দুই বছর, চার মাস আগে বুসরা থেকে কনিয়া যাত্রাকালে রোমান সময়ের মধ্যে থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আকসেহিরে যাত্রা ভঙ্গ করার এবং জ্ঞানী লোক মোল্লা নাসিরুদ্দিন (তুর্কিতে যিনি নাসিরুদ্দিন হোজ্জা নামে পরিচিত) এর সমাধি পরিদর্শন করার। কনিয়ায় বসবাসকারী সাধক রুমির অনুসারী ত্রয়োদশ শতকের সুফি মাস্টার সায়েদি মাহমুত (যার সমাধিও আকসেহিরে) এর একজন অনুসারী ছিলেন তিনি।
বাসস্টেশনের চারপাশের সবকিছু নাসিরুদ্দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, এখানে সর্বত্র যেন তার স্মৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আমি শহরের কেন্দ্রস্থলে গিয়েছিলাম এবং একটি কবরস্থানের ভেতরে (অনুমতিক্রমে) তাঁর মাজার পরিদর্শন করি। কবরস্থান ছাড়াও অনেক দোকানে নাসিরুদ্দিনের বিজ্ঞ কথাসংবলিত বই, জিনিসপত্র, পোস্টকার্ড, মূর্তি, কৌতুকের বই বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে অন্তত ৫০টি ধাতব মূর্তি আছে, যা তার সবচেয়ে বিখ্যাত শিক্ষাবিজ্ঞান, কৌতুকের প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল, যেসব কৌতুক আমাকে অনেক হাসিয়েছে। আকসেহিরে প্রতি বছর একটি উত্সব হয় বেশ ঘটা করে, যা মূলত নাসিরুদ্দিনকে উত্সর্গ করেই।
আমার কাছে খুব মজা লেগেছে যে ব্যাপারটি তা হলো: তুর্কি ও ইংরেজি দুই ভাষায়ই লেখা ফলকটি, যাতে একটি মজার কাহিনীর উত্কীর্ণ করা— একজন প্রতিবেশী মোল্লা নাসিরুদ্দিনের কাছে এসেছিলেন দেখা করতে। মোল্লা তার সঙ্গে দেখা করতে বাইরে এলেন।
‘কিছু মনে করবেন না, মোল্লা,’ প্রতিবেশী বললেন, ‘আমি আপনার গাধাটা ধার নিতে এসেছি। আমি কিছু মালপত্র আনতে শহরে যাব, তোমার গাধাটি হলে ভালো হয়।’ কিন্তু মোল্লা কোনো কারণে তার পশুটিকে ধার দিতে চাচ্ছিলেন না।
তাই তিনি ভদ্রতা করে বললেন, ‘দুঃখিত, আমার গাধাটা যে আরেকজনকে ধার দিয়ে দিয়েছি।’
হঠাৎ বাড়ির পেছন দিক থেকে গাধার ডাক ভেসে এল।
‘মোল্লা?’ প্রতিবেশী বলল, ‘বাড়ির পেছনে তোমার গাধার ডাক শোনা যাচ্ছে!’
হোজ্জা তখন পাল্টা অবাক হওয়ার ভান করে বললেন, ‘তুমি কাকে বিশ্বাস কর? গাধাকে না আমাকে?’
তাঁর এ কথার নানা অর্থ করা যায়, হোজ্জার তাত্ক্ষণিক প্রত্যুত্পন্নতা, একই সঙ্গে নীতিকথা; নাসিরুদ্দিন মানেই আসলে ত্বড়িত বুদ্ধি, কৌতুক আর রহস্যময়তা।
দিন শেষে আমি বাসে কনিয়া পৌঁছালাম।
অনুবাদ: রুশী চৌধুরী






