সুফিবাদ শব্দটি আমাদের অনেকের কাছেই খুব পরিচিত। কিন্তু যতই পরিচিত হোক এর নিগূঢ় তত্ত্ব সম্পর্কে সাধারণের ধারণা কতটুকু গভীর, তা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। সহজ কথায় বলা যায় সুফিবাদ হলো সাধনার এক মাধ্যম, যেখানে সাধক বিভিন্ন পর্যায় পার হয়ে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করেন। স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করাই তার সাধনা। সুফিবাদ মূলত ইসলামী আধ্যাত্মবাদ। তবে এর সূচনা আরব থেকে নয় বরং মধ্য এশিয়ায়। অনেকে জালালুদ্দিন রুমিকেই সুফিবাদের প্রবর্তক বলে মনে করলেও তার অনেক আগে থেকেই স্রষ্টার নৈকট্য লাভের সাধনা করেছেন বহু সাধক। সুফিবাদে রেখেছেন তাদের ধারণা। তাদের কেউ কেউ আজ বিস্মৃত প্রায়। কারও তত্ত্ব ছড়িয়ে আছে বিক্ষিপ্ত আকারে। বিস্মৃতপ্রায় সুফিদের একজন পারস্যের আবুল খায়ের।
আধ্যাত্মিক
মার্গের এই সাধকের জন্ম খোরাসানের উত্তরাঞ্চলে, ৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে। তার কাজগুলো বহুদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর গবেষকদের ঐকান্তিক চেষ্টায় আবিষ্কৃত হয়। Secrets of monotheism in positions of
Sheikh Abu Said Abu al-Khair
এবং Expressions and words of Abu Said Abu
al-Khair নামে দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় এবং আবুল খায়েরের ‘রুবাইয়াৎ’ বা তার সম্পর্কিত প্রায় সব লেখার উৎস হিসেবে এ দুটি গ্রন্থই ব্যবহূত হয়।
অনেক
গবেষক বিশ্বাস করতেন আবুল খায়েরের আরো একটি লেখা রয়েছে, যেখানে তিনি স্রষ্টার নৈকট্য লাভের পর্যায় বা নানা ধাপ সম্পর্কে বলেছেন। পরবর্তী সময় প্রফেসর শাফী কাদকানির চেষ্টায় আবুল খায়েরের সেই লেখাটি প্রকাশিত হয়।
কাদকানি
একজন নিষ্ঠাবান গবেষক। বহুদিন ধরে তিনি পারস্যের আধ্যাত্মিক সাধকদের সম্পর্কে গবেষণা করে আসছেন। পুরনো পাণ্ডলিপি নিয়ে গবেষণা করে নতুন করে লেখার ক্ষেত্রেও তিনি সিদ্ধহস্ত। আবুল খায়েরের ‘আধ্যাত্মিকতার ধাপ’ সম্পর্কিত এ পাণ্ডলিপিটিও তিনি চমত্কারভাবে পুনর্লিখন করেছেন এবং তিনিই এই সম্ভাবনা দেখেছিলেন যে এই পাণ্ডলিপির আরেকটি ‘সংস্করণ’ থাকাটা সম্ভব।
কাদকানির
এ ভাবনার কারণ তিনি দেখেছিলেন যে পারস্যের আরেক বিখ্যাত সুফি, কবি ফরিদ উদ্দিন আত্তার তার ‘মানতিক-উত-তায়ের’ গ্রন্থে আবুল খায়ের সম্পর্কে যেসব গল্প বলেছেন, সেই সম্পর্কিত কোনো কথা আবুল খায়েরের উপরোক্ত দুটি বইয়ের কোথাও নেই। ফলে কাদকানি তার খোঁজ অব্যাহত রাখেন।
‘দুশবানেহ ৫৫৫’ নামক একটি সংকলন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড. ইরাজ আফসার, আবুল খায়েরের ‘আধ্যাত্মিকতার ধাপ’ সম্পর্কেও কিছু কথা বলেন। প্রথমত এই সংকলন সম্পর্কে আফসার বলেন, ‘তাজিকিস্তানের
লাইব্রেরি অব একাডেমি অব সায়েন্সে রক্ষিত ৫৫৫ নম্বরধারী একটি সংকলন, পারস্যের সাহিত্যে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে, কেননা সেখানে হাফিজের কিছু সনেট রয়েছে।’ এই সংকলনেরই মার্জিনে আবুল খায়েরের কিছু লেখা উদ্ধার করা হয়।
ড.
