তিনি শপথ নিয়েছিলেন, তার ভূখণ্ড দখলকারীকে হত্যা করবেন, কিন্তু শেষে শত্রুর প্রেমে পড়ে যান...রোক্সানা জয় করেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ দিগ্বিজয়ীর হূদয়।আলেকজান্ডার সবার বিপক্ষে গিয়ে তাকে বিয়ে করেছিলেন। এ বিয়ের পর সেনাপতি আর সৈনিকেরা তার বিরুদ্ধাচরণ করে। শত্রুপক্ষের একজনকে বিয়ে করাকে তারা তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে বিবেচনা করে। রোক্সানা দুবার আলেকজান্ডারকে হত্যার চেষ্টা করলেও তার প্রতি আলেকজান্ডারের প্রেম অনড় ছিল; শেষ পর্যন্ত রোক্সানাও তার প্রেমে পড়ে যান। অনেকে বলেন অন্তত ম্যাসিডোনিয়ানরা মনে করত এখান থেকেই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজেতার পতনের সূচনা।
আলেকজান্ডার
দ্য গ্রেট
সম্পর্কে ৩০
হাজার বই
লেখা হয়েছে
বলে জানা
যায়। সংখ্যাটা
আরো বেশি
হতে পারে,
যেহেতু নতুন
নতুন বই
প্রকাশনা অব্যাহত
আছে। হেলেসপন্ট
থেকে হিন্দ
পর্যন্ত তার
বিরাট প্রাচ্য
অভিযান সম্পর্কে
আমরা প্রায়
বিশদভাবে জানি
এবং প্রায়
পর্ব ধরে
ধরে সেই
যুদ্ধগুলোর চিত্র
এঁকে ফেলতে
পারি। আমরা
এ দিগ্বিজয়ীর
কথা ও
কাজের সঙ্গে
পরিচিত যা
তার বিশ্বজয়ের
সুবাদে সুবিখ্যাত।
মেসিডোনীয়
সৈন্যরা এশিয়ার
তীরে পৌঁছলে
আলেকজান্ডার প্রথমে
জমিনে বর্শা
ছুড়ে দিয়ে
বলেছিলেন, ঈশ্বর
তার কাছে
পরাজিত এশিয়াকে
অর্পণ করেছেন।
প্রাচ্যকে জয়ের
প্রতি আলেকজান্ডারের
ছিল অদম্য
আকাঙ্ক্ষা; তিনি
‘পৃথিবীর
পূর্ব প্রান্ত’
পর্যন্ত পৌঁছে
বিশ্বের বৃহত্তম
সাম্রাজ্য গড়তে
চেয়েছিলেন। মাত্র
২২ বছর
বয়স থেকে
এ যুবক
রাজা ১০
বছর ধরে
চলতে থাকা
পূর্বাভিমুখী সমস্ত
হেলেনীয় অভিযানে
নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
তার তিন
বছর লেগেছিল
মধ্য এশিয়া,
সগদায়ানা ও
ব্যাকট্রিয়া জয়
করতে, যে
অঞ্চলগুলো বর্তমান
উজবেকিস্তানে অবস্থিত।
আজ কেবল
বিশেষজ্ঞরাই নন,
বহু সাধারণ
পর্যটকও আলেকজান্ডারের
স্মৃতিবিজড়িত অঞ্চলগুলোর
প্রতি বিশেষ
আকর্ষণ বোধ
করেন। সগদায়ানার
নেতার কন্যা
সুন্দরী রোক্সানার
সঙ্গে তার
বিয়ের গল্পটি
যা গভীর
কিন্তু স্বল্পকালস্থায়ী
প্রেমের এক
রোমান্টিক ও
ট্র্যাজিক কাহিনী,
সব দিক
থেকেই আগ্রহের
দাবিদার।
এ তিন
