প্রাচীন ইতিহাসের ইরান ও তুরানের মাঝখানে প্রাকৃতিক সীমান্ত তৈরি করে দিয়েছে একটি নদী। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এসে অরাল সাগরের দক্ষিণের স্রোতে মিশে গেছে নদীটির স্রোতধারা। সেই নদীটিই আমু দরিয়া। একালের তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত। এ নদীবিধৌত অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি আলোচিত তরুণী, সম্ভবত সবচেয়ে সুন্দরী রোক্সানা। কমপক্ষে ৩০ হাজার বইয়ে তার নাম কোথাও না কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আসলে মেসিডোনিয়ার রাজা ফিলিপের পুত্র তৃতীয় আলেকজান্ডার, ইতিহাস যাকে চেনে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট নামে, তাকে নিয়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার বই লেখা হয়েছে। সংখ্যাটি ক্রমবর্ধমান।
আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট যত মহানই হন না কেন, মনঃসমীক্ষকরা মনে করেন, রাজ্য শাসন নয়, বরং রাজ্য বিজয় ও সাম্রাজ্য বিস্তারের মোহ তার একটি অবসেশন হয়ে উঠেছিল।
মেসিডোনিয়ান সৈন্যবাহিনী পারস্য উপকূলে অবতরণ করার পর উত্ফুল্ল আলেকজান্ডার ভূপৃষ্ঠের দিকে প্রথম বল্লমটি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, এশিয়াকে আমার কাছে পরাস্ত হতে হবে, এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা এবং এটাই তাদের বিধিলিপি।
প্রাচ্যের সম্মোহনে প্রতীচ্য বারবার এদিকে এসেছে, এ সম্মোহন আলেকজান্ডারের ছিল, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রাজত্ব কায়েম করার জন্য তিনি পৃথিবীর সর্বশেষ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত অধিকার করতে চেয়েছেন। তরুণ রাজা যখন প্রাচ্যাভিমুখী হলেন, তার বয়স তখন মাত্র ২২ বছর। তার গ্রিক শৌর্য ও বীর্য নিয়ে প্রাচ্য অভিযানে কেটে গেল এক দশক। মধ্য এশিয়া সগদায়ানা ও ব্যাকট্রিয়া দখলে আনতে লাগল তিন বছর। এগুলোই একালের উজবেকিস্তানের অংশ।
ঐতিহাসিকরা আলেকজান্ডারের যাত্রাপথ ধরে সগদায়ানা ও ব্যাকট্রিয়ায় এসে একবার থমকে দাঁড়ান। এ জায়গায় তিনি সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। স্থানীয়রা বীরের মতো লড়াই করেছে এবং তার বাহিনীও নির্মমভাবে তাদের পরাস্ত করেছে। এখানকার নেতা ও নোবলম্যান অক্সিয়ার্টেসের কন্যা রোক্সানার ওপর চোখ পড়ার পর আলেকজান্ডার থ হয়ে গেলেন। সুন্দরী রোক্সানাকে পরাজিতের কন্যা, যুদ্ধের ‘লুট’ মনে না করে তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। একটি রোমান্টিক ও ট্র্যাজিক কাহিনীর শুরুটা সেখানেই।
স্থানীয় সৈন্যদের প্রতিরোধের একটি বর্ণনা পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দের বসন্তে, স্থানীয় বাহিনী আলেকজান্ডারের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নিরাপদ পার্বত্য দুর্গে উঠে পড়ে। সগদায়ানা অভিজাতরাও সপরিবার পর্বতের ওপর দুর্গে আশ্রয় নেয়।
