ্ছে শিল্পের দিকে যাত্রা, সে যাত্রা অগোছালো, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে মাতাল (এ মাতলামি সে বাড়িতে সর্বজনীন), তীব্র বাসনায় ঝলমলে। এরা কেউ বাড়িটির মালিক ছিল না, ছিল ভাড়াটে। ভাড়াবাড়িতে ভাড়াটেদের এঁকে যাওয়া আর গড়ে যাওয়া সবকিছু কত দরদি হাতে পড়লেই না এমন করে তা সংরক্ষিত হতে পারে! অবশ্য সব কি আর সংরক্ষণ করা যায়! পুকুরপাড়ের উইলোগাছটা নেই, বাড়ির সামনের দেয়ালজুড়ে ভার্জিনিয়া ক্রিপারের কমলা লতাবিতান নেই, পুকুরে নেই বাজ পড়ার শব্দে কাদায় উঠে আসা পাকাল মাছগুলো, বাগানে একদা ছিল ফলগাছ আর আলুক্ষেত, সেখানে এখন অজগ্র ফুলের সমাহার, সেকালে লোকে এ মাঠের খরগোশদের গুলি করতে ভয় পেত, পাছে দেখা যায় ওরা আসলে ডাইনি... সে কাল হারিয়ে গেছে।&dquote;&dquote;

আদিগন্ত গরু চরা মাঠের একধারে ঝোপালো গাছের আড়ালে নুড়ি বিছানো পথ। সেই পথ গেছে পুকুরের ধারঘেঁষে বাড়িটিতে, বাড়িটির নাম চার্লসটন ফার্মহাউজ। সামনের পুকুরে নুয়ে আছে গাছ, মাঝপুকুরে লাল আর সাদা শাপলা, পুকুরে বিড়বিড় করছে কার্প আর লাল কৈ, পুকুরের ঢালে বিছুটি ঝোপে ইতিউতি লুকিয়ে আছে অদ্ভুত সব ভাস্কর্য। বাড়ির পাশেই দেয়াল দেয়া ইংলিশ গার্ডেন, সারি সারি মন মাতানো ফুলগাছের কাছে মৌমাছির জ্বালায় দাঁড়ানো দায়, বাগানেও গোটা দুই ছোট্ট ছোট্ট জলাশয়। তাতে খেলে বেড়াচ্ছে ব্যাঙ আর স্যালামান্ডার। দেয়ালগুলোতে অজগ্র ভাস্কর্যের মাথা সাঁটা। কোথাও একখানা পাথরের অসমাপ্ত নারী দেহকাণ্ড, তাকে জড়িয়ে লতা উঠছে। এ বাগানের কোথাও ভেনেসা বেল মৃত পুত্রের শোকে বিভোর হয়ে কাঁদতেন। এ বাগানেই কোথাও ছেলেদের পড়ে শোনাতেন ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ আর হেসে আকুল হতেন পুত্র কুয়েন্টিন বেল। এখান থেকেই ল্যাভেন্ডার সংগ্রহ করে শুকাতেন নিজের স্টুডিওতে। ভারী মন ভালো হয়ে যাওয়ার মতো বাগান।