বছর ছিল
আলেকজান্ডারের প্রাচ্য
অভিযানের কঠিনতম
সময়। সগদায়ানা
আর ব্যাকট্রিয়ায়
তিনি সবচেয়ে
কঠোর প্রতিরোধের
সম্মুখীন হন।
৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দের
বসন্তে সগদীয়
অভিজাতদের একটা
অংশ আলেকজান্ডারের
বাহিনীর বিরুদ্ধে
বিদ্রোহ ঘোষণা
করে। তারা
পরিবার-পরিজন,
সেনা দল,
অস্ত্রশস্ত্র ও
বহু বছর
টিকে থাকার
জন্য প্রয়োজনীয়
রসদ সমেত
দুর্গম পর্বতের
দুর্গে অবস্থান
নেয় এবং
সেখান থেকেই
স্থানীয়দের ওপর
প্রভাব খাটায়।
গ্রিক-মেসিডোনীয়
বাহিনীর পথে
প্রথম বাধা
হয়ে দাঁড়ায়
‘সগদীয়
শৈল’ বা
‘অক্সাসের
শিলা’ নামের
এক পার্বত্য
দুর্গ, যার
ওপর এ
বিদ্রোহের গতিপথ
অনেকাংশে নির্ভরশীল
ছিল।
আলেকজান্ডারের
বাহিনী দুর্গ
অভিযানের উদ্দেশে
এগোতে এগোতে
তুষারাবৃত পর্বতমালার
সামনে এসে
থমকে যায়।
খাড়া পাথুরে
পর্বত এবং
তার ওপর
হাজার হাজার
সগদীয় সৈন্যের
শিরস্ত্রাণ সূর্যের
আলোয় ঝলমল
করছে। আকস্মিকভাবে
সগদীয়রা বৃষ্টির
মতো তীর
ছোড়া শুরু
করে এবং
আলেকজান্ডারের বাহিনীতে
ব্যাপক হতাহতের
ঘটনা ঘটে।
এ পর্বত
ছিল ভীষণ
দুর্গম এবং
আলেকজান্ডার সগদীয়দের
আত্মসমর্পণ করতে
বললে তারা
হেসে উড়িয়ে
দিয়ে বলে,
হেলেনীয় ও
মেসিডোনীয় রাজার
সেনাদের ডানা
থাকলেই কেবল
তাদের পক্ষে
দুর্গ জয়
করা সম্ভব
হবে।
আলেকজান্ডার
বড় পুরস্কারের
ঘোষণা দিয়ে
পর্বতারোহণে পারদর্শী
৩০০ দক্ষ
যোদ্ধাকে পাহাড়ে
চড়তে নির্দেশ
দেন। সন্ধ্যায়
আঁধার নামার
পর তারা
উঠতে শুরু
করে। এ
আরোহণ ছিল
অত্যন্ত কঠিন
কাজ: কেউ
কেউ গভীর
তুষারে ডুবে
যাচ্ছিল, কেউ
খাড়া পাথর
হড়কে পড়ে
যাচ্ছিল। ৩০
জন যোদ্ধা
মারা পড়ে,
কিন্তু বাকিরা
ভোরের দিকে
শীর্ষে পৌঁছে
যায়। তারা
নিজেদের সেই
দুর্গের ওপর
দেখতে পায়
এবং আলেকজান্ডার
তার ঘোষকদের
নির্দেশ দেন—
‘ঘোষণা
করে দাও,
মেসিডোনীয় যোদ্ধারা
যে ডানাওয়ালা,
তা প্রমাণিত।’
দুর্গের
রক্ষীরা এ
খবর পেয়ে
উপায়ন্তর না
দেখে আত্মসমর্পণ
করেছিল। বন্দিদের
মধ্যে ছিলেন
অক্সিয়ার্টেজ নামধারী
ব্যাকট্রিয়ার এক
অভিজাত ব্যক্তি
ও তার
পরিবারবর্গ। যখন
আলেকজান্ডার অক্সিয়ার্টেজের
উঠানে প্রবেশ
করেন, তিনি
মাঝারি উচ্চতার
একটি মেয়েকে
দেখতে পান।
সে ছিল
অক্সিয়ার্টেজের কন্যা
রোক্সানা। তার
