ইংরেজি অভিধানে এ ধরনের অনেক শব্দ ঢুকে পড়েছে, আরো অনেক শব্দ লাইনে আছে, সময়মতো ঢুকে পড়বে।

ট্রাম্পিগো ব্যাপারটা কী হতে পারে?

অবশ্যই ট্রাম্পের ইগো।

ব্যাখ্যা: ট্রাম্প ও ঈশ্বরের মধ্যে তফাত কী?

তেমন কোনো তফাত নেই। ঈশ্বর নিজেকে কখনো ট্রাম্প ভাবেন না।

ট্রাম্পিশ ব্যাপারটা কেমন হতে পারে?

ট্রাম্পবচন: গ্র্যাব দ্য পুশি (অস্তাগফিরুল্লাহ!) 

ট্রাম্পফোবিয়া: শব্দটি পুরনো হয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে যেসব ভীতিকর পরিস্থিতির সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়েছে, তার সমষ্টি। যেহেতু তিনি নির্বাচিত হয়েই গেছেন শব্দটির দ্যুতি অনেকটাই কমে গেছে।

ট্রাম্পম্যানিয়া মানে ট্রাম্পবাতিক হতে পারত। নির্বাচনপূর্ব ট্রাম্প কার্টুন ও হাস্যকর ট্রাম্প ফটোগ্রাফ প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয়েছে ট্রাম্পম্যানিয়া।

মেলানিয়া সলিউশন বিশেষ এক ধরনের সমস্যার সমাধান। যৌনকর্মী হিসেবে কেউ অপবাদ দিলে সাত বছরের মধ্যে খদ্দেরকে বিয়ে করে ফেললেই সমস্যা চুকে যায়, অপবাদকারীর বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করা যায়। তাছাড়া এটাই তো স্মরণ রাখা দরকার কথিত খদ্দের ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘আমিই মেলানিয়ার জীবনে প্রথম পুরুষ।’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিশ্চয়ই আর আগের অবস্থান থেকে সরে এসে বলবেন না আমার আগে সাবেক সেক্রেটারি অব স্টেট হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের স্বামী উইলিয়াম জেফারসন ক্লিনটনের চোখ পড়েছিল মেলানিয়ার ওপর। তিনি নিশ্চয়ই এটাও বলবেন না মেলানিয়ার সঙ্গে তার প্রথম ডেটিং এবং বিয়ের মাঝখানের সাত বছর মেলানিয়া কী করেছে, তিনি তাও জানেন না।

২০০০ সালে জি কিউ ম্যাগাজিনে ন্যুড মেলানিয়ার ছবি ট্রাম্পকেও মুগ্ধ করেছে। তার অনুরোধে জি কিউ তার কাছে মেলানিয়ার বাঁধাই করা ন্যুড ফটোগ্রাফ পাঠিয়েছে।

মেক্সিকান ঠেকাতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নার্সারি রাইমসে ঢুকে পড়েছেন। তিনি বলেছিলেন, মেক্সিকানদের অভিবাসন ঠেকাতে দক্ষিণ সীমান্তে গ্রেট ওয়াল নির্মাণ করবেন এবং মেক্সিকোকে ইট, বালি, সিমেন্ট ও রডের দাম দিতে বাধ্য করবেন। অতএব:

হাম্পটি ট্রাম্পটি ওয়ান্টস আ গ্রেট ওয়াল

হাম্পটি ট্রাম্পটি ওয়ান্টস মেক্সিকো টু পে অল। 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুল তার দেহের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। কেউ কেউ তাকে শিম্পাজি বলায় তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। মেলানিয়াও সায় দিয়েছেন। 


এই প্রথম আমেরিকা আগেভাগেই তাদের ফার্স্টলেডির সব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস জেনে তবে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছে। এটা যে কেউ স্বীকার করবেন (এমনকি পাঁড় ডেমোক্র্যাটরাও) দিগম্বর ফার্স্টম্যান বিল ক্লিনটনের চেয়ে নির্বসনা ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প অনেক বেশি আকর্ষণীয়। এই বিবেচনায় ট্রাম্পেরই বেশি ভোট পাওয়ার কথা, পেয়েছেনও।

অবশ্য বাংলাদেশ সরকারের একজন মাননীয় মন্ত্রী আরো গভীরে প্রবেশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের রহস্য উদ্ধার করেছেন— বিএনপি নামক বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করায় তাদের ভরাডুবি হয়েছে এবং ট্রাম্পের জন্য তা নিয়ে এসেছে বিশাল বিজয়।

যেসব স্মরণীয় উক্তি ট্রাম্পকে এগিয়ে দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:

ক) আর বেশি ইঞ্জেকশন নয়। শিশুদের ঘোড়া মনে করবেন না। একবারে একটাই ইঞ্জেকশন, ব্যস! (শুনে শিশুরা আহ্লাদিত হয়ে ঘুমন্ত বাবা ও তার গার্লফ্রেন্ড কিংবা মা ও তার বয়ফ্রেন্ডকে জাগিয়ে ট্রাম্পকে ভোট দিতে পাঠিয়েছে।)

খ) আমার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য— আমি অত্যন্ত ধনী। আমার যদি ৬০০ মিলিয়ন ডলার দরকার হয়, আমি এক্ষণই তা দিয়ে দিতে পারি। অন্য যেকোনো প্রার্থীর চেয়ে আমার জন্য এটা একটা বড় সুবিধা।

(টাকার সৌন্দর্যের কথা কে না জানে? মেলানিয়াও জানেন।)

গ) ডোনাল্ড ট্রাম্প শোতে হাজির সব সুন্দরী ‘আমাকে পটাতে চেষ্টা করেছে। আর সেটাই তো হওয়ার কথা।’ (আমাদের একজন প্রেসিডেন্টও বলেছিলেন, সুন্দরী নারীরা তাকে ভালোবাসে। তিনি ঠেকাবেন কেমন করে?)

ঘ) অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একজন আমার অফিসে এসে আমাকে জানিয়েছে, বারাক ওবামার জন্মসনদে জালিয়াতি রয়েছে। তবে এটা সত্য ওবামা আমেরিকান।

(হা ভগবান, ডোনাল্ড ট্রাম্পও তো আমেরিকান।)

ঙ) আরিয়ানা হাফ ভেতরে ও বাইরে অনাকর্ষণীয়। আমি বেশ বুঝতে পারছি আর একজন পুরুষের সঙ্গে সহবাস করার জন্য তার স্বামী কেন তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। (হাফিংটন পোস্টের সম্পাদক আরিয়ানা হাফিংটন। স্ত্রীর সঙ্গে পেরে উঠতে না পারা রূপান্তরিত গে-রা তাই সন্তুষ্ট চিত্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন।)

চ) মেলানিয়া (জন্ম ২৬ এপ্রিল ১৯৭০) পরিসংখ্যান:

উচ্চতা: ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি/ ১৮০ সেন্টিমিটার

ওজন: ১৩৯ পাউন্ড/ ৬৩ কেজি

জুতা: ১০ নম্বর

ড্রেস: ৮ নম্বর

সবশেষে শরীরের মাপ: ৩৬-২৬-৩৫

উপসংহার: সাদা-কালো-বাদামি নির্বিশেষে পুরুষ ও লেসবিয়ান ভোটার মেলানিয়ার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছে। সতী পত্নীর পুণ্যে পতি পুণ্যবান।

প্রথম পাদটীকা: ডোনাল্ড ট্রাম্পের রসবোধ নেই। থাকলে আয়নায় নিজেকে দেখে হাসতে হাসতে মারা যেতেন।

দ্বিতীয় পাদটীকা: ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন ইরমষু  (হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে নির্বাচনী বিতর্কে একটি প্রসঙ্গে ট্রাম্প ইরম খবধমঁব শব্দটি বলতে গিয়ে ইরমষু উচ্চারণ করেছেন বলে বেশ হাস্যরসের উদ্রেক হয়েছিল। তবে অনেক সংবাদ মাধ্যম এবং ট্রাম্পের ছেলে এরিক বলেছেন, ট্রাম্প ইরম খবধমঁব-ই উচ্চারণ করেছিলেন) শব্দটি অভিধানে রয়েছে। আগামী ক’বছরে এ রকম আরো কিছু শব্দ তিনি নিশ্চয়ই সরবরাহ করতে পারবেন। ভাষা ও সাহিত্যে এই অবদানের জন্য তার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি বোধহয় আর ঠেকানো গেল না।

তৃতীয় পাদটীকা: নোবেল বিজয়ী, পুলিত্জার বিজয়ী, বেস্ট সেলিং রাইটারসহ প্রায় ৬০০ বুদ্ধিজীবী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছেন। নোবেল লরিয়েট ওলে সোয়েঙ্কা বলেছেন:

‘যে মুহূর্তে তারা তাকে (ডোনাল্ড ট্রাম্প) বিজয়ী ঘোষণা করবে, আমি আমার গ্রিনকার্ড ছিঁড়ে ফেলব এবং স্যুটকেস গোছাতে শুরু করব।’

পরীক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্প পাস করেছেন। এখন দেখা দরকার ওলে সোয়েঙ্কা পাস করেন কিনা।

লেখকরা যে জনগণের মনের খবর কমই রাখেন, তা আরো একবার প্রমাণ হলো।