কিন্তু এমন চিত্ত-হরা বাগানের সঙ্গে টেক্কা দেয়ার জিনিস রয়েছে ঘরের ভেতরে। একটা ভাঙাচোরা আয়তাকার, ইট আর পাথরের সম্মিলনে স্থানীয় রীতিতে নির্মিত বাড়ি, টালির ছাদ, সে আমলের বাড়ি বলে দরজার চৌকাঠ ট্রাপিজিয়ামের মতো হয়ে উঠেছে, মেঝে নানা দিকে ঢালু, কাঠগুলো মচমচ করছে, ধুলো পড়েছে কতকালের বইয়ের সংগ্রহে, স্যাঁতসেঁতে অন্দরের কারণে বিবর্ণ হয়ে গেছে কাপড়গুলো (প্রথমে তারাই যায়)। এসব ঘরে সদ্য বেক করা কেকের গন্ধের সঙ্গেই মিশে যেত তার্পিন আর আঠার গন্ধ, রাজ্যের কাদামাটির ডেলা থাকত ডাঁই করা, প্রতিটি ঘরের আলোর ঢাকনিগুলো কাদামাটির ও ভীষণ রকমের মৌলিক, জানালার সিলের নিচে— লিন্টেলের ওপরে— ফায়ারপ্লেসের চারদিকে সর্বত্র উজ্জ্বল সব ছবি আঁকা আর পটারি সাঁটা... আর্ট যে এমন বাধাবন্ধনহীন হতে পারে, এমন আকর্ষণীয় রকমের আগল খোলা হতে পারে, এত দিকে জীবনভর উপচে উঠতে পারে, এমন করে গাইতে পারে সর্বমুক্তির গান, তা এবাড়ির ঘরগুলোতে দাঁড়ালে প্রকটভাবে হূদয়ঙ্গম করা যায়। বোঝা যায়, শতাব্দীর আড়াল প্রাণের বাণী মুছতে পারে না। সে বাণী নিঃশঙ্কচিত্তের, সে বাণী আনন্দিত প্রাণের, সে বাণী আত্মবিশ্বাসে সাবলীল। ভেনেসা আর ডানকান যে বাড়িতেই যেতেন, সে বাড়ির দেয়ালেই অজগ্র ছবি আঁকতেন। চলে যাওয়ার সময় মুছে দিতেন, পাছে বাড়ির মালিক ক্ষিপ্ত হয়। এ দুই শিল্পীর এমন দেয়াল ধরে কাজ কেবল দুটি বাড়িতে রয়ে গেছে। তার একটি চার্লসটন ফার্মহাউজ। সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম, এই তো কয়েকটা ঢ্যাঁড়া আর ফুটকি, হেলায় আঁকা কয়েকটা গোল গোল দাগ আর কাকপদর মতো কিছু চিহ্ন। এই দিয়ে এত কিছু বলা সম্ভব? ছবির আড়ালে যে মানুষগুলো ছিলেন, তারা যে কোনো নিয়মের ধার ধারতেন না, কোনো কথা বলতে দ্বিধা করতেন না, সেটা বড় স্বয়মপ্রকাশ। মনস্তাপের সীমা ছিল না আমার যখন জানলাম, এ বাড়ির ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ।

এ বাড়িতে টেলিফোন ছিল না, রেডিও ছিল না, কয়লা ছিল না, ছিল না হিটিংয়ের সুব্যবস্থা, ছিল না চৌবাচ্চায় গরম জল। মাখন আসত না, মাংস আসত না, শুধু ছিল প্যারাফিন ল্যাম্পের আলো, চ্যাপ্টা জানালায় ভেনেসার জুড়ে দেয়া কাপড়ে তৈরি অপূর্ব পর্দা, রাতের বেলা মোমবাতির আলোয় ঘুম যেত শিশুরা। চাঁদনি রাতে গ্রীষ্মের বাগানে হেঁটে বেড়ানোর সুখ ছিল এ বাড়িতে। নেপথ্যে ছিল মোজার্ট বা হেইডেনের বাজনা আর তামাকগাছের ভুরভুরে মিষ্টি গন্ধ।