বিপুল কেশরাশি
সোনার মতো
চকচক করছিল,
তার সুন্দর
চোখজোড়া ঝলমল
করছিল; মনে
হচ্ছিল, স্বয়ং
সৌন্দর্যের দেবী
আফ্রোদিতে এ
যুবক রাজার
সামনে দাঁড়িয়ে।
তাদের চোখাচোখি
হয় এবং
প্রথম দেখাতেই
আলেকজান্ডার সুন্দরী
রোক্সানার প্রেমে
পড়ে যান।
যদিও রোক্সানা
যুদ্ধবন্দি, তবু
আলেকজান্ডার তাকেই
বিয়ে করার
সিদ্ধান্ত নেন।
সহজেই
কল্পনা করা
সম্ভব, তারা
ছিলেন নয়ন
জুড়ানো এক
জুটি—এক
যৌবনদীপ্ত রাজা,
যিনি শক্তিশালী
যোদ্ধা ও
সফল সেনানায়ক
আর এক
পূর্ণ যুবতী
স্বর্ণকেশী। ইতালিয়
শিল্পী রোটারির
বিখ্যাত চিত্রকর্ম
‘আলেকজান্ডার
দ্য গ্রেট
অ্যান্ড রোক্সানা’
তাদের প্রণয়ের
একটি পর্বকে
ধারণ করেছে।
এ চিত্রকর্মটি
রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী
দ্বিতীয় ক্যাথরিনের
প্রাসাদ সাজাতে
ব্যবহূত হয়েছিল।
শিল্পী রোক্সানাকে
এঁকেছেন গ্রিক
রমণীদের আদলে।
কিন্তু আদতে
রোক্সানা ছিলেন
‘খাঁটি
প্রাচ্য দেশীয়
গোলাপ’।
আলেকজান্ডার
ও রোক্সানার
বিয়ের অনুষ্ঠানটি
ছিল খুব
সাধারণ। এক
টুকরা রুটি
তলোয়ার দিয়ে
দুই টুকরো
করে কনেকে
এক খণ্ড
আর বরকে
এক খণ্ড
পরিবেশন করা
হয়েছিল। (এখনো
উজবেকিস্তানে বাগদান
অনুষ্ঠানে রুটি
ছেঁড়ার চল
আছে) ওইদিনই
আলেকজান্ডারের বাহিনীর
১০ হাজার
সেনার সঙ্গে
স্থানীয় মেয়েদের
বিয়ে সম্পন্ন
হয়। এর
আগ পর্যন্ত
পার্থীয়, সগদীয়,
ব্যাকট্রীয় ও
অন্যান্য মধ্য
এশীয় জাতির
মধ্য থেকে
ভাড়া করা
সেনারা স্বাধীন
সামরিক দল
হিসেবে কাজ
করত। স্থানীয়
ও হেলেনীয়দের
মধ্যে এ
গণবিবাহের ফলে
এ দলগুলো
গ্রিক-মেসিডোনীয়
বাহিনীর সমকক্ষ
হয়ে ওঠে।
এ নীতির
পেছনে ছিল
আলেকজান্ডারের নিখুঁত
হিসাব। তিনি
বুঝতে পেরেছিলেন,
তলোয়ার দিয়ে
বিশাল সাম্রাজ্য
গড়া যায়,
কিন্তু একে
ভাঙনের হাত
থেকে রুখতে
তলোয়ার যথেষ্ট
নয়। তিনি
সব জাতি-উপজাতির
মিশ্রণের মধ্য
দিয়ে একটি
পূর্বাঞ্চলীয় জাতি
গড়তে চেয়েছিলেন।
এভাবেই আলেকজান্ডার
ও রোক্সানার
প্রেম গ্রিস
ও প্রাচ্যের
মধ্যে জোট
গড়ায় অবদান
রাখে; যা
মধ্য এশিয়া
তথা বিশ্বসভ্যতার
বিজ্ঞান, সংস্কৃতি
ও শিল্পের
বিকাশে ইতিবাচক
অবদান রেখেছিল।
রোক্সানার
বাবা হিসেবে
অক্সিয়ার্টেজকে সম্মান
করতেন আলেকজান্ডার।
অক্সিয়ার্টেজ ছিলেন
একজন জমিদার
ও বিস্তীর্ণ
অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকর্তা।
হেলেনীয় ইতিহাস
অনুসারে গিসার
পর্বতমালার পাদদেশ
ও দক্ষিণ-পূর্ব
ঢালু থেকে
লৌহ দরজা
(দারবান্দ), সেখান
থেকে সুরখানদারিয়া
নদীর প্রান্ত
পর্যন্ত বিস্তৃত
ছিল তার
নিয়ন্ত্রণ। অক্সিয়ার্টেজ
তার পারিবারিক
সম্পত্তি ফিরে
পেয়েছিলেন, উপরন্তু
পারাপামিসাদের ওপর
নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও
পেয়েছিলেন। তিনি
বিশাল এলাকার
সত্রাপ (জমিদার)
হয়ে ওঠেন,
যা উত্তর
ও দক্ষিণ
ব্যাকট্রিয়ার একটা
অংশ থেকে
হিন্দুকুশ পর্যন্ত
বিস্তৃত। আলেকজান্ডারের
মৃত্যুর পর
তিনি আরো
ক্ষমতাবান হয়ে
ওঠেন। মধ্য
এশীয় শাসকদের
মধ্যে তিনিই
প্রথম নিজস্ব
স্বর্ণমুদ্রা চালু
করেন, যা
তার শাসিত
এলাকার সার্বভৌমত্বের
সাক্ষ্য দেয়।
সম্প্রতি
‘আলেকজান্ডার
দ্য গ্রেট
ইন ব্যাকট্রিয়া
অ্যান্ড সগদায়ানা’
শীর্ষক একটি
বই প্রকাশিত
হয়েছে, যার
লেখক উজবেক
একাডেমি অব
সায়েন্সেসের সদস্য
এডওয়ার্ড রিটভেলাডজে।
বহু বছর
ধরে তিনি
প্রাচীন পথের
ওপর গবেষণা
করেছেন, যে
পথ ধরে
আলেকজান্ডার দ্য
গ্রেটের সেনাবাহিনী
তৃণভূমি ও
পার্বত্য উপত্যকার
মধ্য দিয়ে
মধ্য এশীয়
ট্রান্সঅক্সিয়ানা অভিমুখে
যাত্রা করেছিল।
তিনি এ
সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন
যে অক্সিয়ার্টেজের
পরিবারের আশ্রয়স্থল
‘সগদীয়
শৈল’ বিখ্যাত
‘লৌহ
দরজার’ কাছে
ব্যাকট্রিয়া ও
সোগদিয়ানার সীমান্তে
অবস্থিত।
বয়সুনের
পার্বত্য এলাকার
বাসিন্দারা সম্ভবত
গ্রিক ও
মেসিডোনীয়দের বংশধর,
যাদের উপনিবেশগুলো
অক্সাস (আমু
দরিয়া) এবং
এর উপনদী
তীরবর্তী এলাকাগুলোয়
ছড়িয়ে ছিল।
জানা যায়
যে অক্সাসের
তীরে আলেকজান্ডারের
মৃত্যুর ৬০
বছর পর
একটি গ্রিক-ব্যাকট্রীয়
রাজ্য গঠিত
হয়েছিল, যা
১২০ বছর
অবধি টিকে
ছিল।
কোনো
কোনো গবেষক
মনে করেন
যে অক্সাস
নদীর গ্রিক
নাম ওক-সু
থেকে উদ্ভূত,
যার অর্থ
‘সাদা,
পবিত্র জল’।
অক্সিয়ার্ট (অক্স-ইয়ার্ট)
নামটি সম্ভবত
‘অক্স’
শব্দ থেকে
উদ্ভূত এবং
এর অর্থ
হতে পারে
‘অক্স
নদীর মালিক’।
অধ্যাপক কে.
ট্রেভার তার
‘আলেকজান্ডার
দ্য গ্রেট
ইন সগদ’
বইয়ে অক্সিয়ার্ট
নামটি স্থানীয়
নাম ‘ভাখশুনভার্তা’র
গ্রিক রূপ
বলে দাবি
করেছেন।
তাহলে
রোক্সানা নামের
অর্থ কী?