আফসার বলেন, ‘আধ্যাত্মিকতার
ধাপ সম্পর্কে বইটিতে আবুল খায়ের চল্লিশ ধাপের কথা বলেছেন। নিখোঁজ অংশটি প্রকৃতপক্ষে ভিন্ন ভঙ্গিতে লেখা, যা আলাদা একটি পাতায় লেখা হয়েছিল এবং এই সংকলনে যুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।’
আবুল
খায়েরের লেখাটির এই সংস্করণের বিশেষত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে কাদকানি বলেন,
১. এই লেখায় তার জীবনের সঙ্গে যুক্ত কিছু গল্প পাওয়া যায়, যা তার চিন্তাধারাও প্রকাশ করে।
২. তার নিজের লেখা সম্পর্কেও এখানে গল্পচ্ছলে কিছু কথা বলা হয়েছে, যা আবুল খায়েরের বিশেষত্ব আলাদাভাবে ভাস্বর করে তোলে।
৩. এখানে পদ্যের এমন বিশেষ ধরন নিয়ে নিরীক্ষা করা হয়েছে, যা পারস্যে প্রথম।
৪. এই লেখার মধ্য দিয়ে তার অন্যান্য কিছু লেখার ভাবার্থ বের করা সম্ভব হয়েছে।
৫. আবুল খায়ের যেসব অঞ্চল ভ্রমণ করেছিলেন, তার ভৌগোলিক ইতিহাস উদ্ধার করা যায়।
৬. এমন অনেক শব্দ, পরিভাষা তিনি ব্যবহার করেছেন, যা বর্তমানে অভিধানে দুর্লভ।
৭. গভীর অর্থ ধারণকারী কিছু শব্দ তিনি ব্যবহার করেছেন, যা লেখার বিষয়ের গুরুত্ব চমত্কারভাবে প্রতিফলিত করে। এসব শব্দ অন্য কেউ ব্যবহার করেনি।
৮. আরবি শব্দবন্ধ এবং বাগধারার চমত্কার ব্যবহার, যা আবুল খায়েরের অন্য লেখায়ও অনুপস্থিত।
এছাড়াও
যেসব গল্প এই সংস্করণে পাওয়া যায় তার বিস্তারিত বর্ণনা, এমনকি আখ্যানভাগ পর্যন্ত ভিন্ন। কিন্তু রচনা কৌশল একই। এই রচনা কৌশলের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
আধ্যাত্মিকতার
মাধ্যমে স্রষ্টার নৈকট্য অর্জন সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন সাধক ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির কথা বলেছেন। আবার একাধিক সাধকের পদ্ধতি এক হলেও তাদের লেখার ধরনে পার্থক্য ছিল। নিজেদের তত্ত্ব অন্যের থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যে রাখতে তারা লেখার নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করেছিলেন। এর মধ্যেই একটি কৌশলের নাম ‘মাকাম’ (Maqamah)।
হিন্দি
কিংবা উর্দু ভাষার সঙ্গে যাদের পরিচয় আছে তারা ‘মাকাম’ শব্দের সঙ্গে পরিচিত। ব্যবহারিকভাবে ‘স্তর’, ‘পর্যায়’
বা ‘ধাপ’ অর্থে শব্দটি ব্যবহূত হয়। কিন্তু আরবি সাহিত্যে ‘মাকাম’ আসলে লেখার একটি বিশেষ কৌশল। একটা সময়ে দেখা গেল সব কবি একই ধারায় তাদের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তখন নিজের কবিতাকে কী করে ভিন্ন ধারায় নেয়া যায়, সে চেষ্টা করছিলেন অনেকেই। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকে বদিউজ্জামান হামদানি একটি নতুন ধারা সামনে আনেন, যা প্রথমে আরবে এবং পরে পারস্যে জনপ্রিয় হয়। এটিই ‘মাকাম’ নামে পরিচিত।
এই
ধারার রচনা পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রফেসর মালেকো সোহারা বাহর বলেন, “চতুর্থ