পর্বত তখন বরফে ঢাকা। আলেকজান্ডারের গর্বিত সেনাবাহিনীর সামনে ধরাছোঁয়ার বাইরে খাড়া পর্বত। সৈন্যরা আওতার মধ্যে পৌঁছতেই ওপর থেকে স্থানীয় বাহিনী বল্লম ও তীর বর্ষণ শুরু করে। এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হয়নি গ্রিক মেসিডোনিয়ান বাহিনী। তাদের চোখের সামনে সতীর্থ যোদ্ধারা তীরবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ছে। তার পরও বিপুলসংখ্যক সৈন্যের শক্তিতে আলেকজান্ডার তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেন। সগদীয়রা আলেকজান্ডারকে উপহাস করে বলল, যদি গ্রিক ও মেসিডোনিয়ানদের পাখা থাকে, তাহলে তারা যেন উড়ে এখানে আসে, নতুবা তারা যে পথে এসেছে, সে পথে যেন ফিরে যায়।
কিন্তু তারা তো আলেকজান্ডারের একগুঁয়েমি ও প্রত্যয়ের সঙ্গে পরিচিত নয়। একসময় রাত নেমে এল, অগম্য উঁচু পর্বতের সৈনিকরা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল।
এতক্ষণে আলেকজান্ডার আকর্ষণীয় উপহার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পর্বত আরোহণে দক্ষ ৩০০ সৈন্যকে আলাদা করে ফেললেন। তারা লোহার আংটা ও দড়ি নিয়ে প্রস্তুত। রাতের আঁধার নামতেই যখন পর্বত দৃশ্যমান হয়ে উঠল, তারা তখন আরোহণ শুরু করল। ৩০ জন সৈন্য চূড়ায় ওঠার আগেই পিছলে পড়ে মারা যায়। আলেকজান্ডার তার ঘোষককে আদেশ দিলেন, ‘জানিয়ে
দাও মেসিডোনিয়ার পাখাওয়ালা সৈন্যরা হাজির।’ তারা দুর্গ ঘিরে ফেলল, হতভম্ব স্থানীয় সৈন্যরা আর লড়াইয়ের কথা ভাবতেই পারল না। আত্মসমর্পণ করল। বন্দিদের মধ্যে অক্সিয়ার্টেস ও তার পরিবার ছিল। তার কন্যা যেন গ্রিক দেবী আফ্রোদিতির মতো আলেকজান্ডারের সামনে আবির্ভূত হলেন।
রোক্সানাকে বলা হয়েছে ‘সত্যিকারের পূর্বদেশীয় গোলাপ’। পারসি বিয়েতে প্রথাগতভাবে তরবারিতে রুটি দুভাগ করে বর ও কনেকে দেয়া হয়, তবে বিয়ের ভোজের অনুষ্ঠানটি ছিল বিশাল। আলেকজান্ডারের অনুগামী ১০ হাজার সৈন্য ভোজে অংশ নিয়েছে। একই দিনে তাদের একটি বড় অংশ স্থানীয় মেয়েদের বিয়েও করেছে।
রোক্সানাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত কেবল সৌন্দর্যমুগ্ধ হয়ে কিংবা মোহগ্রস্ততার মধ্যে আলেকজান্ডার নিয়েছেন, তা মনে করার কারণ নেই। এটি একটি রাজনৈতিক বিয়েও। তরবারি দিয়ে দেশ জয় করা যায়, কিন্তু তরবারি দিয়ে সাম্রাজ্যের ভাঙন ঠেকানো সহজ নয়, এটা তিনি বিশ্বাস করতেন। রোক্সানাকে বিয়ের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমের আক্ষরিক অর্থেই মিলন ঘটল। গ্রিসের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার যোগসূত্র বিশ্বসভ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।
আরো কিছুকাল বিজয় অভিযান অব্যাহত রেখে রোক্সানাকে নিয়ে আলেকজান্ডার মেসিডোনিয়া ফিরে এলেন, পেছনে রয়ে গেল তার বিজয়ের স্মারক ব্যাকট্রিয়া, সগদায়ানাসহ মধ্য এশিয়া। রোক্সানার সঙ্গে বিশ্ববিজয়ীর দাম্পত্য সম্পর্ক চার বছরের। তার অভিযানে অংশগ্রহণকারী সৈন্যরা দেশ ও সংসার ছেড়ে আর কষ্টের জীবনযাপনে সম্মত নয়। সুতরাং তাকে ফিরতেই হলো।
মেসিডোনিয়ায় ফেরার পর আলেকজান্ডার একটি বর্ণহীন জীবনযাপন করতে শুরু করলেন। বন্ধুদের সঙ্গে তার পান ও ভোজ লেগেই ছিল। এ সময় তার মা অলিম্পিয়াস শাসনকার্য দেখাশোনা করতেন।