সে বাড়িতে ক্রিসমাসের উপহার হিসেবে এসেছিল অ্যাঞ্জেলিকা, ভেনেসা আর ডানকানের মেয়েসন্তান। শিশুটির জন্মের পর ভেনেসা ও তার সদ্যোজাত কন্যা খুব ভুগলেন, এরপর চলে এলেন লন্ডন। চার্লসটনে এরপর যাওয়া হতো গ্রীষ্মের ছুটিতে। প্যান্ট্রিটাতে ভেনেসার শোয়ার ঘর হলো, গ্রান্টের বড়সড় স্টুডিও তৈরি হলো। চার্লসটনের হাসি-খুশি দিনগুলো ফুরিয়ে আসছিল। ১৯৩৭-এ স্পেনের গৃহযুদ্ধে ভেনেসা এক ছেলে হারালেন, যতদিনে তিনি শোকের এ অসহ্য ভার সামলে উঠছেন, ততদিনে আরেক যুদ্ধের সাজ সাজ রব শুরু হয়েছে। ভেনেসার স্বামী ক্লাইভ ও শিল্পী বন্ধুরা সবাই মিলে স্থির করলেন ওরা চার্লসটনেই সংবৎসর থাকবেন। ক্লাইভ লন্ডন থেকে ওর বইগুলো আর আসবাব আনিয়ে নিলেন। নতুন করে একটা বাথরুম বানানো হলো। পুরনো খোঁয়াড়টা পটারি হয়ে উঠল। বাগানটায়ও ঘষামাজা করা হলো কিছু। বাগানে প্রচুর সবজি ফলত। গ্রামাঞ্চলে প্রচুর বুনো পাখি শিকার করা যেত। ঝোপগুলোতে ফলত অনেক ব্লুবেরি আর বুনো রাস্পবেরি। গার্নেট মৌমাছি পুষতেন। ফার্মহাউজে মুরগি পালা হতো। দুধ দিত গোয়ালের গরু। যুদ্ধের সময় অনাহারে থাকতে হয়নি ওদের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে ভার্জিনিয়া উলফের সলিল সমাধি ঘটে। এসব বড় বড় শোকের আঘাত সয়ে ভেনেসা ছবি আঁকতেই থাকেন আর গভীর ভালোবাসায় সাগ্রহে জড়িয়ে থাকেন ডানকানকে (যদিও ডানকান ভেনেসার প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন না, ভেনেসার মৃত্যুর পর ডানকান কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, আমি ওর প্রতি এর চেয়ে সদয় হতে পারতাম!)। সেকালের মেয়েদের শোয়ার ঘর সাধারণত নিচতলায় হতো না। ভেনেসার শোয়ার ঘর আর আঁকার ঘর স্থানান্তরিত হয়েছিল নিচতলায়। দরজা খুলে বাগানে নেমে যাওয়া যেত। কুয়েন্টিন বলত, এটা দ্বিতীয় ভার্সাই, দরজার বাইরে দিগন্তের ঢাল নেমে গেছে এখানে। ঘরটায় একটা স্ক্রিন দিয়ে আলাদা করা ছিল চৌবাচ্চা আর বেসিন।&dquote;&dquote;

ভেনেসার কন্যা অ্যাঞ্জেলিকা যখন জন্মায়, তখন ডেভিড গার্নেট (ডানকানের প্রেমিক) লিখেছিলেন, বাচ্চাটাকে তার বিয়ে করতে ইচ্ছে হয়েছিল। যখন মেয়েশিশুটির বয়স ২০ হবে, ওর নিজের হবে ৪৬, তখন বিয়েটা কি খুব কলঙ্কজনক হবে? অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, গার্নেট সত্যি তার এককালীন প্রেমিকের কন্যাকে বিয়ে করেছিলেন। অ্যাঞ্জেলিকা বহুদিন জানতে পারেননি, তিনি ডানকানের কন্যা ও তার স্বামী ডানকানের প্রেমিক ছিলেন। ভেনেসা বেল মৃত্যুবরণ করার পরও দীর্ঘদিন তার স্বামী ক্লাইভ বেল ও আমৃত্যু প্রেমিক ডানকান গ্রান্ট এই চার্লসটনে বাস করেছেন। এরা একে একে মৃত্যুবরণ করার পর চার্লসটন হাউজ ধুলো-আবর্জনা-মোল্ডের নিচে চাপা পড়তে থাকে। লোকে ভুলতে থাকে এসব নাম।

চার্লসটন ট্রাস্ট গঠিত হওয়ার পর বাড়িখানা খুব যত্ন করে মেরামত করা হয়, বাগানটাকে গড়া হয় আবার, প্রখ্যাত ‘লরা অ্যাশলি’ গভীর মমতায় পুরনো ফ্যাব্রিকগুলোর হুবহু নকল করে বুনে দেয় সোফার কাপড় আর পর্দা। ট্রাস্ট গড়ার সময় ভাবা হয়েছিল, হয়তো গুটিকয় লোক আসবে এ বাড়িতে পুরনোর চিহ্ন খুঁজতে। এই যেমন করে পায়ের তলায় নরম ঠেকল কী... করে করে আমিও এসেছি একদিন, ব্লুমজবারি গ্রুপের মৌচাক খুঁজতে শয়ে শয়ে লোক আসে এ বাড়িতে, খুঁজে ফেরে পোস্ট ইমপ্রেশনিস্ট আর্টিস্টের কাজ, খোঁজে পিকাসোর প্রতি ভালোবাসা। শিল্পসাধনার অর্থ আনন্দকে সবল পায়ে অনুসরণ আর দলে যাওয়া সামাজিক অনুশাসন তা এমন করে আর কারা মেখে রেখে গেছে একখানা বাড়িতে?