শতকে সাহিত্যের প্রচারের কারণে বইয়ের সংখ্যা, লেখার পদ্ধতির পাশাপাশি খলিফা কিংবা শাসকের দরবারে লেখক এবং কথকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এদের মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতা ছিল এবং এই সময়ে এসে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়া শুরু করে, যা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এছাড়াও এ লেখকরা লেখায় উত্তম শব্দ, উত্তম অর্থ আনার জন্য নামি কবিদের ব্যবহূত শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করতেন। নতুন এ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে পুরনো অভ্যাস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের লেখার ধরন তৈরি হয়, যা মুভাজানা, মুজদাভাজে দেখা যায়। এসব কিছুর ফলাফল হিসেবে এক সময় ‘মাকাম’ হাজির হয়।
যেমনটা
উল্লেখ করেছি, ‘মাকাম’
বলতে একটা স্তর বা ধাপ নির্দিষ্ট স্থান বোঝানো হয়। ‘মাকাম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ সম্পর্কে ড. সোহগি জৈফ বলেন, ‘ইসলামী
যুগের পূর্বে কবিতায় এ শব্দটি (ক) উপজাতি শ্রেণীর সমাবেশ বা (খ) জামাত বা সমিতি অর্থে ব্যবহূত হতো। কিন্তু ইসলামিক যুগে এই শব্দ দিয়ে এমন একটি স্থান বা কক্ষকে বোঝানো হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি খলিফার সামনে দাঁড়িয়ে ধর্মোপদেশ বর্ণনা করতেন।’ একই সুরে ড. আবুমলাহম বলেন, ‘আভিধানিকভাবে
একে একটি ঘর, সমবেত জনতা এবং জনতার উদ্দেশে বর্ণিত ধর্মোপদেশের সমষ্টি প্রকাশ করে।’
মূলত
আবু সাঈদ আবুল খায়ের তার ‘আধ্যাত্মিকতার ধাপ’ সম্পর্কে
লেখাটি এমন পদ্ধতিতে লিখেছিলেন, যা পড়লে মনে হবে তিনি পাঠক বা বলা ভালো শ্রোতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তার কথাগুলো বলে যাচ্ছেন। এটিই আবুল খায়েরের এই লেখার অনন্য বৈশিষ্ট্য। একদিকে এই সংস্করণ আবিষ্কার হওয়ার মধ্য দিয়ে আবুল খায়েরের ‘আধ্যাত্মিকতা’ সম্পর্কে যেমন গবেষকরা ধারণা পান, তেমনি ধারণা পাওয়া যায় সাহিত্য সম্পর্কে তার নানা নিরীক্ষার।
এই
লেখায় আবুল খায়ের আধ্যাত্মিকতার চল্লিশটি ধাপের কথা বলেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এলিফ শাফাকের ‘ফরটি রুলস অব লাভ’ জনপ্রিয় হয়েছে। জালালুদ্দিন রুমি ও শামস তাবরিজের মধ্যকার কথোপকথন এবং সুফিবাদের নানা বিষয় নিয়ে টার্কিশ-আমেরিকান লেখিকার এই উপন্যাসে উল্লেখিত চল্লিশ নিয়মের সঙ্গে আগ্রহী পাঠক আবুল খায়েরের চল্লিশ ধাপের মিল-অমিল খুঁজতে পারেন।
ধাপ
সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবুল খায়ের বলেছেন, আধ্যাত্মিকতা বা স্রষ্টার নৈকট্য লাভের প্রথম ধাপ ‘সদিচ্ছা’। অর্থাৎ একজন অধ্যাত্মবাদিকে সব সময় সদিচ্ছা ধারণ করতে হবে। ইসলামে ‘নিয়ত’ বিষয়টি এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যাবতীয়
কর্মফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ আবুল খায়ের তাই হয়তো একেই প্রথমে রেখেছেন। এখান থেকেই ইসলামের প্রতি তার জ্ঞান ও আনুগত্য বোঝা যায়।