অল্পদিনের মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক রাতে ভোজনের পর যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। বৈদ্য, চিকিৎসক, ফেইথ হিলার—কেউই তাকে সাহায্য করতে পারল না।
যন্ত্রণায় কঁকাতে কঁকাতে এক সময় আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এক অনুচরের কাছে তরবারি চাইলেন। সে সময় রোক্সানার হস্তক্ষেপের কারণে তিনি আত্মহনন করতে পারেননি। অসুস্থতার দশম দিন খ্রিস্টজন্মের ৩২৩ বছর আগে জুনের ১১ তারিখ মাত্র ৩২ বছর বয়সে তরুণী স্ত্রীর হাতে মাথা রেখে মহাবীর আলেকজান্ডার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রোক্সানা তখন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার শেষ পর্যায়ে। পিতা সমাহিত হওয়ার কিছু দিন পর রোক্সানা ও আলেকজান্ডারের সন্তান চতুর্থ আলেকজান্ডারের জন্ম হলো।
আলেকজান্ডার তার উত্তরাধিকারী নির্বাচন করেননি কিংবা শাসনে কোনো দিকনির্দেশনাও দিয়ে যাননি।
আলেকজান্ডারের একজন সফল সেনাপতি নেয়ারচুস মেমনন অব রোডসের স্ত্রী বারসাইনের আলেকজান্ডারের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে জন্ম নেয়া হেরাক্লেসকে উত্তরাধিকারী নির্বাচন করলেন। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর জেনারেল পার্ডিক্কাস চাইলেন তখনো অজ্ঞাত রোক্সানার সন্তানই হবে আলেকজান্ডারের বৈধ উত্তরাধিকারী। কিন্তু এই সন্তান যেহেতু বিশুদ্ধ গ্রিক রক্তের নয় এবং তার মা যেহেতু পূর্বদেশীয়, তার ব্যাপারে টলেমি আপত্তি জানান। শেষ পর্যন্ত আলেকজান্ডারের এক নির্বোধ বড় ভাই আরিডিউস ও আলেকজান্ডারের সন্তান চতুর্থ আলেকজান্ডারের নামে রাজ্য শাসনের সিদ্ধান্ত হলো।
খ্রিস্ট জন্মের ৩১৭ বছর আগে আলেকজান্ডারের মা অলিম্পিয়াস হাতে ক্ষমতা নিয়ে নিলেন এবং সতিনপুত্র আরিডিউসকে হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং রোক্সানার চার বছর বয়সী ছেলেকে রাজা ঘোষণা করে নিজে শাসনকার্য চালাতে থাকলেন। অলিম্পিয়াস ছিলেন প্রতিশোধপরায়ণ, তার নির্দেশে দেশের বেশ কজন এলিটকে হত্যা করার পর তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখা দেয়। তিনি তখন আর কোনো মেসিডোনিয়ানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কমান্ডার ক্যাসান্ডর উত্খাতের উদ্দেশ্যে তাকে আক্রমণ করতে এলে অলিম্পিয়াস পুত্রবধূ রোক্সানা ও নাতি চতুর্থ আলেকজান্ডারকে নিয়ে পিডনা শহরে পালিয়ে যান। ক্যাসান্ডর এই শহর অবরোধ করেন এবং খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে অলিম্পিয়াস জীবন ভিক্ষা চেয়ে আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু ক্যাসান্ডর তাকে মেসিডোনিয়ানদের হাতে তুলে দেন, মেসিডোনিয়ানরা তাকে হত্যা করে। ক্যাসান্ডর আলেকজান্ডারের সেবান (রাজা ফিলিপ ও তার উপপত্নী নিসিমোপালিসের সন্তান) থেসালোনিকাকে বিয়ে করেন এবং রোক্সানা ও তার সন্তানকে একটি দুর্গে বন্দি করে রাখেন। ক্যাসান্ডর বিশ্বাস করতেন চতুর্থ আলেকজান্ডারই সিংহাসনের বৈধ দাবিদার। সময় কখনো তার প্রতিকূলে