নামটা আপনাআপনি
মনে করিয়ে
দেয় ওয়াল্টার
স্কটের রচনা
থেকে কিছু
নাম—রোভেনা...রোক্সানা...রবিন
লেন ফক্সের
মতে, রোক্সানা—যাকে
আলেকজান্ডারের যোদ্ধারা
মধ্য এশিয়ার
সবচেয়ে সুন্দরী
নারী হিসেবে
অভিহিত করেছিল,
এ নামটিরই
যোগ্য, কেননা
ফার্সিতে এর
অর্থ ‘ছোট
নক্ষত্র’।
কিন্তু এ
ধারণা অতটা
নির্ভরযোগ্য নয়।
কোনো কোনো
গবেষক এ
নামটিকে আধুনিক
তাজিক ভাষার
সঙ্গে মিলিয়ে
অভিমত পোষণ
করেছেন যে
রোক্সানা স্থানীয়
নাম রওশনাকের
গ্রিক রূপ,
যার অর্থ
‘জ্বলজ্বলে’,
‘উজ্জ্বল’।
আমাদের
নিজস্ব অনুমান,
নামটি অক্সাস
বা আমু
দরিয়ার সঙ্গেও
যুক্ত। প্রকৃতপক্ষে
প্রাচীন ব্যাকট্রিয়ার
অবস্থান ছিল
এ নদীর
উপরের এবং
মাঝের অংশে
এবং ‘রোক্সানা’
নামটিকে বিভক্ত
করলে ‘আর-অক্স-আনা’র
মতো শোনাবে,
যেখানে মূলে
রয়েছে ‘অক্স’
(আমু দরিয়া)
শব্দটি। ‘অক্স’
(গ্রিক ভাষায়
অক্সাস) ব্যাকট্রীয়
শব্দ ‘ভাখশ’-এর
গ্রিক রূপ—ধারণাটি
বিবেচনায় নিলে
খুব সম্ভবত
এ ব্যাকট্রীয়
সুন্দরীর নামটি
‘ভাখশ-ওনা’র
মতো শোনা
যায়। নামটির
অর্থ সম্ভবত
‘অক্সাসের
সৌন্দর্য’ বা
‘অক্সের
মালিক’।
সুতরাং আমরা
নিশ্চিত যে
আলেকজান্ডারের স্ত্রী
রোক্সানার জন্মভূমি
মারাকান্দার (সমরখন্দ)
দক্ষিণে কাশকাদারিয়া
ও সুরখানদারিয়া
প্রদেশে, যা
বর্তমান উজবেকিস্তানের
দক্ষিণে অবস্থিত।
আলেকজান্ডার
তার জীবনের
শেষ চার
বছর রোক্সানার
সঙ্গে কাটিয়েছিলেন।
পুরো দুনিয়া
জয় করার
লাগামহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষা
এমনকি তার
সেনাপতিদেরও অবসাদগ্রস্থ
করে তুলেছিল।
এ যুবক
রাজা প্রতিটি
ক্ষেত্রে নেতৃত্ব
দিতে চেয়েছিলেন—অভিযানে,
যুদ্ধে ও
উৎসবগুলোতে। সে
সময় সামরিক
নেতারা আড়ালে
লুকিয়ে থেকে
যুদ্ধের গতিবিধি
পর্যবেক্ষণ নয়,
বরং সম্মুখসমরে
অংশ নিতে
পছন্দ করতেন।
অবশেষে
আসে খ্রিস্টপূর্ব
৩২৩, আলেকজান্ডার
দ্য গ্রেটের
জীবনের শেষ
বছর। ৩৩-এ
পা রাখার
আগেই তিনি
মারা যান।
তার প্রাণঘাতী
অসুস্থতার সূত্রপাত
খুব তুচ্ছ
কারণে। রাজা
আসন্ন পশ্চিমা
অভিযানের আগে
উৎসব আয়োজনের
নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কয়েক দিন
ধরে তিনি
সঙ্গীদের সঙ্গে
ভোজোৎসবে মেতেছিলেন।
একদিন এক
বড় পাত্র
হেরাকলস পান
করার পর
তিনি তীব্র
ব্যথায় আর্তনাদ
করে ওঠেন।
অসুস্থতা বাড়তেই
থাকে, চিকিৎসকেরা
কোনোভাবেই তাকে
সারিয়ে তুলতে
পারেন না।
ব্যথা সহ্য
করতে না
পেরে আলেকজান্ডার
তলোয়ার চাইতেন
আত্মহত্যার জন্য।
তার ভালোবাসার
রোক্সানাই তাকে
আত্মহত্যা থেকে
বিরত রেখেছিলেন।
অসুস্থতার দশম
দিনে আলেকজান্ডার
মৃত্যুর কোলে
ঢলে পড়েন।
রোক্সানা তখন
গভার্বস্থার শেষ
পর্যায়ে। চোখ
বুজে আলেকজান্ডারকে
চুম্বনাবদ্ধ করেন
তিনি তার
বিদেহী আত্মাকে
ধারণ করতে।
এল. স্নো: নন-ফিকশন লেখক