দ্বিতীয় ধাপ, অনুশোচনা। অর্থাৎ মোক্ষ লাভ করতে হলে কৃত ভুল কর্মের জন্য অনুশোচনা করতে হবে। তৃতীয় ধাপ ‘অনুতাপ’। এই ধাপ পেরিয়ে নিষ্ঠাবান হতে হয়, যা চতুর্থ ধাপ। নিষ্ঠা না থাকলে সাধনা করা সম্ভব নয়। পঞ্চম ধাপ ‘চেষ্টা’ এবং চেষ্টা চালিয়ে গিয়ে এক সময় সাধক ‘ধ্যান’ করতে সক্ষম হবে, যা ষষ্ঠ ধাপ। ধ্যানের জন্য প্রয়োজন ‘ধৈর্য’, যা সপ্তম ধাপ। যদি কেউ ধৈর্যধারণে সক্ষম হয়, সে মনে রাখতে পারবে অনেক কিছু। ‘মনে রাখা’ তাই অষ্টম ধাপ। এই ধাপ পেরিয়ে নবম ধাপে আসে ‘সন্তুষ্টি’। অর্থাৎ এই ধাপে পৌঁছলে স্রষ্টা তার বান্দাকে যে অবস্থায় রাখুন না কেন, সে সন্তুষ্ট থাকে। দশম ধাপ, ‘নিজের বিরুদ্ধে অবস্থান’। আসলে নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে অবস্থান। চাওয়া-পাওয়াকে নিবৃত্ত করা।
একাদশ
স্তর ‘অনুমতি’, দ্বাদশ
হলো ‘সমর্পণ’। সাধককে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে। সে তখনই সমর্পণ করতে পারবে নিজেকে, যখন সে ঈশ্বরে পুরোপুরি ‘বিশ্বাস’ স্থাপন করতে পারবে। আর তার মধ্যে থাকতে হবে ‘করুণা’। এই চৌদ্দ স্তর পার করার পর ‘উপাসনা বা ইবাদত’-এর স্থান। অর্থাৎ আবুল খায়েরের মতে, ইবাদত করতে হলে আরো অনেক স্তর পার করে যোগ্যতা অর্জন করে আসতে হয়। পরবর্তী স্তর ‘নিবৃত্তি’। এই স্তরে এসে একজন সাধক খাদ্য, বস্ত্র প্রভৃতি থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করে ফেলতে সক্ষমতা অর্জন করেন। সপ্তদশ স্তর ‘অকপট হওয়া’ কেননা কপটতার মধ্যে মোক্ষ নেই। অষ্টাদশ ধাপ ‘সত্য’, অর্থাৎ
তাদের জিহ্বা কেবল সত্য উচ্চারণ করবে। মনের মধ্যে ভয় না থাকলে তা সম্ভব নয়, তাই ‘ভয়’ (খোদার
প্রতি) উনিশতম স্তর ও বিশতম স্তর ‘আশা’।
একবিংশ
স্তর ‘নশ্বরতা’। সবকিছুই নশ্বর, এই বোধ থেকে নিজেকে শূন্য করে নিজের কাছে পরিচিত হতে হবে এবং এই স্তর পার হলেই দ্বাবিংশ স্তরে ‘অবিনশ্বর’ হওয়া সম্ভব। আসলে অবিনশ্বর কেবল জ্ঞান, তাই ‘নির্দিষ্ট জ্ঞান’ লাভ করতে হবে। এই জ্ঞান হতে হবে ‘ন্যায়বোধের জ্ঞান’। কোনটি ধর্ম কোনটি অধর্ম তা বুঝতে হবে। তাহলে পঁচিশতম স্তর ‘ঈশ্বরের জ্ঞান’ লাভ করা যাবে। সেখান থেকে ‘প্রয়াস’, ‘দয়া’,
‘প্রেম’ পার করলে ‘ভাবাবেশ’ লাভ করা যায়। আর ত্রিশতম স্তর ‘নৈকট্য’।
কিন্তু
নৈকট্য লাভেই শেষ নয়, কেননা তা ধরে রাখতে হয়। তাই এর পর আসে ‘চিন্তার অনুশীলন’, যেখানে
সাধক কেবল ঈশ্বরের নাম জপ করবে এবং এর মধ্যে দিয়ে তাদের মাঝে ‘সংযোগ’ স্থাপিত হবে। তবেই সাধক ‘আবিষ্কার’ করবেন যে তার ও ঈশ্বরের মাঝে কোনো আড়াল নেই। তখন সাধক সেবকে পরিণত হয়ে ঈশ্বরের ‘সেবা’য় নিয়োজিত হয়। বিষয়গুলোর বস্তুগত অবস্থান নেই, সবই ‘বিমূর্ত’। এই বোধের মধ্য দিয়ে এমন এক ‘একাকিত্ব’ অর্জন করবেন, যা তাদের ঈশ্বরের আরো কাছে, পরবর্তী স্তর ‘বিস্তার’-এ নিয়ে যাবে। সেখান থেকেই স্রষ্টার অপার মহিমা, সৃষ্টি, লয়, কেয়ামত, হাশর সবকিছু সম্পর্কে বুঝতে পারবে সাধক। অর্থাৎ, ‘অনুভব’
করতে পারবে। এই ধাপ পেরিয়ে ‘সম্পূর্ণতা’ এবং তার পরই চল্লিশতম ধাপ ‘অধ্যাত্মবোধ’। এই পর্যায়ে একজন সাধক ঈশ্বরের মহিমার নিগূঢ় ভাব বুঝতে পারেন।
এভাবেই
আবুল খায়ের এক নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতার এই ধাপগুলো তুলে ধরেন এবং বলেন এ ধাপগুলো এক একজন নবী ক্রমান্বয়ে অতিক্রম করেছেন, যে সিলসিলা আদম (আ.) থেকে
শুরু হয়ে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এ
শেষ হয়। আবুল খায়েরও তার এই লেখাটি মহানবী (সা.)-এর
প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করেই শেষ করেন।
মাহমুদুর
রহমান:
লেখক