চলে গেলে জনগণ তাকেই ক্ষমতাসীন করবে। তার নির্দেশে বিশ্বস্ত কর্মচারী গ্রকাস মা ও ছেলে উভয়ের খাবারে ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগ করতে থাকে। দুজনই সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। জনগণ জেনে গেলে সহিংস প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কায় কোনো ধরনের মরণোত্তর শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়নি। চতুর্থ আলোকজান্ডারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ রাজবংশের শাসনের সমাপ্তি ঘটল।
আমু দরিয়ার সুন্দরী, পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাসীন মানুষের বৈধ প্রথম স্ত্রী রোক্সানা খ্রিস্ট জন্মের ৩১০ বছর আগে এভাবেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। তখন তার বয়স মাত্র কুড়ি বছর।
ইতিহাসের পাতা পেছন দিকে আরেকটু ওল্টালে ভিন্ন একটি দৃশ্যের দেখাও মিলবে। রোক্সানার পর আলেকজান্ডার আরো দুই স্ত্রী গ্রহণ করেন। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর রোক্সানার নির্দেশেই দ্বিতীয় স্ত্রী স্টাটেরিয়া এবং তৃতীয় স্ত্রী প্যারিসাটিসকে হত্যা করা হয়। একটি বিষয় লক্ষণীয় আলেকজান্ডারের তিন স্ত্রীই এশিয়ার—পার্সিয়ান। আলেকজান্ডারের হাতে পারস্যরাজ তৃতীয় দারিউস পরাজিত হলে দারিয়ুস কন্যা স্টাটেরিয়া এবং তার বোনরা আলেকজান্ডারের অধিকারে চলে আসে। একই দিন একই অনুষ্ঠানে আলেকজান্ডার স্ট্যাটেরিয়া এবং তার চাচাতো বোন প্যারিসাটিসকে বিয়ে করেন। এই দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা দারিয়ুসের আগে রাজা ছিলেন।
আলেকজান্ডার মাতৃভাষা গ্রিক ছাড়া বিজিত দেশের ভাষা শিখেছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। তাহলে আলেকজান্ডার ও রোক্সানা কথা বলতেন কোন ভাষায়? রোক্সানা কি গ্রিক শিখে নিয়েছিলেন। নাকি দুজনের মধ্যে কোনো দোভাষীকে রাখা হতো?
গ্রিক ঐতিহাসিক আরিয়ানের লেখায় প্রায় পাঁচ-ছয়বার রোক্সানার কথা লেখা হয়েছে। জাস্টিনিয়ানের রচনায়ও তাই। প্লুটার্কের লেখায় দুবার এবং কার্টিয়াসের লেখায় বেশ কবার।
পরাস্ত পিতার সুন্দরী কন্যা রোক্সানা নিজেই আলেকজান্ডারের সামনে এসে তার স্ত্রী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন, মুগ্ধ মেসিডোনিয়ান এতে রাজি হয়ে যান। বিয়ের পরপরই তিনি রোক্সানাকে নিয়ে স্বদেশে ফেরেননি। তার ভারত অভিযানে তাকে সঙ্গে নিয়ে যান।
রোক্সানা ও আলেকজান্ডারের ওপর অলিম্পিয়াসের যথেষ্ট খবরদারি ছিল বলেই তিনি শাসনভার নিজের হাতে নিতে পেরেছিলেন। আলেকজান্ডারের জীবদ্দশায় রোক্সানা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হননি, কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের ও ছেলের অবস্থান সুরক্ষিত করতে সম্ভাব্য বাধাগুলো দূর করতে থাকেন; এরই একপর্যায়ে আলেকজান্ডারের জেনারেল পেরিডিক্কাসের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে স্টাটেরিয়াকে হত্যা করেন। প্লুটার্কের রচনায় উল্লেখ করা হয়েছে স্টাটেটিয়ার বোন ড্রাইমোটিসকেও একই সময় হত্যা করা হয়। প্লুটার্ক সঠিক লিখেননি, একই সময় হত্যা করা হয় তার চাচাতো বোন এবং সতিন প্যারিসাটিসকেও। একটি অপর্যাপ্ত সমর্থিত তথ্য হচ্ছে আলেকজান্ডার যখন পাঞ্জাবে পৌঁছেন তার গর্ভবতী স্ত্রী রোক্সানা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন, জন্মের পরপরই তার মৃত্যু হয়।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে রোক্সানা
পেইন্টিং, ভাস্কর্য, সিনেমা, উপন্যাস ও কবিতায় আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের স্ত্রী রোক্সানার স্মরণীয় উপস্থিতি রয়েছে। ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী পিয়েত্রো আন্তোনিও রোতারির আঁকা ‘আলেকজান্ডার ও রোক্সানার সাক্ষাৎ’ একটি স্মরণীয় চিত্র।
পিয়েত্রো রোতারি (১৭০৭-১৭৬২) জন্ম ভোরোনাতে, তিন বছর ভেনিসে আন্তোনিও বালেস্ত্রার শিক্ষানবিশী করে রোম, নেপলস, ড্রেসডেন এবং শেষ জীবনে রাশিয়ায় সেন্ট পিটার্সবার্গে ছবি আঁকা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের একটি ‘আলেকজান্ডার ও রোক্সানার প্রথম সাক্ষাৎ’।
দ্বিতীয় সডোমা এঁকেছেন ‘আলেকজান্ডার ও রোক্সানার বিয়ে’। এ ছবিটি এখন রোমের ফ্যারেনসিনা ডিলা জাদুঘরে। এটি ১৫১৭ সালে করা একটি ফ্রেসকো বা দেয়াল চিত্র। চিত্রটি ৩৭০ – ৬৬০
সেন্টিমিটার মাপের। ভিলা ফ্যারেনসিনাতে আরো একটি চিত্র আছে: দ্য বেড ইন দ্য ম্যারেজ অব আলেকজান্ডার অ্যান্ড রোক্সানা। দ্বিতীয় সডোমার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ ‘রোক্সানা তার স্বামীর মুকুট ধারণ করছেন’।
আলেকজান্ডার ও রোক্সানাকে নিয়ে যেসব শিল্পকর্ম সৃষ্টি হয়েছে, এখনো তার কিছু কিছু অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। ২০১৪ সালে মেসিডোনিয়ার উত্তরাঞ্চলে এম্ফিপোলিসে সবচেয়ে বড় প্রাচীন কবরের কলামে কিছু দেয়ালচিত্রের আভাস পাওয়া যায়। দেয়াল পরিষ্কার করা হলে ছবির বিষয়, মানুষ, তাদের ব্যবহূত সামগ্রী পরস্ফুিট হয়। তাতে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী একজন ব্যক্তির ছবি মূর্ত হয়। এই ছবিতে ক্ষমতাধর ব্যক্তির পাশের নারীদের ছবি দেখে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন পুরুষ মানুষটি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, তার পাশে মা অলিম্পিয়াস এবং স্ত্রী রোক্সানা, ছবির অন্য একজন পুরুষ হচ্ছেন আলেকজান্ডারের জেনারেল। অনুমান করা হচ্ছে সংলগ্ন কবরে সম্ভবত রোক্সানাকে সমাহিত করা হয়েছে।
অলিভার স্টোন পরিচালিত হলিউড সিনেমা আলেকজান্ডার-এর অনেকটা অংশ জুড়েই আছেন রোক্সানা। পৃথিবীর শেষ প্রান্ত কোথায়? শিক্ষক এরিস্টেটলের সূত্র ধরে আলেকজান্ডার মনে করলেন তা ভারতে, সে পর্যন্ত তাকে বিজয় করতেই হবে। মধ্য এশিয়ায় পাওয়া সুন্দরী স্ত্রী রোক্সানা তার সঙ্গী। এ সিনেমায় রোক্সানা চরিত্রে অভিনয় করছেন রোজারি ডাসন, আলেকজান্ডার চরিত্রে কলিন ফ্যারেল। অন্যরা হচ্ছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি (অলিম্পিয়াস), অ্যান্থনি হপকিনস (বৃদ্ধ টলেমি), ক্রিস্টোফার পামার (এরিস্টেটল)।





